দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত বছর এরকমই সময়ে দাউদাউ করে জ্বলছিল ব্রাজিলের আমাজন রেনফরেস্ট। টানা কয়েক মাস ধরে অসংখ্য দাবানলে জ্বলছিল গোটা অরণ্য। গাছপালা, বন সম্পদ তো বটেই, লাখে লাখে প্রাণী ঝলসে মারা গেছিল। পৃথিবীর ফুসফুস বলে পরিচিত আমাজনের বিস্তীর্ণ অংশ ঝলসে গেছিল
বছর ঘুরতেই ফের একই চিত্র। আবারও নষ্ট হতে বসেছে পরিবেশের ভারসাম্য। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত বছরের থেকে আরও বেশি খারাপ হতে চলেছে এ বছরের পরিস্থিতি।
গত বছর প্রথম এই অগ্নিকাণ্ডের কথা সামনে এনেছিল ব্রাজিলের 'ন্যাশনাল স্পেস এজেন্সি'। এ বছরও তাদের প্রকাশ করা ছবিতেই ধরা পড়েছে দাবানল। এবং দেখা যাচ্ছে, গত বছরের চেয়ে ২৮ শতাংশ বেশি জ্বলছে আমাজন। শুধু ব্রাজিলেই ৬৮০৩টি অঞ্চল জ্বলছে আগুনে।
আশঙ্কা, এই আগুন আরও বাড়বে। হাতের বাইরে বেরিয়ে যেতে পারে পরিস্থিতি। গত বছরের পরেও এবার আবার কী করে এতটা আগুন ছড়াল, তা নিয়ে ধন্দে অনেকেই। চিরহরিৎ অরণ্য আমাজনে প্রতিবছর এত আগুন কী করে লাগছে, প্রশ্ন সেটাই।
আমাজন অরণ্যে জুলাই থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় প্রায় প্রতিবছরই কমবেশি দাবানল হয়। স্থানীয় বাসিন্দারাও জমি পুড়িয়ে চাষবাস করেন। তার জেরেও অনেক সময় আগুন লাগে। কিন্তু গত বছর তা মাত্রা ছাড়িয়ে গেছিল। অভিযোগ উঠেছিল, মুনাফার জন্য কাঠব্যবসায়ীদের অবাধ ছাড় দেওয়ায় এই কাণ্ড ঘটেছে। জমিমাফিয়া ও খনিমাফিয়াদেরও বাড়বাড়ন্ত হয়েছে।
তবে গত বছরের অগ্নিকাণ্ডের পরে গত কয়েক মাস ধরেই ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট বলসোনারো প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। আন্তর্জাতিক চাপও তৈরি হয়েছিল। তার পরেও ফের জ্বলছে আমাজন। এর শেষ কোথায়, জানে না কেউ।