
প্রতীকী চিত্র
শেষ আপডেট: 15 January 2025 16:43
স্কুলে পা রাখলেই রকমারি সব খাবার। মাত্র ৫ টাকায় মিলছে চাউমিন, পিঠে, ঘুগনি, চানামশলা-সহ লোভনীয় সব পদ। ভাবছেন তো চড়া দ্রব্যমূল্যের বাজারে এতো কম দামে এতো রকমের লোভনীয় খাবার! অবিশ্বাস্য মনে হলেও এটাই সত্যি।
হাওড়ার রাজেশ্বরী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গেলেই পেয়ে যাবেন ৫ টাকায় এক প্লেট চাউমিন। পাবেন পিঠে অথবা ঘুগনি। সঙ্গে মিলছে লুচি-আলুর দমও। তবে তার জন্য আরও পাঁচ মানে মোট ১০ টাকা খরচ করতে হবে। এভাবেই ১৬ রকমের খাবারের পসরা সাজিয়ে স্কুলের মধ্যে চলছে মেলা। নতুন বছরের শুরুতে এমন আয়োজনে ছাত্র-ছাত্রী থেকে অভিভাবক সকলেই আনন্দিত।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক প্রসেনজিৎ মিত্র জানান, “গ্রামাঞ্চলের স্কুল পড়ুয়াদের কথা মাথায় রেখেই রাজ্য সরকারের একটি বিশেষ উদ্যোগ এই ফুড ফেস্টিভ্যাল। শহরে বড় বড় ফুড ফেস্টিভ্যাল টিভিতে বা সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখলেও সেখানে যাওয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না। তাদের কথা মাথায় রেখেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শিক্ষা দফতরের তরফে আসা নির্দেশ মেনেই প্রতিটি বিদ্যালয়ে ফুড ফেস্টিভ্যালের আয়োজন করা হয়েছে।’
রাজ্য সরকারি সব স্কুল পালন হচ্ছে স্টুডেন্টস উইক। উচ্চশিক্ষা দফতর থেকে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় রাজ রাজেশ্বরী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খাদ্য মেলার আয়োজন করা হয়। সেখানে নিজেদের হাতে তৈরি রান্না নিয়ে ছোটেদের জন্য খাবারের স্টল সাজাতে দেখা যায় অভিভাবকদের।
অভিভাবকদের তৈরি পকোড়া, ঘুগনি, পাস্তা, চাউমিন, ফুচকা, মোমো, নানা ধরনের পিঠের স্টল। শীতের মিঠে রোদ গায়ে মেখে পিকনিকের মতই খাদ্য মেলার আনন্দে মেতে উঠেছিল গোটা স্কুল। অভিভাবকেরা জানিয়েছেন প্রত্যেক দিনই পিঠে ব্যাগের বোঝা নিয়ে স্কুলে আসতে হয় সন্তানদের। ছেলে-মেয়েদের একটা দিন অন্যরকম আনন্দ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তাঁরা।
লেখাপড়ার পাশাপাশি পড়ুয়াদের মনোরঞ্জন ও একে অপরের সঙ্গে সম্পর্ক আরও ভাল করতে রাজ্যের এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্কুলের শিক্ষক থেকে অভিভাবকরা। শুধু খাওয়াই নয়, ফুড ফেস্টিভ্যলে নাচ, গান, আবৃত্তির মতো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনও করা হয়েছিল।