শেষ আপডেট: 30 December 2018 11:54
গৌতমী সেনগুপ্ত
পিরিয়ডসের সময় মহিলাদের শারীরিক কষ্ট হয়, আর সেটাই স্বাভাবিক। এই সহজ ভাবনা থেকে নিজের সংস্থায় ঋতুকালীন ছুটির ঘোষণা করলেন সাম্য দত্ত। ‘ফ্লাইমাইবিজ’ নামে একটি ডিজিটাল মিডিয়া সংস্থার কর্ণধার সাম্য, যিনি মনে করেন পিরিয়ডসের সময় ছুটি পাওয়া মহিলাদের প্রাপ্য। কলকাতায় বেশ কয়েকটি কর্পোরেট সংস্থা এই বিষয়টি নিয়ে ভেবেছে, কিন্তু এখনও করে উঠতে পারেনি। ব্যতিক্রম সাম্য, তিনি ভাবলেন আবার করেও দেখালেন, রাজ্যে সাম্যর সংস্থাই প্রথম যেখানে চালু হল মহিলা কর্মীদের ঋতুকালীন ছুটি। সংস্থার বয়স মাত্র এক বছর, কিন্তু পদক্ষেপ মনে রাখার মতোই । চলে গেলেন ‘ভারতীয় সিনেমার আইজেনস্টাইন’ মৃণাল সেন ‘পিরিয়ডস চলাকালীন একটা দিন মহিলারা আরামে ছুটি নিতে পারেন, এর জন্য অফিসের কোনও কাজ আটকে যাবে না’- এক সপ্তাহ আগে মহিলা কর্মীদের ডেকে এই কথাই বলেছিলেন বছর তিরিশের সাম্য । যা হতবাক করে ‘ফ্লাইমাইবিজ’-এর ১২ জন মহিলা কর্মীকে, ছুটির কথা শুনে এক অজানা আনন্দ কর্মীদের চোখে মুখে দেখেছিলেন সাম্য । দ্য ওয়ালকে জানালেন, ‘ওঁদের পরিশ্রমেই অফিস চলছে, আমি শুধু কর্মীদের সমস্যাগুলো বোঝার চেষ্টা করি, যাতে তাঁরা আমার অফিসে সম্মান নিয়ে কাজ করতে পারেন সেই দিকে নজর দিই, মহিলারা পিরিয়ডসের সময় বেশ কষ্ট করে অফিস করেন, সব সময় বলে উঠতে পারেন না, সেটা অফিসকে বুঝেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে ।‘
পিরিয়ডস হলে মহিলাদের আবেদন করে কেন ছুটি নিতে হবে ! এই প্রশ্ন বেশ কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা করে আসছে । সাম্যরও মত এক, কেন আবেদন, কেন এই ছুটি মহিলা কর্মীরা স্বাভাবিক নিয়মে পাবেন না!
সেই কারণেই নিজের সংস্থায় নোটিস ঝুলিয়েছেন তিনি, ঋতুকালীন ছুটির ঘোষণা মুখেই থেমে থাকেনি । তৈরি হয়েছে প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র। যেখানে লেখা রয়েছে, পিরিয়ডস চলাকালীন যে কোনও এক দিন ছুটি পাবেন মহিলারা। এর জন্য তাঁদের বেতন কাটা হবে না। শরীর খুব খারাপ থাকলে সেই ছুটির মেয়াদ বাড়বে।
দেশের মধ্যে সাম্যর কোম্পানি তৃতীয় যেখানে মহিলা কর্মীরা ঋতুকালীন ছুটি পাচ্ছেন।গোজুপ , কালচার মেশিনের মতো সংস্থাগুলি ২০১৭ সাল থেকেই মহিলা কর্মীদের জন্য এই নিয়ম চালু করে। দেশের মধ্যে মুম্বইয়ের দুটি কোম্পানির পরই সাম্যর ফ্লাইমাইবিজ সংস্থা নজির তৈরি করল।
ইনস্টাগ্রামে জ্বলজ্বল করছে ভারতের ‘ভুল’ মানচিত্র, নেটিজেনদের রোষের শিকার বিখ্যাত বলিউড ডিজাইনার আবু জানি-সন্দীপ খোসলা
যে কোনও অসুখ, যৌনতা যেমন স্বাভাবিক, প্রকৃতির ডাক যেমন স্বাভাবিক, মহিলাদের পিরিয়ডসও ঠিক ততটাই স্বাভাবিক। সাম্যর মতে, এই বিষয়টাই কলকাতার প্রত্যেকটি সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার বোঝা উচিত। তাই, শুধু ছুটিতেই থেমে থাকেননি, অফিসে স্যানিটারি ন্যাপকিনের ভেন্ডিং মেশিনও চালু করতে চলেছেন তিনি। আপাতত অফিসে মহিলাদের ওয়াশ রুমে মজুত থাকছে স্যানিটারি ন্যাপকিনের প্যাকেট, ঋতুকালীন ছুটির মতোই মেশিনও চালু হবে তাড়াতাড়ি।