Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
ময়মনসিংহে দীপুচন্দ্র দাসকে হত্যার প্রধান আসামিকে ১ বছরের অন্তর্বর্তী জামিন, কাঠগড়ায় বিচারপতিশয়তান বা কালু বলে আর ডাকা যাবে না! স্কুলের খাতায় পড়ুয়াদের নতুন পরিচয় দিচ্ছে রাজস্থান সরকার‘পাশে মোল্লা আছে, সাবধান!’ এবার শুভেন্দুর বিরুদ্ধে কমিশনে নালিশ তৃণমূলেরWest Bengal Election 2026: বাম অফিসে গেরুয়া পতাকা! মানিকচকে চরম উত্তেজনা, থানায় বিক্ষোভ বামেদেরপয়লা বৈশাখে শুটিং শুরু, যিশুর কামব্যাক—‘বহুরূপী ২’ কি ভাঙবে সব রেকর্ড?‘কেকেআরের পাওয়ার কোচ রাসেল ২৫ কোটির গ্রিনের থেকে ভাল!’ আক্রমণে টিম ইন্ডিয়ার প্রাক্তন তারকাবিহারে আজ থেকে বিজেপি শাসন, রাজনীতির যে‌ অঙ্কে পদ্মের মুখ্যমন্ত্রী আসলে নীতীশেরই প্রথম পছন্দঅশোক মিত্তলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইডি, ক'দিন আগেই রাজ্যসভায় রাঘব চাড্ডার পদ পেয়েছেন এই আপ সাংসদ West Bengal Election 2026: প্রথম দফায় ২,৪০৭ কোম্পানি বাহিনী! কোন জেলায় কত ফোর্স?IPL 2026: ভাগ্যিস আইপিএলে অবনমন নেই! নয়তো এতক্ষণে রেলিগেশন ঠেকানোর প্রস্তুতি নিত কেকেআর

পৃথিবীর প্রথম করোনার টিকা 'স্পুটনিক ভি', আমেরিকাকে সোভিয়েত স্যাটেলাইটের সাফল্য মনে করাল রাশিয়া

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্বে প্রথম করোনা ভ্যাকসিন আবিষ্কারের বড় দাবি করেছে রাশিয়া। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আজ, মঙ্গলবার ভিডিও কনফারেন্সে ঘোষণা করেছেন, টিকা তৈরি হয়ে গেছে। মানুষের শরীরে ট্রায়াল ও পর্যবেক্ষণের যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। সেখা

পৃথিবীর প্রথম করোনার টিকা 'স্পুটনিক ভি', আমেরিকাকে সোভিয়েত স্যাটেলাইটের সাফল্য মনে করাল রাশিয়া

শেষ আপডেট: 10 August 2020 18:30

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্বে প্রথম করোনা ভ্যাকসিন আবিষ্কারের বড় দাবি করেছে রাশিয়া। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আজ, মঙ্গলবার ভিডিও কনফারেন্সে ঘোষণা করেছেন, টিকা তৈরি হয়ে গেছে। মানুষের শরীরে ট্রায়াল ও পর্যবেক্ষণের যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। সেখানেও সাফল্য মিলেছে। প্রেসিডেন্ট আশ্বস্ত করে বলেছেন, এই টিকা মানুষের শরীরে পুরোপুরি নিরাপদ এবং কার্যকরী। সুরক্ষার ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে তাঁর মেয়ের শরীরেও এই টিকা ইনজেক্ট করা হয়েছে। বিশ্বের ১৬০ রকম ভ্যাকসিন ক্যানডিডেট তৈরি হয়েছে। তার মধ্যে এখনও অবধি ৬টি মানুষের শরীরে প্রয়োগ করা হয়েছে। তৃতীয় স্তরের ভ্যাকসিন ট্রায়ালে রয়েছে ব্রিটেনের অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রজেনেকা, আমেরিকার মোডার্না, চিনের সিনোভ্যাক। এদের মধ্যে মোডার্না ও অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিনে আশার আলো দেখেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)। তবে রাশিয়ার তৈরি ভ্যাকসিন নিয়ে এখনও নানা মহলে তর্ক-বিতর্ক চলছে। কারণ ভ্যাকসিনের প্রথম স্তরের ট্রায়ালের পরেই রাশিয়া দাবি করেছে টিকা সার্বিকভাবে প্রয়োগের জন্য তৈরি। যেখানে অক্সফোর্ড, মোডার্না এখনও তৃতীয় স্তরের ট্রায়ালেই রয়েছে। এখন দেখে নেওয়া যাক, কী ধরনের ভ্যাকসিন বানিয়েছে রাশিয়া, ট্রায়াল হয়েছে কীভাবে।

