দ্য ওয়াল ব্যুরো : বিশেষ মর্যাদা হারানোর পরে এই প্রথমবার ভোট হল জম্মু-কাশ্মীরে। জেলা উন্নয়ন পরিষদের সেই ভোটে ২০ টি জেলার মধ্যে ন'টিতে জিতল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লার নেতৃত্বে গুপকার জোট। বিজেপি ভাল ফল করেছে জম্মুতে। বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক দলও ভাল ফল করেছে।
সংবিধানের ৩৭০ ধারা ফিরিয়ে আনার জন্য জম্মু-কাশ্মীরের মূলস্রোতের দলগুলি তৈরি করেছিল গুপকার জোট। তাতে ফারুক আবদুল্লার ন্যাশনাল কনফারেন্স, অপর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতির পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টি সহ বেশ কয়েকটি দল রয়েছে। ওই জোট জিতেছে ১০০ টি আসন। ৭৪ টি আসন পেয়ে একক বৃহত্তম দল হয়েছে বিজেপি। কংগ্রেস পেয়েছে ২৬ টি আসন।
যে ২০ টি জেলায় ভোট হয়েছে, তাঁর প্রতিটিতে আছে ১৪ টি করে আসন। ২৫ দিন ধরে আটটি পর্যায়ে ভোট হয়েছিল। অল্প কয়েকটি বাদে বেশিরভাগ আসনের ফল প্রকাশিত হয়েছে। জম্মুতে ৭১ টি আসন পেয়েছে বিজেপি। যে ছ'টি জেলা উন্নয়ন পরিষদে তারা জয়ী হয়েছে, তাদের মধ্যে আছে জম্মু, উধমপুর, সাম্বা, কাঠুয়া রেসাই এবং ডোডা। ন্যাশনাল কনফারেন্স ও কংগ্রেস জিতেছে পুঞ্চ, রাজৌরি, কিস্তওয়ার এবং রামবান জেলার ৪৫ টি আসনে।
কাশ্মীরে ফারুক আবদুল্লার নেতৃত্বাধীন জোট জিতেছে ৭২ টি আসনে। বিজেপি সেখানে পেয়েছে মাত্র তিনটি আসন। শ্রীনগর জেলার আসনগুলির ফল এখনও ঘোষিত হয়নি।
জয়ের পরেও গুপকার রোডে উৎসবের চিহ্ন নেই। ফারুক, মেহবুবা মুফতি ও অপর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লার বাড়ি সেখানেই। তাঁরা কেউই গুপকারের প্রার্থীদের হয়ে প্রচার করেননি। তাঁদের অভিযোগ, গুপকারের প্রার্থীদের প্রচার করতে দেওয়া হয়নি। কেন্দ্রীয় সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
বিজয়ীদের মধ্যে আছেন পিডিপি-র যুব শাখার সভাপতি ওয়াহিদ পারা। কাশ্মীর উপত্যকার পুলওয়ামা থেকে তিনি প্রার্থী হন। ভোটের আগে তাঁকে গ্রেফতার করেছিল এনআইএ। অভিযোগ, তাঁর সঙ্গে জঙ্গিদের যোগাযোগ আছে। ফারুকের বিরুদ্ধে জম্মু-কাশ্মীর ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের টাকা তছরুপের অভিযোগে তদন্ত চালাচ্ছে ইডি। শ্রীনগর ও জম্মুতে তাঁর দু'টি বাড়ি ও আরও কিছু সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
পিডিপি-র অভিযোগ, সোমবারই তাদের দলের তিন শীর্ষস্থানীয় নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এখনও পর্যন্ত পুলিশ এসম্পর্কে কোনও মন্তব্য করেনি।
যে পিডিপি নেতারা বন্দি হয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে, তাঁদের মধ্যে আছেন নইম আখতার, মেহবুবা মুফতির কাকা সরতাজ মাদনি এবং মুফতির প্রাক্তন রাজনৈতিক উপদেষ্টা পিরজাদা মনসুর হুসেন। পিডিপি জানিয়েছে, গান্দেরবাল জেলায় তাদের দলের সভাপতি বশির আহমেদ মিরেরও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। সম্ভবত তিনিও বন্দি হয়েছেন। মুফতি টুইট করে বলেছেন, "কেন আমাদের দলের নেতাদের বন্দি করা হল তা রাজ্যের শীর্ষস্থানীয় পুলিশ অফিসাররাও জানেন না। তাঁরা বলছেন, উপর সে অর্ডার আয়া।" মুফতির দাবি, জম্মু-কাশ্মীরে এখন আইনের শাসন নেই। পুরোপুরি গুন্ডারাজ চলছে।