
শেষ আপডেট: 1 March 2025 20:08
হাতে ৪৮ ঘণ্টাও নেই। আগামী ৩ মার্চ থেকে শুরু হচ্ছে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা(higher secondary examination)। তারই মধ্যে পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রামের একাংশে আবার শুরু হয়েছে হালুম, হালুম গর্জন (Tiger in junglemahal)!
পরীক্ষার্থীদের কথা ভেবে কপালে চিন্তার ভাঁজ চওড়া হচ্ছে জঙ্গলমহলের প্রশাসনিক কর্তাদের। এ প্রসঙ্গে এক কর্তার সরস মন্তব্য, এ তো আর শুধু রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার নয়, বাঘিনি জিনাতের প্রেমিক বলে কথা!
সত্যিই তো তাই! বর্ষশেষে টানা ১০দিন জিনাতের লম্ফঝম্প দেখেছিল জঙ্গলমহল। শীতেও তিরতির ঘাম ঝরছিল বনকর্তাদের। ঘুমপাড়ানি গুলিতে জিনাতকে জব্দ করে খাঁচায় ভরে ওড়িশা ফেরত পাঠানো হয়েছিল।
তারপর থেকে এখনও পর্যন্ত বাঘিনি আর এ তল্লাট মুখো হয়নি ঠিকই, কিন্তু তার খোঁজে বাঘমামা অন্তত সাতবার (সাত পাকে বাঁধা পড়তে চায় হয়তো!) পুরুলিয়া এবং ঝাড়গ্রামের একাংশ ঘুরে গিয়েছে! একটিই বাঘ থুড়ি প্রেমিক, নাকি একাধিক, তা অবশ্য স্পষ্ট নয়।
গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধেয় পুরুলিয়ার বান্দোয়ানের মানবাজার-২ নং ব্লকের নেকড়ে গ্রামের জঙ্গলপথে বাইক চালিয়ে বাড়ি ফেরার সময় বাঘের মুখোমুখি পড়ে গিয়েছিলেন দিলীপ কুম্ভকার। ১৫ ফুট দূরে বাঘকে দেখে থেমে যান তিনি। বাঘটি অবশ্য কোনও দিকে না তাকিয়ে জঙ্গলে ঢুকে যায়।
পরে দিলীপের কথার সূত্র ধরে মানবাজার-২ নং ব্লকের নেকড়ে, বড়কদম-সহ কয়েকটি এলাকায় বাঘের পায়ের ছাপও দেখতে পান বনকর্মীরা। পরের দিন বাঘটির উপস্থিতি জানা গিয়েছিল রাইকা পাহাড়ে। বর্ষশেষে বেলপাহাড়ি ঘুরে ওই পাহাড়েই ঘাঁটি গেড়েছিল বাঘিনি জিনাত। পুরুলিয়ার ওই বাঘটি বেলপাহাড়িতে পৌঁছেছে নাকি এটি অন্য, তা স্পষ্ট নয়।
জানা যাচ্ছে, শুক্রবার রাতে ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ির কয়েকটি এলাকায় নতুন করে বাঘের পায়ের ছাপ দেখতে পাওয়া গিয়েছে। শুধু জঙ্গল নয়, বাঘের পায়ের ছাপ পাওয়া গিয়েছে জঙ্গল লাগোয়া চাষের জমিতেও। তারপর থেকেই নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে বাসিন্দাদের মধ্যে।
পরীক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখে জঙ্গলমহলের বন্যপ্রাণ প্রভাবিত এলাকায় বাড়তি উদ্যোগ নিচ্ছে জেলা প্রশাসন ও বন দফতর।
ঝাড়গ্রামের জেলাশাসক সুনীল আগরওয়াল বলেন, 'যে সব এলাকায় বন্যপ্রাণী রয়েছে সেখানে বন দফতরের সঙ্গে সমন্বয় রেখে বাড়তি নজরদারির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পরীক্ষার্থীরা যাতে সুষ্টভাবে পরীক্ষা কেন্দ্রে যাতায়াত করতে পারে সেজন্য পরীক্ষার সময়
নিয়মিত পেট্রোলিংও করা হবে।'
পুরুলিয়ার জেলাশাসক ডাঃ রজত নান্দা বলেন, "বন দফতর এবং পুলিশের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। যেখানে যেখানে বন্যপ্রাণীর মুভমেন্টের খবর থাকবে সেখানে সেখানে আমরা টিম রাখব, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও পরীক্ষার্থীদের কাউকে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া বা নিয়ে আসার প্রয়োজন পড়লে সেই ব্যবস্থাও করা হবে।"
তবে বাঘের 'অবস্থান' নিয়ে অদ্ভূত নীরবতা পালন করছেন বনকর্তারা। অফিসিয়ালি মন্তব্য করতে চাইছেন না তাঁরা। এক আধিকারিকের কথায়, "ওপর থেকে অর্ডার আছে। বাঘের অবস্থান নিয়ে মিডিয়াকে কিছু বলা বারণ আছে!"
গত মাসে মাধ্যমিক পরীক্ষার সময়ও জিনাত ও তার প্রেমিকের মোকাবিলায় একগুচ্ছ পদক্ষেপ নিয়েছিল প্রশাসন। নিয়মিত নজরদারির পাশাপাশি ঘন জঙ্গল লাগোয়া রাস্তার দুদিকে উত্তরবঙ্গের আদলে ‘এনার্জাইজড ফেন্সিং’ তথা বেড়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। উচ্চ মাধ্যমিকের ক্ষেত্রেও একই ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে মাধ্যমিক পরীক্ষার সময় জঙ্গল মহলে বাঘের দেখা মেলেনি। কিন্তু উচ্চ মাধ্যমিকের সময় যদি চলে আসে?
সব ধরনের আয়োজনের পরও একটা কিন্তু রয়েই যাচ্ছে! শিরায় ঠান্ডা স্রোত বইয়ে দেওয়ার জন্য হালুম গর্জনই যথেষ্ট নয় কী!