
শেষ আপডেট: 16 May 2023 10:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঘটনাস্থল মধ্যপ্রদেশের সাগর জেলা। সেখানেই মঞ্চ বাঁধা হয়েছিল। ডায়াসে দাঁড়িয়ে জনধারণের উদ্দেশে ভাষণ দিচ্ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান। মুখ্যমন্ত্রীর সভা বলে কথা, চারদিক লোকে লোকারণ্য। তার মধ্যেই আচমকা ডায়াস থেকে কয়েক হাত দূরে এসে পড়ল বছর খানেক বয়সের একটি শিশু। বলা ভাল, উড়ে এসে পড়ল! সবাই তো হতবাক, ভাষণ থামিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। দেখা গেল, একরত্তি ছেলেকে কোলে নিয়ে ভাষণ শুনতে এসেছিলেন মুকেশ প্যাটেল নামে একজন শ্রমিক। তিনিই কোলের ছেলেকে ছুড়ে ফেলেছিলেন শিবরাজ সিং চৌহানের পায়ের কাছে (father throws child at CM)। উদ্দেশ্য, মুখ্যমন্ত্রীর নজর আকর্ষণ করা।
কিন্তু কেন হঠাৎ এভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইলেন তিনি? উত্তর হল, হতাশায়। মুকেশ জানিয়েছেন, তাঁর ১ বছরের ছেলের হৃদযন্ত্রে একটি ফুটো রয়েছে। কিন্তু তার চিকিৎসা এতটাই ব্যয়বহুল যে সন্তানকে চোখের সামনে শেষ হয়ে যেতে দেখা ছাড়া উপায় নেই তাঁর। যদি কোনওভাবে (Shivraj Singh Chouhan) মুখ্যমন্ত্রীর অনুগ্রহ পাওয়া যায়, সেই আশাতেই সন্তানকে ডায়াসের দিকে ছুড়ে দিয়েছিলেন তিনি। শিশুটির অবশ্য ক্ষতি হয়নি। মাটিতে পড়ার আগেই সামনে ভিড় করে দাঁড়িয়ে থাকা লোকজন ধরে নেয় তাকে। নিরাপত্তারক্ষীরা সঙ্গে সঙ্গেই শিশুটিকে তার মায়ের কোলে দিয়ে আসেন।
মুকেশ সাগরের কেসলি তেহশিলের সহজপুর গ্রামের বাসিন্দা। স্ত্রী নেহা এবং এক বছরের ছেলেকে নিয়ে সংসার। দিনমজুরের কাজ করে পেট চালান। ছেলের যখন ৩ মাস বয়স, তখনই তার হার্টে ফুটো আছে বলে জানা যায়। চিকিৎসকরা জানান, অস্ত্রোপচার করতে হবে। তার খরচ ৩ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা। দিনমজুরির কাজ করে ওই টাকা জোগাড় করার সামর্থ্য তাঁর নেই বলেই জানিয়েছেন মুকেশ। সন্তানের চিকিৎসার বিষয়ে সাহায্যের জন্য আগেও মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছিলেন তিনি। কিন্তু তাঁর বাসভবন অবধি পৌঁছানোর আগেই নিরাপত্তারক্ষী আটকে দেন মুকেশকে।
তাই নিরুপায় হয়ে রবিবার মুখ্যমন্ত্রীর জনসভায় পৌঁছে গিয়েছিলেন মুকেশ। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী নেহা এবং ছেলে। তারপরেই একসময় ছেলেকে ছুড়ে দেন স্টেজে।
এবার অবশ্য সফল হয়েছেন মুকেশ। মুখ্যমন্ত্রী সঙ্গে সঙ্গে জানতে চান, কেন এমন করলেন মুকেশ। তখনই সব কথা খুলে বলেন তিনি। এরপরেই মুকেশের ছেলের চিকিৎসার জন্য সবরকম সহায়তা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন শিবরাজ সিং চৌহান। সাগরের কালেক্টর দীপক আর্যকে ইতিমধ্যেই তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, মুকেশের ছেলের চিকিৎসার ফাইল যেন অবিলম্বে তাঁর দফতরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
ববিতার কান্না কোর্টে, ‘গাড়ি কিনে ফেলেছি, এতগুলো টাকা মেটাব কী ভাবে!’