দ্য ওয়াল ব্যুরো : ২ অক্টোবর ইস্তানবুলে সৌদি আরবের দূতাবাসে ঢুকেছিলেন ওয়াশিংটন পোস্টের সাংবাদিক জামাল খাসোগি। সেখানে খুন হন হিট স্কোয়াডের হাতে। তাঁকে গলা টিপে মারা হয়েছিল। একটি অডিও টেপে শোনা গিয়েছে খাসোগির শেষ মুহূর্তের আর্তনাদ। তিনি বলেছিলেন, আমি নিঃশ্বাস নিতে পারছি না। খাসোগির দেহ করাত দিয়ে খণ্ড খণ্ড করার হাড় হিম করা শব্দও শোনা গিয়েছে সেই অডিও টেপে।
একটি সূত্রে আমেরিকার মিডিয়া জানতে পেরেছে, খাসোগি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত খুনিদের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন। একেবারে শেষে তিনি বলেছিলেন, আমি নিঃশ্বাস নিতে পারছি না। খুনের সময় যাতে আর্তনাদ না শোনা যায়, সেজন্য খুব জোরে মিউজিক চালানো হয়েছিল। সৌদি দূতাবাস থেকে ঘন ঘন ফোন করা হচ্ছিল রিয়াধে। সেখানে জানানো হচ্ছিল, দূতাবাসের ভিতরে কী ঘটছে।
এই অডিও টেপ প্রকাশিত হওয়ার পরে আমেরিকার ট্রাম্প প্রশাসনের ওপরে চাপ বাড়বে। অভিযোগ, সৌদির যুবরাজ মহম্মদ বিন সলমনের সমালোচনা করার জন্যই খুন হয়েছেন খাসোগি। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন বরাবর বলে এসেছে, যুবরাজ এই খুনে জড়িত নন। আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ অবশ্য আগেই বলেছিল, যুবরাজের ব্যক্তিগত নির্দেশেই খুন হয়েছেন খাসোগি।
অডিও টেপটি এখন আছে তুরস্কের গোয়েন্দাদের হাতে। কীভাবে তা পাওয়া গেল জানানো হয়নি। তার কথোপকথন লিখিতভাব পৌঁছে দেওয়া হয়েছে আমেরিকার মিডিয়ার কাছে।
খাসোগি যখন তুরস্কের দূতাবাসে পা রেখেছেন, তখন থেকে তাঁর কথোপকথন রেকর্ড করা হয়েছে। দূতাবাসে লাঞ্চের সময় খাসোগি সেখানে যান। এক অফিসারের সঙ্গে আগেই তাঁর অ্যাপয়েন্টমেন্ট করা ছিল। তিনি ভেবেছিলেন, তুরস্কের দূতাবাস তাঁকে প্রয়োজনীয় কয়েকটি কাগজপত্র দেবে। তখন তাঁর আর প্রেমিকা হাতিস সেঙ্গিজকে বিবাহ করতে বাধা থাকবে না।
কিন্তু দূতাবাসে ঢোকার পরে এক পরিচিত ব্যক্তিকে দেখে তিনি অবাক হয়ে যান। তাকে প্রশ্ন করেন, তুমি এখানে কী করছ?
সেই ব্যক্তির নাম মাহের আবদুল আজিজ মুতরেব। তিনি পেশায় কূটনীতিক। আগে গোয়েন্দা বিভাগে ছিলেন। যুবরাজের ঘনিষ্ঠ। লন্ডনে সৌদি দূতাবাসে তাঁর সঙ্গে খাসোগির আলাপ হয়।
মুতরেব খাসোগিকে বলেন, তুমি দেশে ফিরছ। খাসোগি বলেন, তা হতে পারে না। আমার লোকজন বাইরে অপেক্ষা করছে।
একথা বলার পরেই কয়েকজন ঝাঁপিয়ে পড়ে খাসোগির ওপরে।
সৌদি দূতাবাস থেকে বলা হয়েছিল, ধস্তাধস্তির মধ্যে আচমকা খাসোগি মারা গিয়েছেন। কিন্তু অডিও টেপ শুনে মনে হয়, তাঁকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে।