দ্য ওয়াল ব্যুরো : দিল্লিতে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটানোর জন্য এসেছিল এক আইএস জঙ্গি। তার কাছে পৌঁছেও গিয়েছিল বিস্ফোরক। কিন্তু যে যন্ত্রটি দিয়ে বিস্ফোরণ ঘটাতে হয়, সেটি ছিল না। সেই বিস্ফোরক তাকে সরবরাহ করেছিল এক ভারতীয় গুপ্তচর। সেই গুপ্তচর নিজে জঙ্গি সেজে ঢুকে পড়েছিল আইএসের মধ্যে। তার জন্যই শেষ পর্যন্ত ধরা পড়েছে আফগান জঙ্গি। দিল্লিতে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটানোর ছকও হয়ে গিয়েছে বানচাল।
'ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস' সংবাদপত্রের এক এক্সক্লুসিভ রিপোর্টে জানা যায়, আইএস জঙ্গিদের মধ্যে ছদ্মবেশে ভারতের গুপ্তচররা ঢুকে পড়তে শুরু করেন কয়েক বছর আগে থেকে। তার সাংকেতিক নাম ছিল 'অপারেশন প্লান্ট' ।
দীর্ঘ দেড় বছর ধরে গোয়েন্দারা জঙ্গি দলে ঢুকে থাকার পরে দুবাইয়ের একটি গোপন সূত্র থেকে জানতে পারেন, দক্ষিণ এশিয়ার নানা দেশে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটানোর জন্য ১২ জঙ্গি পাকিস্তানে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। তাদের এক জনকে পাঠানো হয়েছিল দিল্লিতে। সে আফগানিস্তানের এক ধনী ব্যবসায়ীর ছেলে। বয়স ২৫-২৬।
দিল্লিতে এসে সে এক বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তি হয়। তারপর কিছুদিন ওই কলেজের হোস্টেলে ছিল। এই সময় আইএস সমর্থক সেজে তার সঙ্গে ভাব জমান এক গোয়েন্দা। আফগান জঙ্গি যাতে নিরিবিলিতে থাকতে পারে সেজন্য তাকে দিল্লি-ফরিদাবাদ হাইওয়ের ধারে এক বহুতলের একতলায় ভাড়া থাকারও ব্যবস্থা করে দেন।
সেই আত্মঘাতী জঙ্গি দিল্লি বিমানবন্দর, আনসল প্লাজা মল, সাউথ এক্সটেনশন মার্কেট ও অন্যান্য জনবহুল জায়গাগুলি ঘুরে দেখে কোথায় বিস্ফোরণ ঘটানো যায়। সেই সময় যাতে সে কোনভাবে নজরের বাইরে না চলে যায় সেজন্য তার ওপরে নজর রাখছিলেন বেশ কয়েকজন গোয়েন্দা।
যে গুপ্তচর আইএস সমর্থক সেজেছিলেন, তিনি জানতে পারেন ওই জঙ্গি এবার বিস্ফোরক জোগাড়ের চেষ্টা করছে। তখন তিনি নিজেই তার কাছে বিস্ফোরক পৌঁছে দেন। যদিও বিস্ফোরকের সঙ্গে ট্রিগার ছিল না। অর্থাৎ বিস্ফোরণ ঘটানো সম্ভব ছিল না।
তারপর একদিন বিস্ফোরকসহ সেই জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে ভারতীয় গোয়েন্দাদের পাশাপাশি জেরা করেন আমেরিকান গোয়েন্দারাও। এখন সে বন্দি আছে আফগানিস্তানে কোনও আমেরিকান ঘাঁটির মধ্যে। তার থেকে যে তথ্য পাওয়া গিয়েছে, তাতে আমেরিকার সেনাবাহিনীর বিশেষ সুবিধা হয়েছে বলে জানা যায়।