
শেষ আপডেট: 23 September 2022 07:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানের (Iran) প্রেসিডেন্ট-সহ সরকারি আধিকারিকদের বিশ্ব সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখী হওয়া নতুন নয়। কিন্তু কখনও এমন শর্ত দেওয়া হয়নি, মহিলা সাংবাদিক হলে তাঁকে হিজাব (Hijab Row) পরে আসতে হবে। ইরানে হিজাব বিতর্কের মধ্যেই এক মার্কিন সাংবাদিককে সাক্ষাৎকার দিতে রাজি হন ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি।
সাক্ষাৎকার পর্ব শুরু হওয়ার কিছু আগে সিএনএনের সেই সাংবাদিক ক্রিস্টিন আমনপোরকে জানানো হয়, তাঁকে হিজাব পরতে হবে। এই শর্ত মানতে নারাজ মাঝবয়সি ওই সাংবাদিক। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, এমন শর্ত মেনে তিনি ইরানের প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎকার নেবেন না। বাতিল করে দিয়েছেন ইন্টারভিউ নেওয়ার সিদ্ধান্ত।
শুধু ওই সাংবাদিক বা সিএনএন নয়, ইরানের বর্তমান প্রেসিডেন্টের (Iran President) এমন সিদ্ধান্তে বিস্মিত গোটা বিশ্ব সংবাদমাধ্যম। অতীতে কখনও এমন শর্ত চাপায়নি ইরানের কোনও শাসক। মনে করা হচ্ছে, ইরানের বর্তমান পরিস্থিতির কারণেই এমন শর্ত।
এক তরুণী ঠিক মতো হিজাব না পরায় সম্প্রতি তাঁকে পুলিশ গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে গিয়েছিল। পরে তিনি মারা যান। অভিযোগ উঠেছে পুলিশের অত্যাচারে মারা গিয়েছেন তরুণী। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইরান অগ্নিগর্ভ। প্রতিবাদ আন্দোলন দমনে পুলিশ হিমশিম খাচ্ছে। পুলিশের গুলিতে ৩০ জনের বেশি আন্দোলনকারী নিহত হয়েছেন। অনেকের ধারনা, এই পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি দেখাতে চাইছেন হিজাব বিধি শুধু ইরানের মহিলাদের জন্য নয়। দেশের বাইরেও প্রেসিডেন্ট এই ব্যাপারে নমনীয় নন।
জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন উপলক্ষে ইরানের প্রেসিডেন্ট আমেরিকা সফরে আছেন। সেখানেই অধিবেশনের ফাঁকে হোটেলে তিনি সিএনএনকে সাক্ষাৎকার দিতে রাজি হন। সিএনএনের সাংবাদিক আমানপোর বলেন, "ইন্টারভিউ নেওয়ার জন্য আমি নিজেকে প্রস্তুত করেছিলাম। হোটেলে পৌঁছে নির্দিষ্ট কক্ষে হাজির হই। এমন সময় প্রেসিডেন্ডের এক সহকারী বলেন, ইন্টারভিউ নিতে হলে হিজাব পরতে হবে।"
ওই সাংবাদিকের প্রশ্ন, "আমি কেন হিজাব পরতে যাব। ওটা তো আমার পছন্দের পোশাক নয়। তাছাড়া ওই পোশাকের সঙ্গে আমাদের ঐতিহ্যেরও কোনও সম্পর্ক নেই। আর আমি কি পোশাক পরব সেটা কেন ইরানের প্রেসিডেন্টের অফিস থেকে বলে দেওয়া হবে?"
সিএনএনের সাংবাদিক বলেন, "আমাকে যখন বলা হল, হিজাব না পরলে প্রেসিডেন্ট ইন্টারভিউ দেবেন না, তখন এই শর্ত প্রত্যাখ্যান করাই সঠিক মনে করেছি।"