
শেষ আপডেট: 28 April 2019 18:30
“আমি যখন প্রথম তিমিটাকে দেখি সেটি উপকূলের কাছে সমুদ্রে একবার ভেসে উঠছিল, পরক্ষণেই ডুব দিচ্ছিল। তার গলায় পরানো বেল্টের মতো জিনিস থেকে যান্ত্রিক শব্দ বার হচ্ছিল। দেখেই আমার সন্দেহ হয়, সেটির পিছু নেওয়ার চেষ্টা করি,” বিজ্ঞানীদের জানিয়েছেন সেই মৎস্যজীবী জোর হেস্টেন। তিমি তাঁর নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার পরই তিনি খবর দেন নরওয়ের ফিশারি অ্যাসোসিয়েশনে। সেখানে থেকে খবর যায় উপকূলরক্ষিবাহিনী ও মৎস্যবিজ্ঞানীদের কাছে।
মেরিন বায়োলজিস্ট জর্জেন রি উইগ জানিয়েছেন, তিমিটাকে আরও দু’একবার দেখা গেছে। হঠাৎ করে দেখলে মনে হবে সেটা জলে ভেসে-ডুবে খেলা করছে। আসলে মোটেও তা নয়। এইভাবে চারদিকে সতর্ক নজর রাখছে সে। আর তার চারপাশের ঘটনা রেকর্ড করছে তার বেল্টে লাগানো ভিডিও ক্যামেরায়। উইগ জানিয়েছেন, বেল্টটি বিশেষ ভাবে তৈরি করেছেন নৌবাহিনীর অফিসাররা। তার প্রতিটি কোণায় লাগানো GoPro ক্যামেরা। আরও কিছু গোপন জিনিস রয়েছে, তবে সেটা এখনও অবধি জানা যায়নি।
সামুদ্রিক প্রাণীকে সেনা প্রশিক্ষণ দেওয়ার ঘটনা নতুন কিছু নয়। ১৯৬০ সালে ‘ডলফিন রিসার্চ প্রোগ্রাম’ শুরু করে মার্কিন নৌবাহিনী। প্রশিক্ষণ দেওয়া ডলফিনগুলোকে ছেড়ে দেওয়া হত ভিয়েতনাম, রাশিয়ার উপকূলে। সেখানকার নৌবাহিনীর হালহকিকত ধরা পড়তে তাদের সঙ্গে ফিট করা বিশেষ ভিডিও ক্যামেরায়। ২০১২ সালে একই ভাবে ডলফিনদের প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করে ইউক্রেনের নৌসেনারা। ২০১৪ সালে তেমনই একটি ডলফিন ধরা পড়ে রাশিয়ার নৌবাহিনীর হাতে।
মেরিন বায়োলজিস্ট উইগের কথায়, “আমার বিশ্বাস এই তিমিটিকেও ট্রেনিং দিচ্ছে রাশিয়ার নৌসেনারা। যদিও রাশিয়া এই বিষয়টা পুরোপুরি অস্বীকার করেছে।” তিনি জানিয়েছেন, ২০১৭ সালে রাশিয়ার 'মুরমানস্ক সি বায়োলজি রিসার্চ ইনস্টিটিউট' প্রথম বেলুগা তিমিদের নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা শুরু করে। সম্ভবত তারা সেই কাজে সফল হয়েছে। আপাতত একটি তিমিকে চিহ্নিত করা গেলেও আরও অনেক তিমিকেই পরবর্তীকালে এই কাজে নিযুক্ত করা হতে পারে বলেই তাঁর ধারণা।