দেশভাগে আমি খুশি, মুসলিমরা নইলে আরও বহু মানুষ মারত! কংগ্রেস নেতার মন্তব্যে বিতর্ক
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশভাগ নিয়ে তিনি বেশ খুশি। রবিবার একটি অনুষ্ঠানে এমনই মত প্রকাশ করলেন প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী, কংগ্রেসের নটবর সিং। তাঁর দাবি, ভারত যদি ভাগ না হতো তাহলে নাকি মুসলিম লিগ দেশই চালাতে দিত না। শুধু তাই নয়, মুসলিমরা নাকি এ দেশের বহ
শেষ আপডেট: 9 February 2020 18:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশভাগ নিয়ে তিনি বেশ খুশি। রবিবার একটি অনুষ্ঠানে এমনই মত প্রকাশ করলেন প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী, কংগ্রেসের নটবর সিং। তাঁর দাবি, ভারত যদি ভাগ না হতো তাহলে নাকি মুসলিম লিগ দেশই চালাতে দিত না। শুধু তাই নয়, মুসলিমরা নাকি এ দেশের বহু মানুষকে মেরেও ফেলত।
রবিবার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জীর বাড়িতে রাজ্যসভার সাংসদ এমজে আকবরের নতুন বই ‘গান্ধী হিন্দুইজম: দ্য স্ট্রাগল এগেইন্সট জিন্নাহ ইসলাম”-এর প্রকাশ অনুষ্ঠান ছিল। সেখানেই যোগ দিতে গিয়েছিলেন নটবর সিং। বইটির বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে দেশভাগের কথা ওঠে। তখনই এই মন্তব্য করেন তিনি। জানান, দেশ ভাগ হয়েছিল বলে তিনি অত্যন্ত খুশি।
তিনি বলেন, "আমার হিসেবে আমি খুবই খুশি যে ভারতের ভাগ হয়েছিল। কারণ ভারত ভাগ না হলে, আমাদের অনেক 'ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে' দেখতে হত। আমরা এটা প্রথম জিন্নাহর জীবদ্দশায় ১৬ই আগস্ট ১৯৪৬ সালে দেখেছিলাম।”
এই ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে কী?
মহম্মদ আলি জিন্নাহ-র নেতৃত্বে মুসলিমদের জন্য আলাদা দেশের দাবি শুরু হয় স্বাধীনতার আগেই। ১৬ অগস্ট ১৯৪৬ সালে এই দাবি নিয়ে কলকাতায় দাঙ্গাও শুরু হয়ে যায়। জানা যায়, এই দাঙ্গায় কলকাতায় হাজার হাজার হিন্দুকে মেরে ফেলা হয়েছিল। আর এই ঘটনার পিছনে সরাসরি হাত ছিল মুসলিম লিগের। এই গণহত্যার ঘটনাই ইতিহাসে 'ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে' নামে রয়ে গেছে।
নটবর সিং আরও বলেন, "সেই সময় কলকাতায় হাজার হাজার হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষকে মেরে ফেলা হয়েছিল। আর সেই হত্যার প্রতিক্রিয়া হিসেবে বিহারে মুসলিমদের মারা হয়েছিল।” তিনি এ-ও বলেন, "দেশ ভাগের পিছনে সব থেকে বড় কারণ হল, মুসলিম লিগ দেশকে সঠিক ভাবে চালাতেই দিত না।”
প্রবীণ এই নেতার মন্তব্য ঘিরে স্বাভাবিক ভাবেই বিতর্ক ঘনিয়েছে রাজনৈতিক শিবিরে। দেশভাগকে ভারতের ইতিহাসের এক কালো অধ্যায় হিসেবেই দেখা হয়। মনে করা হয়, ধর্মের ভিত্তিতে দেশ ভাগ না হলে বহু সমস্যার জন্ম হতো না। অখণ্ড ভারতবর্ষে সর্বধর্মসমন্বয় বজায় থাকতে পারত। কিন্তু সেসবের বদলে সম্পূর্ণ উল্টো মন্তব্য করেছেন এই কংগ্রেস নেতা, যা মুসলিমদের প্রতি বিদ্বেষী ও বিভাদনকামী মানসিকতারই পরিচয় দেয়।