দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিনা ভিডিও অ্যাপ টিকটক আমেরিকার মানুষজনের উপর নজরদারি চালিয়েছে। তথ্য চুরি করার চেষ্টা করেছে। ফের আমেরিকার কোম্পানির সঙ্গেই টিকটকের চুক্তি পছন্দ করছি না একেবারেই, ফের তোপ দাগলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। টিকটক ও তার স্বত্ত্বাধিকারী সংস্থা বাইটড্যান্সের সঙ্গে মার্কিন টেক জায়ান্ট ওরাকলের চুক্তি যে তিনি কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না সেটাই একবার স্পষ্ট করলেন ট্রাম্প।
বস্তুত, টিকটকের মালিকানা কেনার জন্য মাইক্রোসফটের প্রস্তাবই বাকি সংস্থাদের থেকে এগিয়ে ছিল। কিন্তু গত রবিবারই ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের রিপোর্টে জানা যায়, নিলামে পিছিয়ে গেছে সত্য নাদেল্লার সংস্থা মাইক্রোসফট। উল্টে ওরাকলের প্রস্তাব মনে ধরেছে বাইটড্যান্সের। তাই সরকারি অনুমোদন পেলে ওরাকলের সঙ্গেই চুক্তি সেরে ফেলতে চায় টিকটকের স্বত্ত্বাধিকারী এই সংস্থা।
হোয়াইট হাউস সূত্রে খবর, ওরাকলের সঙ্গে টিকটকের চুক্তি খুব একটা ভাল চোখে দেখেননি ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য, টিকটক যেখানে জাতীয় নিরাপত্তায় হস্তক্ষেপ করেছে সেখানে আমেরিকাতে তাদের এই চুক্তি মেনে নেওয়া যাচ্ছে না। ফের তারা সুযোগের অপব্যবহার করে মার্কিন সরকারের গোপন তথ্য চুরির চেষ্টা করবে না এই গ্যারান্টি কে দিতে পারে! ট্রাম্প জানিয়েছে, তিনি নিজে এই চুক্তির প্রতিটা বিষয় খুঁটিয়ে দেখবেন, তারপরেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
টিকটকের মালিক বাইটড্যান্সের সদর দফতর রয়েছে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায়। ট্রাম্প সোজাসাপটা বলেছেন, মার্কিন বাসিন্দাদের যাবতীয় গোপনীয় তথ্য, ব্যবসা, বাণিজ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সংক্রান্ত তথ্যে নজরদারি চালিয়েছে টিকটক। তাঁর দাবি, ব্যবহারকারীদের লোকেশন ডেটা, ব্রাউজিং ও সার্চ হিস্ট্রি সহ যা যা জেনে ফেলা সম্ভব, টিকটক ইতিমধ্যেই আমেরিকায় থাকা ব্যবহারকারীদের সেই সব তথ্য জেনে নিয়েছে। ব্যক্তিগত ও গোপন নথি তারা চিনের কমিউনিস্ট পার্টির হাতেও তুলে দিয়েছে। এমনকি আমেরিকায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকেও প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ ট্রাম্পের।
এতদিন ধরে আমেরিকায় ডিজিটাল স্পেস দখলের লড়াই চলছিল কয়েকটি মার্কিন টেক-জায়ান্টের মধ্যে। সেই দৌড়ে এগিয়েই ছিল সত্য নাদেল্লার মাইক্রোসফট। বাজারে এমন খবরও রটেছিল, যে মাইক্রোসফটকেই টিকটকের মালিকানা দিতে বেশি আগ্রহী ট্রাম্প। কারণ ডিজিটাল মার্কেটে অবৈধভাবে আধিপত্য ধরে রাখতে এখন মার্কিন কংগ্রেসের প্রশ্নের মুখে গুগল, অ্যাপল, ফেসবুক ও অ্যামাজন। রিচমন্ড ইউনিভার্সিটি স্কুল অব ল’-এর অধ্যাপক কার্ল টোবায়াস বলেছেন, চুক্তি মাফিক ওরাকলের দায়িত্ব হবে আমেরিকায় টিকটকের দেখভাল করা এবং ডেটাবেস সংরক্ষণ করে রাখা। ওরাকল টিকটক কীভাবে চালাবে সে ব্যাপারে বাইটড্যান্স হস্তক্ষেপ করবে না। কিন্তু এই চুক্তি আখেরে কতটা ফলপ্রসূ হবে সেটাই ভাবনার।