
বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু
শেষ আপডেট: 1 May 2024 21:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যে নিয়োগ নিয়ে অভিযোগের কোনও শেষ নেই। কলকাতার হাইকোর্টের রায়ে এক পলকে চাকরি হারিয়েছেন ২৫,৭৫৩ জন শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মী। সেই নিয়ে সুপ্রিম কোর্টেও মামলা চলছে। এরই মধ্যে আবার উঠল গুরুতর অভিযোগ। এসএলএসটি নিয়োগে অস্বচ্ছতা রয়েছে বলে দাবি।
২০২০ সালের এসএলএসটি নিয়োগে অস্বচ্ছতার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছিলেন হাওড়ার বাসিন্দা রানী সোনার। তাঁর দাবি, সাঁওতালি মিডিয়াম স্কুলের জীবন বিজ্ঞানের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এসএসসি যে ভেরিফিকেশন লিস্ট প্রকাশ করেছিল সেখানে তাঁর র্যাঙ্ক ছিল ৫১। তার পর ভেরিফিকেশনে চূড়ান্ত প্রক্রিয়ার শেষে মেধাতালিকায় তিনি ছিলেন দ্বিতীয় স্থানে।
কিন্তু অভিযোগ, রাজ্যের স্কুল সার্ভিস কমিশনের পক্ষ থেকে শূন্যপদে নিয়োগ করলেও তাঁকে কোনও সুপারিশ পত্র দেওয়া হয়নি। এরপরই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। মামলাকারীর পক্ষের আইনজীবী আশীষ কুমার চৌধুরী জানান, ২০২১ সালে ২৬ জুলাই এবং পরে ২০২৩ সালের ৩০ জুন এসএসসির কাছে নিয়োগপত্র পাওয়ার আবেদন জানান হয়েছিল। কিন্তু তাঁদের তরফে কোনও সদুত্তর মেলেনি।
বুধবার এই সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর এজলাসে আইনজীবী বলেছেন, রানী সোনার মেধাতালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও তাকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি। তাঁর যুক্তি, এসএসসি একজন মেধাতালিকায় দ্বিতীয় স্থানাধিকারিকে নিয়োগপত্র পাওয়া থেকে বঞ্চিত করতে পারে না। বিষয়টি শুনে বিস্ময় প্রকাশ করেন বিচারপতি। তিনি সঙ্গে সঙ্গে এসএসসির আইনজীবী ডঃ সুতানু পাত্রের কাছে জানতে চান তাঁর কাছে এই বিষয় কী তথ্য রয়েছে।
বিচারপতি বসুর তাঁর উদ্দেশে প্রশ্ন, ''মেধাতালিকায় দ্বিতীয় স্থান পেয়েও সুপারিশ পত্র পায়নি? এসএসসির কাছে আবেদন করেও কেন কোনও উত্তর পাওয়া গেল না? আইনজীবী তাঁর উত্তরে জানান, তাঁকে পুরো বিষয়টি সম্পর্কে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জানতে হবে। এসএসসি-র আইনজীবীর উত্তরে খুশি হননি বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু। তাঁর স্পষ্ট নির্দেশ, কেন মেধাতালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা একজনকে সুপারিশ পত্র দেওয়া হল না, সেই তথ্য আগামী দু'সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট দিয়ে আদালতে জানাতে হবে।