দ্য ওয়াল ব্যুরো : ভারতীয় নৌবাহিনীর প্রাক্তন কর্মী কুলভূষণ যাদব গত তিন বছর ধরে পাকিস্তানে বন্দি আছেন। এতদিন তাঁর সঙ্গে ভারতীয় কনস্যুলেটের কোনও কর্মীকে দেখা করতে দেয়নি পাকিস্তান। তিনি কোন জেলে বন্দি আছেন, তাও জানানো হয়নি। শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক আদালতের নির্দেশে কুলভূষণের সঙ্গে ভারত সরকারের প্রতিনিধিকে দেখা করতে দিতে রাজি হয়েছে পাকিস্তান। কিন্তু এক্ষেত্রে এমন একটি শর্ত দিয়েছে, যাতে রাজি নাও হতে পারে ভারত।
পাকিস্তান থেকে বলা হয়েছে, ভারতীয় কনস্যুলেটের কোনও কর্মী যখন কুলদীপের সঙ্গে দেখা করতে যাবেন, তখন তাদেরও একজন অফিসার উপস্থিত থাকবেন। অর্থাৎ ভারতের প্রতিনিধির সঙ্গে কুলভূষণের কী কথা হচ্ছে, সব তিনি শুনবেন। পাকিস্তানের এই শর্তে দিল্লির ঘোরতর আপত্তি আছে। এই শর্ত মেনে আদৌ ভারতের কেউ পাকিস্তানের সঙ্গে দেখা করতে যাবেন কিনা, তা নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে।
বৃহস্পতিবার একটি সূত্রে জানা যায়, পাকিস্তান শুক্রবার দুপুর সাড়ে তিনটে নাগাদ কুলভূষণের সঙ্গে ভারতের কোনও প্রতিনিধিকে দেখা করতে দেবে। দিল্লি থেকে অবশ্য বলা হয়েছিল, দেখা করার দিনক্ষণ স্থির হয়নি। পাকিস্তান শুধু জানিয়েছে, তারা আন্তর্জাতিক আদালতের নির্দেশ মেনে কুলভূষণের সঙ্গে ভারতীয় দূতাবাসের কোনও প্রতিনিধিকে দেখা করতে দেবে। পাকিস্তানের কথামতো ভারতের কেউ কুলভূষণের সঙ্গে দেখা করবেন কিনা, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে শীঘ্র।
বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রবীশ কুমার বলেছেন, আমরা পাকিস্তানের থেকে একটি প্রস্তাব পেয়েছি। তা মেনে নেওয়া হবে কিনা সে বিষয়ে চিন্তাভাবনা চলছে।
২০১৬ সালে কুলভূষণকে বন্দি করে পাকিস্তান। তাদের দাবি, কুলভূষণ ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা 'র'-এর কর্মী। তিনি নাশকতামূলক কাজকর্ম চালাতে বালুচিস্তানে ঢুকেছিলেন। সেখান থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদিকে ভারতের বক্তব্য, নৌবাহিনীর প্রাক্তন অফিসার কুলভূষণ ব্যবসার কাজে গিয়েছিলেন ইরানে। সেখান থেকে পাকিস্তানের গোয়েন্দারা তাঁকে অপহরণ করেছেন।
২০১৭ সালে পাকিস্তানের সেনা আদালতে কুলভূষণকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে আবেদন করে ভারত। গত ১৭ জুলাই আন্তর্জাতিক আদালত বলে, পাকিস্তান ওই মৃত্যুদণ্ডের ব্যাপারে আরও একবার ভেবে দেখুক। একইসঙ্গে বলা হয়, বন্দি কুলভূষণের সঙ্গে ভারতের কোনও প্রতিনিধিকে দেখা করতে না দিয়ে পাকিস্তান জেনিভা কনভেনশনে গৃহীত নীতি লঙ্ঘন করছে।