দ্য ওয়াল ব্যুরো : মঙ্গলবার মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ করলেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার। নতুন মন্ত্রী হয়েছেন মোট ১৭ জন। তাঁদের মধ্যে ন'জন বিজেপির বিধায়ক। বাকি আটজন জেডি ইউ-এর। বিহারে শাসক জোটের মধ্যে বিজেপিই এখন সবচেয়ে বড় দল। কিন্তু মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণে এনডিএ-র বড় শরিক হিসাবে তারা বাড়তি গুরুত্ব পায়নি। স্বরাষ্ট্র, পার্সোনেল, শিক্ষা, গ্রামোন্নয়ন, জলসম্পদের মতো গুরুত্বপূর্ণ দফতরগুলি রয়েছে নীতীশের দলের হাতে। এর মাধ্যমে বিহারে চতুর্থবারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ বিজেপিকে কড়া বার্তা দিতে চেয়েছেন বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।
বিহারে এখন বিজেপির মোট মন্ত্রীর সংখ্যা হল ১৬। তাঁদের হাতে আছে ২২ টি মন্ত্রক। জেডি ইউ-এর মন্ত্রীর সংখ্যা ১৩। তাঁদের হাতে আছে ২১ টি মন্ত্রক। জিতিনরাম মাঝির হিন্দুস্তান আওয়াম মোর্চা এবং বিকাশশীল ইনসান পার্টি পেয়েছে একটি করে মন্ত্রিত্ব।
এদিন যে ১৭ জন নতুন মন্ত্রী হলেন, তাঁদের মধ্যে আছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শাহনওয়াজ হুসেন। তিনি হয়েছেন শিল্পমন্ত্রী। উপমুখ্যমন্ত্রী রেণু দেবীকে বিপর্যয় মোকাবিলা মন্ত্রকটি দেওয়া হয়েছে।
বিহারে গত বছর ভোটের পর থেকে মাত্র ১৩ জন মন্ত্রী ছিলেন। আর কারা মন্ত্রী হবেন, তা নিয়ে জেডি ইউ-এর সঙ্গে বিজেপি একমত হতে পারেনি। তাই মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ আটকে ছিল। বিহারে বিজেপি একসময় ছিল এনডিএ-র ছোট শরিক। কিন্তু গত বছর বিধানসভা ভোটে তারা লক্ষণীয় সাফল্য পায়। অন্যদিকে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামবিলাস পাসোয়ানের ছেলে চিরাগ পাসোয়ানের দল লোক জনশক্তি পার্টি একাই ভোটে লড়েছিল। এলজেপি নীতীশের দলের ভোট ব্যাঙ্কে ভাগ বসায়। জেডি ইউ-এর আসন সংখ্যা ৭১ থেকে কমে হয় ৪৩। বিজেপি পায় ৭৪ টি আসন। জেডি ইউ স্বীকার করে, এলজেপি-র জন্যই তাদের খারাপ ফল হয়েছে।
গত রবিবার বিহার বিজেপির প্রধান সঞ্জয় জয়সোয়াল এবং দুই উপমুখ্যমন্ত্রী তারাকিশোর প্রসাদ ও রেণু দেবী মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। তখনই নতুন মন্ত্রীদের নাম চূড়ান্ত হয়। শাহনওয়াজ হোসেন গত মাসে বিধান পরিষদে নির্বাচিত হন। তাঁকেই এদিন প্রথম শপথবাক্য পাঠ করান রাজ্যপাল ফাগু চৌহান। অপর যাঁরা এদিন শপথ নিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে আছেন জেডি ইউ নেতা সঞ্জয় কুমার ঝা, শ্রাবণ কুমার, লেসি সিং। বিজেপি বিধায়কদের মধ্যে এদিন শপথ নিয়েছেন মদন সাহনি ও প্রমোদ কুমার।
এর আগে নীতীশ কুমারের মন্ত্রিসভার এক মন্ত্রী শপথ নেওয়ার তিন দিনের মাথায় পদত্যাগ করেন। বিহারের তারাপুর বিধানসভা থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন জেডি ইউয়ের নেতা মেওয়ালাল চৌধুরি। নীতীশ কুমার তাঁকে দিয়েছিলেন শিক্ষা দফতরের দায়িত্ব। কিন্তু তেজস্বী যাদবের আরজেডি তিন বছরের পুরানো এক দুর্নীতির মামলা নিয়ে সরব হয় তাঁর বিরুদ্ধে। বাধ্য হয়ে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন মেওয়ালাল।
২০১৭ সালে অভিযোগ ওঠে, মেওয়ালাল ভাগলপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য থাকাকালীন অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর এবং জুনিয়ার সায়েন্টিস্ট নিয়োগে দুর্নীতি হয়েছিল। মেওয়ালাল নিজে সেই দুর্নীতিতে জড়িত ছিলেন। তখন জেডি ইউ ছিল বিজেপির বিরোধী। বর্তমানে নীতীশ সরকারের প্রধান শরিক বিজেপি সেদিন মেওয়ালালের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিল। জেডি ইউ তাঁকে সাসপেন্ড করেছিল। পরে অবশ্য সাসপেনশন তুলে নেওয়া হয়।