
রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 8 July 2024 20:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতা পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল এবং ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারের কাছে ওই দুই পুলিশ কর্তার বিরুদ্ধে রিপোর্ট দিয়েছিলেন তিনি। আর সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কলকাতা পুলিশের দুই কর্তার বিরুদ্ধে নবান্ন কী পদক্ষেপ করেছে তা জানতে চাইল রাজভবন।
অন্যদিকে, কোচবিহারের মাথাভাঙা এবং চোপড়ায় দুই তরুণীকে নির্যাতনের ঘটনা ঘিরে তোলপাড় হয়েছে রাজ্য রাজনীতি। গত ৩০ জুন চোপড়ায় এক যুগলকে প্রকাশ্য রাস্তায় বেধড়ক পেটানোর অভিযোগ উঠেছিল স্থানীয় তৃণমূল নেতা তাজিমুল ইসলামের বিরুদ্ধে। আবার কোচবিহারের মাথাভাঙায় এক মহিলাকে প্রকাশ্যে বিবস্ত্র করে মারধরের অভিযোগ ওঠে। মাথাভাঙা এবং চোপড়ার ঘটনায় পুলিশি ‘নিষ্ক্রিয়তা’র অভিযোগ তুলে সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছিলেন রাজ্যপাল। সোমবার ওই দুটি ঘটনার সিবিআই তদন্ত নিয়েও রিপোর্ট চেয়েছেন রাজ্যপাল।
সোমবার রাজভবনের এক্স হ্যান্ডেলে দুটি বিষয়ে রিপোর্ট তলব নিয়ে একটি পোস্ট করেছে রাজ্যপাল। যেখানে সংবিধানের ১৬৭ নম্বর ধারায় রাজ্যপালকে দেওয়া ক্ষমতার ভিত্তিতে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে দু’টি বিষয়ে রিপোর্ট চেয়েছে রাজভবন। যার মধ্যে একটি হল, কলকাতা পুলিশ কমিশনার এবং ডিসি (সেন্ট্রাল)-এর বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী কোনও ব্যবস্থা নিয়েছেন কি না। দ্বিতীয় হল, প্রকাশ্যে বিবস্ত্র অবস্থায় এক মহিলাকে মারধর এবং সালিশি সভায় যুগলকে মারধরের ঘটনায় পুলিশ যেখানে কোনও পদক্ষেপই করেনি, সেই ঘটনা দুটিতে সিবিআই তদন্ত হচ্ছে কি না।
— Raj Bhavan Kolkata (@BengalGovernor) July 8, 2024
এদিকে রবিবার সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের তরফে দাবি করা হয়েছে, রাজ্যপালের রিপোর্টের জেরে রাজ্যের দুই পদস্থ পুলিশ কর্তার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের 'প্রক্রিয়া' শুরু করল’ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক!সূত্রের খবর, গত সপ্তাহেই রাজ্য প্রশাসন এবং পুলিশের তিন প্রথম সারির আধিকারিকের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চিঠি লিখেছিলেন বোস। তারই প্রেক্ষিতে কলকাতার পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল এবং ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (সেন্ট্রাল) ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অমিত শাহের মন্ত্রক ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে পিটিআই সূত্রের দাবি।
ঘটনার সূত্রপাত, সম্প্রতি রাজ্যপালের বিরুদ্ধে রাজভবনের এক মহিলা কর্মী শ্লীলতাহানির অভিযোগ এনেছিলেন। কিন্তু সাংবিধানিক রক্ষাকবচ থাকায় রাজ্যপালের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের না করা হলেও মহিলার বয়ানের ভিত্তিতে অনুসন্ধান চালিয়েছিল কলকাতা পুলিশ। ওই ঘটনায় কলকাতার পুলিশ কমিশনার এবং সংশ্লিষ্ট ডিসির বিরুদ্ধে 'অল ইন্ডিয়া সার্ভিসেস’ (এআইএস)-এর অফিসারদের আচরণবিধি সংক্রান্ত শর্ত লঙ্ঘনে'র অভিযোগ এনেছেন রাজ্যপাল।