আরও পড়ুন: করোনা টিকা আবিষ্কার হলেও, রাশিয়ায় গণ টিকাকরণ জানুয়ারির আগে নয়, জানালেন পুতিন ও মুরাশকো

অক্সফোর্ডের মতোই ভেক্টর ভ্যাকসিন তৈরি করেছে পুতিনের দেশ

রাশিয়ায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তত্ত্বাবধানে করোনার ভ্যাকসিন তৈরি করছে গ্যামেলিয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব এপিডেমোলজি অ্যান্ড মাইক্রোবায়োলজি। সংস্থার ডিরেক্টর অলেক্সান্ডার গিন্টসবার্গ বলেছেন, সরাসরি করোনার স্পাইক প্রোটিন ব্যবহার না করে অন্য ভাইরাসের সঙ্গে আরএনএ প্রোটিন মিলিয়ে ভ্যাকসিন ক্যানডিডেট ডিজাইন করা হয়েছে। সর্দি-কাশির জন্য দায়ী যে অ্যাডেনোভাইরাস, তাকেই ভেক্টর হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। এই অ্যাডেনোভাইরাস মামুলি সর্দি-জ্বর ছড়ায়, প্রাণঘাতী সংক্রমণ ছড়াতে পারে না। অ্যাডেনোভাইরাসকে নিষ্ক্রিয় করে তার মধ্যে করোনার স্পাইক (S) প্রোটিন মিশিয়ে ভ্যাকসিন তৈরি হয়েছে। ভাইরোলজিস্টরা জানিয়েছেন, করোনার যে আরএনএ প্রোটিন স্ক্রিনিং করা হয়েছে তাকে আগে নিষ্ক্রিয় করে নেওয়া হয়েছে বিশেষ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে, যাতে এই ভাইরাল স্ট্রেন শরীরে ঢুকলে প্রতিলিপি তৈরি করে সংখ্যায় না বাড়তে পারে। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিও অ্যাডেনোভাইরাসকে ভেক্টর হিসেবে ব্যবহার করে ভ্যাকসিন তৈরি করেছে। সেই একই পদ্ধতিতে টিকা তৈরি করেছে রাশিয়ার গ্যামেলিয়া ইনস্টিটিউটও। ভাইরোলজিস্টদের দাবি, সেফটি ট্রায়ালে এই টিকার সাফল্য দেখেই মানুষের শরীরে ইনজেক্ট করার পরিকল্পনা করা হয়। দেখা গেছে, টিকা শরীরে ঢুকে কোনওরকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ঘটায়নি। তার মানেই, টিকা কাজ করা শুরু করে দিয়েছে। টিকার প্রভাবে শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হচ্ছে বলেও দাবি করেছে গ্যামেলিয়া। [caption id="attachment_249214" align="alignnone" width="653"] ১৫ জুলাই। মস্কোর সেনা হাসপাতালে টিকা দিচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা[/caption]

