
শেষ আপডেট: 3 August 2018 10:46
এই বিজ্ঞাপন দেখেই ফাঁদে পা দেন মহিলা।[/caption]
'বাবা' ফোনেই আশ্বাস দিলেন, সব সমস্যার সমাধান করার। শুধু তন্ত্রপ্রক্রিয়া চালানোর জন্য সামান্য কিছু টাকার প্রয়োজন। সেইমতো নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টে ৫,২০০ টাকা পাঠাতে হবে। বাবা সানাউল্লাহ খানের কথায় তখন ভরসা খুঁজে পেয়েছেন মহিলা। টাকা পাঠিয়ে দিলেন। তন্ত্র প্রক্রিয়া চালু হল। মহিলাকে কখনও যেতে হয়নি তান্ত্রিক বাবার কাছে। ফোনে-ফোনেই সব প্রয়োজন মিটে যেত। এক দিন বাবাজি জানান, তন্ত্রপ্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে পশুবলি দিতে হবে। তার জন্য ৬৪ হাজার টাকা প্রয়োজন। তন্ত্রমতে তো বলি দিতে হয়, সে কথা মহিলা আগেই শুনেছিলেন। তাই এই টাকাও পাঠিয়ে দিলেন বাবাজিকে।
তন্ত্রমন্ত্র চলতেই থাকে, কিন্তু সুফল মেলে না কিছুতেই। বাবার টাকার চাহিদাও কমে না। উল্টে শুরু হয় তন্ত্রের ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেল। এক সময়ে মহিলা টাকা দিতে অস্বীকার করলে তাঁকে বলা হয়, এই তন্ত্রপ্রক্রিয়া যদি সম্পূর্ণ না হয় তাহলে তাঁর গোটা পরিবারের ভীষণ বিপদ। এই ভয়কেও উপেক্ষা করতে পারেননি মহিলা।
বাবার কথামতো বিভিন্ন ব্যাঙ্কের একাধিক অ্যাকাউন্টে ক্রমান্বয়ে জমা করেছিলেন মোট ১০ লক্ষ টাকা! শেষমেশ একটা পর্যায়ের পরে তান্ত্রিক বাবা সানাউল্লাহ যখন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এর পরে বোধোদয় হয় মহিলার। প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করলেন।
[caption id="attachment_24194" align="aligncenter" width="960"]
উদ্ধার হওয়া সামগ্রী।[/caption]
অভিযোগ পেয়ে ওই খোঁজ শুরু হল । প্রথমে বাবাজির কোনও হদিস মিলছিলই না। মহিলাও কোনও দিন সানাউল্লাহ খান বা তার কোনও শাগরেদকে চোখে দেখেননি। কথা যা হত, সবই ফোনে। বিজ্ঞাপনে বাবার ডেরার ঠিকানায় খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, সেই ঠিকানা ভুয়ো। বাবাজির ফোন নম্বর ও ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট নম্বরের সমস্ত তথ্য যাচাই করে দেখা যায়, সেখানেও নকল নথি ও পরিচয় ব্যবহার করা হয়েছে।
এর পরেই মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্কের লোকেশন ধরে মেলে গাজিয়াবাদ সূত্র। শেষমেশ ধরা পড়ে অপরাধীরা।