
শেষ আপডেট: 29 July 2019 18:30

বাঘেরা সাধারণত কৌতুহলী হয়, জানিয়েছেন স্টিভ। তবে পুরুষ বাঘেদের থেকে বাঘিনীদের কৌতুহল কিঞ্চিত বেশি। ছোটখাটো ক্যামেরা কারকে নিজেদের এলাকায় ঘোরাঘুরি করতে দেখে বাঘিনীরাই সবচেয়ে আগে এগিয়ে আসে। তার পর নিরিখ পরখ করে বোঝার চেষ্টা করে এই বস্তুটি কি, শিকার নাকি! খাবার নয় দেখে হতাশ হয়ে যতক্ষণে তারা ফিরে যায়, ততক্ষণে খান কয়েক ছবি ফটাফট ক্যামেরা কার তুলে নেয়। এই ক্যামেরা কারের কয়েকটি ইতিমধ্যে ভারতেও পাঠানো হয়েছে। বাঘ সংরক্ষণের জন্যই উদ্যোগ বলে জানিয়েছেন স্টিভ। মধ্যপ্রদেশের বান্ধবগড়ের জঙ্গলে ইতিমধ্যেই ক্যামেরা কার পাঠিয়ে বাঘের সংখ্যা গণনা করার চেষ্টা করছে বন দফতর।
https://www.youtube.com/watch?v=UbpXw95WbHE
ভিডিয়ো সৌজন্যে: ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক।
আন্তর্জাতিক ব্যাঘ্র দিবস উপলক্ষে ভারতে বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধির কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ২০১৮ সালের বাঘ সুমারির হিসেব বলছে ভারতে এখন বাঘের সংখ্যা ৩০০০ ছুঁতে চলেছে, যেখানে ২০১৪ সালের হিসেবে ছিল ১৪০০। ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজ়ারভেশন অব নেচার অ্যান্ড ন্যাচরাল রিসোর্সেস (IUCN) একটি সমীক্ষায় জানিয়েছিল ১৯৬৯-১৯৭২ সালের মধ্যে ভারতে বিপজ্জনক হারে বাঘের সংখ্যা কমে যায়। যার একটা বড় কারণ চোরাশিকার। তা ছাড়াও সংক্রামিত রোগ ও রহস্যজনক ভাবে বাঘের নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনা তো রয়েছেই। ন্যাশনাল টাইগার কনজ়ারভেশন অথরিটি (এনটিসিএ) জানিয়েছে, ২০১৪-২০১৮ সালের মধ্যে বেসরকারি হিসেবে দেশে বাঘের মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ৫০০। তার মধ্যে ৮৭টি মৃত্যুকে সন্দেহজনক বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। সেগুলি চোরাশিকার কি না, নিশ্চিত করে বলা যায়নি। তা ছাড়া জঙ্গল লাগোয়া প্রত্যন্ত এলাকায় বাঘ পিটিয়ে মেরে ফেলার ঘটনা তো রয়েছেই।
বর্তমানে আমাদের দেশেই বাঘ সংরক্ষণের প্রায় ২৭টি প্রকল্প কাজ করছে। ন্যাশনাল টাইগার কনজ়ারভেশন অথরিটি (NTCA)জানিয়েছে, সুন্দরবনে এখন বাঘের সংখ্যা ৮৮। শেষ সুমারির হিসেবে ছিল ৭৬। ১৯৭৩ সালে যেখানে বাঘের বিচরণ ক্ষেত্র ছিল ১৮,২৭৮ বর্গ কিলোমিটার, সেখানে বর্তমানে রয়েছে প্রায় ৭২,৭৪৯ বর্গ কিলোমিটার। বাঘের সংখ্যা গোনার জন্য এখন পায়ের ছাপ দেখে (পাগ মার্ক) –এর থেকেও উন্নত পদ্ধতি বেরিয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ক্যামেরা কার সেখানে বিশেষ ভাবে সাহায্য করবে।