স্পুটনিক মুহূর্ত

১৯৫৭ সালে স্পুটনিক স্যাটেলাইটের উৎক্ষেপণের সময় তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নে যে ঐতিহাসিক মুহূর্ত তৈরি হয়েছিল, সেই মুহূর্ত আরও একবার ফিরে এসেছে রাশিয়ায়। এই ভ্যাকসিনের তাই নাম দেওয়া হয়েছে  ‘স্পুটনিক ভি’ (Sputnik V) । ১৯৫৭-তে মহাকাশ জয়ের লক্ষ্যে চরম প্রতিযোগিতা ছিল রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। সেই লড়াইয়ে এগিয়ে গিয়েছিল রাশিয়া। পৃথিবীর প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ ‘স্পুটনিক-১’-এর সাফল্য রাশিয়ার মহাকাশবিজ্ঞানের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। এবারও ভ্যাকসিন তৈরির প্রতিযোগিতায় সেই আমেরিকাকে পিছনে ফেলেই এগিয়ে গেল রাশিয়া। অনেকেই মনে করেছেন, স্পটনিক ভি নামকরণের মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকেও বার্তা দিতে চেয়েছে পুতিনের দেশ। রাশিয়ার ভ্যাকসিন নিয়ে সবচেয়ে বেশি সমালোচনা করেছে আমেরিকাই। মার্কিন এপিডেমোলজিস্ট ও হোয়াইট হাউসের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা অ্যান্থনি ফৌজি বলেছিলেন, "রাশিয়া ও চিন ভ্যাকসিনের পরীক্ষাই করছে বলে আমি মনে করি। এত কম সময় মাত্র একটাই ট্রায়ালে টিকা নিয়ে আসা সম্ভব নয়। " রাশিয়া ও চিনের ভ্যাকসিন বাজারে এলেও তার প্রয়োগ করবে না বলেই সাফ জানিয়ে দেয় আমেরিকা। মস্কোর সেচেনভ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী ভাদিম তারাসভের বক্তব্য, গ্যামেলিয়া একদিনে ভ্যাকসিন তৈরি করে ফেলেনি। ভ্যাকসিন নিয়ে তাদের দীর্ঘ গবেষণা রয়েছে। এই গবেষণার মজবুত ভিত রয়েছে। রাশিয়ার ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের প্রধান কিরিল ডিমিত্রেভ বলেছেন, আগামীকাল থেকে টিকার তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল শুরু হবে। প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালের পরেই টিকার রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে। ভ্যাকসিন ক্যানডিডেট এখন যে পর্যায়ে রয়েছে তাতে মানুষের শরীরে প্রয়োগ করা যাবে। ঝুঁকির কোনও ব্যাপার নেই। কারণ এই টিকাতে যে ভাইরাল পার্টিকল ব্যবহার করা হয়েছে তাদের বিভাজিত হয়ে প্রতিলিপি তৈরির ক্ষমতা নেই। বরং এই টিকার ডোজে শরীরের বি-কোষ সক্রিয় করে রক্তরসে অ্যান্টিবডি তৈরি করবে, পাশাপাশি টি-কোষ সক্রিয করে শক্তিশালী ইমিউন সিস্টেম গড়ে তুলবে। এদিন রাশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রী বলেছেন, “রাশিয়ার নাগরিকদের টিকা দেওয়ার প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে শুরু হবে। তবে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে তাঁদেরই যাঁরা সরাসরি কোভিড আক্রান্তদের সংস্পর্শে এসেছেন। অর্থাৎ স্বাস্থ্য কর্মীদের আগে টিকা দেওয়া হবে। তার পর তা দেওয়া হবে শিক্ষকদের। কারণ তাঁরা শিশুদের সংস্পর্শে থাকেন।”

টিকা নিয়ে তর্ক

১৮ জুন থেকে টিকার ট্রায়াল শুরু করে গ্যামেলিয়া। ৭৬ জন স্বেচ্ছাসেবককে দুটি দলে ভাগ করে টিকা দেওয়া হয়। প্রথম ৩৮ জনকে লিকুইন ভ্যাকসিন ইনজেক্ট করা হয়, বাকি ৩৮ জনকে  টিকার পাওডার দেওয়া হয়।  রাশিয়ার ক্লিনিকাল ট্রায়াল অর্গানাইজেশনের ডিরেক্টর ভেতলানা জ়্যাভিডোভা বলেছেন, একসঙ্গে প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল করা হয়েছে ভ্যাকসিনের। দাবি, দুই পর্যায়তেই সাফল্য মিলেছে। স্বেচ্ছাসেবকদের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হতে শুরু করেছে। তবে রাশিয়ার দাবিতে বরাবরই আপত্তি জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।  তাদের দাবি, রাশিয়া কেবলমাত্র একটাই পর্যায়ের ট্রায়াল করেছে। একশোর কম জনকে ভ্যাকসিন দিয়ে তার কার্যকারিতা প্রমাণ করা যায় না। দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ে কয়েক হাজার জনকে টিকা দিয়ে তার প্রভাব লক্ষ্য করেই সিদ্ধান্তে আসা যায়। হু-র আরও দাবি, টিকা কীভাবে তৈরি হয়েছে সেই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি সবিস্তারে জানায়নি রাশিয়া। পাশাপাশি, ল্যাবরেটরিতে প্রিক্লিনিকাল ট্রায়ালের ফলাফল এবং প্রথম পর্যায়ের টিকার ট্রায়ালের রেজাল্টও সামনে আনা হয়নি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মুখপাত্র ক্রিশ্চিয়ান লিন্ডমেইয়ার জানিয়েছে, করোনা টিকার প্রতিটি পর্যায়ের ট্রায়ালের গুরুত্ব রয়েছে। প্রথম দুই স্তর শুধুমাত্র মানুষের শরীরে টিকার সুরক্ষার বিষয়টা নিশ্চিত করে, তৃতীয় স্তরে দশ হাজারের বেশি জনকে টিকা দিয়ে দেখা হয় সার্বিকভাবে এর প্রয়োগ সম্ভব কিনা। এই স্তরে সব বয়সের মানুষের উপর টিকার ট্রায়াল হয়। তারপরেই টিকা বাজারে আনা যাবে কিনা সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রাশিয়া এতগুলো স্তর পার হয়নি এখনও, তার আগেই টিকা নিয়ে আসার ঘোষণা করে ফেলেছে।

```