দ্য ওয়াল ব্যুরো : ১৯৮৪ সালে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী নিহত হওয়ার পরে দেশ জুড়ে শুরু হয়েছিল শিখবিরোধী দাঙ্গা। খুন হয়েছিলেন ৩ হাজার মানুষ। তার ৩৪ বছর বাদে, মঙ্গলবার সেই দাঙ্গায় দুজনকে খুন করার অপরাধে দিল্লির আদালত প্রাণদণ্ড দিল দুই ব্যক্তিকে। ’৮৪ সালের ১ নভেম্বর দিল্লির মহীপালপুর অঞ্চলে খুন হয়েছিলেন হরদেব সিং ও অবতার সিং। খুনের দায়ে যে দুজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, তারা হলো নরেশ শেরাওয়াত ও যশপাল সিং। অপর এক ব্যক্তিকেও ওই খুনে জড়িত থাকার অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাবাসের সাজা দেওয়া হয়েছে।
দিল্লির শিখবিরোধী দাঙ্গা নিয়ে ২০১৫ সালে বিশেষ তদন্তকারী টিম গঠন করে কেন্দ্রীয় সরকার। সেই টিম অভিযুক্ত তিন জনের বিরুদ্ধে কোর্টে প্রমাণ পেশ করেছিল। গত বুধবার তারা দোষী সাব্যস্ত হয়। অতিরিক্ত দায়রা আদালতের বিচারক অজয় পাণ্ডে বলেন, অভিযুক্তরা শিখ সম্প্রদায়ের মানুষকে খুনের উদ্দেশ্যে জমায়েত করেছিল। তাদের নেতারা যে ধরনের স্লোগান দিয়েছিল, তাতেই একথা বোঝা যায়। তদন্তে তিনজনের অপরাধ নিঃসংশয়ে প্রমাণিত হয়েছে।
খুন হওয়ার সময় হরদেব সিং-এর বয়স ছিল ২৬। অবতার সিং-এর বয়স ছিল ২৪।
বিচারক বলেছেন, আমাদের মনে রাখতে হবে, দাঙ্গার সময় ৮০০ থেকে হাজার মানুষ শহর জুড়ে খুন ও লুঠপাট চালিয়েছিল। নরেশ শেরাওয়াত এবং যশপাল সিং স্থানীয় এক নেতার নির্দেশে দুজনকে খুন করে।
নিহত হরদেবের ভাই সঙ্গত সিং সাক্ষ্য দিতে গিয়ে জানান, এক কংগ্রেস নেতা ও নরেশ শেরাওয়াত এক উত্তেজিত জনতাকে নেতৃত্ব দিচ্ছিল। আমাদের তারা আক্রমণ করতে এলে আমরা দৌড়ে সুরজিত সিং নামে একজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলাম। সুরজিত সিং-ও এই মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছে।
দৌড়ে পালানোর সময় তাঁরা দেখেন তাদের দোকান লুঠপাট ও ভাঙচুর হচ্ছে। সেই কংগ্রেস নেতা ও নরেশ জনতাকে বলে, যারা পালাচ্ছে তাদের তাড়া কর। সঙ্গতরা সুরজিতের ঘরে আশ্রয় নিয়েছিল। জনতা ঘরের জানলা ভেঙে ঢোকে। হরদেবকে তার নিজের কৃপাণ দিয়েই খুন করে। ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়। সঙ্গত নিজেও গুরুতর আহত হয়েছিলেন। পাঁচদিন পরে হাসপাতালে তাঁর জ্ঞান ফেরে। তখন জানতে পারেন, তাঁর ভাই খুন হয়ে গিয়েছেন।
নরেশের পক্ষের কৌঁসুলি ও পি শর্মা বলেন, তদন্তকারীরা কোনও নিরপেক্ষ সাক্ষীকে জিজ্ঞাসা করেননি। খুনের অস্ত্রও পাওয়া যায়নি। বিচারক বলেন, ঘটনার ৩০ বছর বাদে খুনের অস্ত্র পাওয়া সম্ভব নয়। নিরপেক্ষ কারও পক্ষে এই ঘটনা ঠান্ডা মাথায় দেখাও সম্ভব নয়।