
শেষ আপডেট: 1 June 2020 18:30
গিলিয়েড সায়েন্সেস জানিয়েছে, অ্যান্টি-ভাইরাল ড্রাগ রেমডেসিভিরের তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল চলছে। পাঁচদিনের কোর্সে নির্দিষ্ট ডোজে রোগীদের শরীরে এই ওষুধ ইনজেক্ট করা হচ্ছে। দেখা গেছে, ১১ দিনের মধ্যেই ৬৫% রোগীর সংক্রমণ ধীরে ধীরে কমতির দিকে গেছে। এই ট্রায়াল সফল হলে অতি সঙ্কটাপন্ন রোগীদের শরীরে রেমডেসিভিরের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হবে।
রেমডেসিভির নিউক্লিওটাইড অ্যানালগ (Nucleotide Analog)। আরএনএ ভাইরাসের প্রতিলিপি তৈরির ক্ষমতাকে নষ্ট করে দিতে পারে এই অ্যান্টি-ভাইরাল ড্রাগ। স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে রেমডেসিভির নিয়ে গবেষণা চলছে। এই প্রজেক্টের অন্যতম গবেষক ভারতীয় বংশোদ্ভূত অরুণা সুব্রহ্মণ্যম। তিনি স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের ইমিউনোকম্প্রোমাইজড হোস্ট ইনফেকসিয়াস ডিজিজ বিভাগের প্রধান ও চিফ ক্লিনিকাল অফিসার। জানিয়েছেন, দু’টি পর্যায়ে রোগীদের উপর ট্রায়াল শুরু হয়েছে স্ট্যানফোর্ডে। কিছু রোগীর শরীরে পাঁচদিন ধরে একটা নির্দিষ্ট ডোজে রেমডেসিভির প্রয়োগ করা হয়েছে, অন্যদের দশ দিন ধরে ওই ওষুধের ডোজ দেওয়া হয়েছে। দুই ক্ষেত্রেই একই রেজাল্ট পাওয়া গেছে। পাঁচদিনের কোর্সে যাঁদের রেমডেসিভিরের ডোজ দেওয়া হয়েছিল তাঁদের সংক্রমণ যতটা কমেছে, দশদিনের কোর্স করা হয়েছিল যাঁদের উপরে তাঁরাও একইভাবে উপকৃত।
গিলিয়েড সায়েন্সেসের রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে ভারতেও রেমডেসিভির ওষুধের মূল উপকরণ বানাচ্ছে সরকারি সংস্থা কাউন্সিল অব সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ (সিএসআইআর)-এর অধীনস্থ ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব কেমিক্যাল টেকনোলজিতে (সিএসআইআর-আইআইসিটি) । রেমডেসিভিরের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করেছে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)। এই ওষুধের প্রয়োগে ৬৮ শতাংশ রোগীর শ্বাসের সমস্যা কমেছে বলে জানানো হয়েছে। রেমডেসিভির তৈরির লাইসেন্স পেয়েছে দেশের তিন সংস্থা সিপলা, হেটেরো ল্যাব ও জুবিল্যান্ট লাইফসায়েন্সেস। আফগানিস্তান, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, মিশর, ফিজি, ঘানা, কেনিয়া, নেপাল, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা-সহ ১২৭টি দেশের সঙ্গে চুক্তি করেছে গিলিয়েড সায়েন্সেস। এইসব দেশেও রেমডেসিভিরের উৎপাদন শুরু হবে।