
শেষ আপডেট: 28 August 2019 18:30
জোহানেস জানিয়েছেন, এই খুলিটির খোঁজ মেলার আগে, এ যাবৎ ইথিওপিয়ায় অস্ট্রালোপিথেকাস অ্যানামেনসিসের খুলির কিছু ভাঙাচোরা অংশই উদ্ধার হয়েছিল। হয় চোয়ালের ভাঙা হাড় বা দাঁতের কিছু অংশ। সেখান থেকে এই প্রজাতি সম্পর্কে বিশদে জানা সম্ভব হয়নি। পরিপূর্ণ খুলিটি অ্যানাটমি বিশ্লেষণ করে অস্ট্রালোপিথেকাসদের অনেক অজানা রহস্য সামনে আসতে চলেছে।
ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবা থেকে ৩৪০ মাইল উত্তরপূর্বে এই খুলির খোঁজ পান প্রত্নতাত্ত্বিকরা। খুলির সামনের থেকে পিছনের দিক পর্যন্ত ৮ ইঞ্চি (২০ সেন্টিমিটার) এবং প্রস্থে ৪.৫ ইঞ্চি। প্রাথমিক অ্যানাটমিকাল রিসার্চ বলছে, অস্ট্রালোপিথেকাসদের উচ্চতা ছিল ৫ ফুট। তবে এই খুলি যার, তার উচ্চতা ঠিক কতটা ছিল সেটা এখনও জানা যায়নি।
এর আগে, দক্ষিণ-পশ্চিম আফ্রিকার জনবহুল শহর জোহানেসবার্গ থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে স্টার্কফোনটেইন গুহায় প্রথম খোঁজ মিলেছিল ‘লিটল ফুট’-এর। তখন তা ছিল কয়েকটি হাড়ের সমষ্টিমাত্র। পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছিল, ওই হাড় কয়েক লক্ষ বছরের পুরনো আদিম মানব প্রজাতি অস্ট্রালোপিথেকাসের। ১৯৯৫-এ সেই হাড়গুলির নাম দেওয়া হয় ‘লিটল ফুট’। পরে জানা যায়, সেই হাড়ের সমষ্টি ছিল একটি ছোট্ট মেয়ের।
[caption id="attachment_137047" align="aligncenter" width="546"]
‘লুসি’র করোটি হাতে প্যালিওঅ্যানথ্রোপোলজিস্ট ডোনাল্ড সি জোহানসন[/caption]
আদিম জনজাতি থেকে আধুনিক মানুষের বিবর্তনের পথে অনেক অন্তর্বর্তীকালীন প্রজাতির উদ্ভব হয়েছিল। তাদের মধ্যে একটি অস্ট্রালোপিথেকাস। দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম এই প্রজাতির খোঁজ মিলেছিল। অস্ট্রালোপিথেকাস প্রজাতির প্রথম জীবাশ্ম ছিল ‘লুসি’, একটি নারী-কঙ্কাল। ইথিওপিয়ায় ওই জীবাশ্ম আবিষ্কারের পরেই হইহই পড়ে গিয়েছিল গোটা দেশে। মনে করা হত, ‘লুসি’ই ছিল আদিম মানব জাতির প্রথম নিদর্শন। একটি মানব কঙ্কাল কীভাবে গোটা দেশের গর্বের কারণ হয়ে উঠতে পারে তার নিদর্শন ছিল ‘লুসি’। পরবর্তীকালে খোঁজ মেলে ‘লিটল ফুট’-এর। তবে ‘লুসি’-রও প্রায় পাঁচ লক্ষ বছর আগে ‘লিটল ফুট’ প্রজাতিরা ছিল বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।
এ বার খোঁজ মিলল অস্ট্রালোপিথেকাস অ্যাফারেনসিস প্রজাতির নর-করোটির। প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, এই খোঁজ বিলুপ্ত আদিম মানব জাতির জীবাশ্ম উদ্ধারের চেষ্টায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।