দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত কয়েকদিন ধরে কাশ্মীরে সেনা ঘাঁটির ওপরে ড্রোনের দেখা মিলেছে। একদিন ড্রোন থেকে বোমাও ফেলা হয়েছিল। ভারত থেকে বলা হয়েছিল, এর পিছনে পাকিস্তানের হাত রয়েছে। এবার খোদ ইসলামাবাদে ভারতীয় হাইকমিশনের ওপরে দেখা গেল ড্রোন। ওই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে দিল্লি।
গত বুধবার শ্রীনগরে সেনাবাহিনীর ফিফটিনথ কোরের কম্যান্ডার ডি পি পাণ্ডে বলেন, শনিবার রাতে যেভাবে কাশ্মীরে বায়ুসেনার ঘাঁটির ওপরে বোমা ফেলা হয়েছে, তাতে স্পষ্ট, এর পিছনে কোনও রাষ্ট্রের মদত রয়েছে। পাকিস্তানের মদতপুষ্ট লস্কর ই তৈবা এবং জৈশ ই মহম্মদের মতো সংগঠনও ওই ড্রোন হানার সঙ্গে যুক্ত।
জম্মু-কাশ্মীরের পুলিশ কর্তা দিলবাগ সিং জানান, শনিবার গভীর রাতে বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার ঘটনাটি সন্ত্রাসবাদী হামলাই ছিল। ইতিমধ্যেই সন্ত্রাস দমন আইনে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। তবে আরও বড় একটি হামলার সম্ভাবনা ছিল, তা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। ভিড় এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটানোর পরিকল্পনা ছিল লস্করের।"
শনিবার রাত দেড়টা নাগাদ বায়ুসেনার ঘাঁটিতে বিস্ফোরণের পরে তদন্তে নেমে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় দেশি বোমা। শনিবার মধ্যরাতের নাশকতার সঙ্গে এই বোমা উদ্ধারের যোগসাজশ রয়েছে বলেই মনে করছে এনআইএ। উল্লেখ্য, জাতীয় তদন্তকারী সংস্থাই আপাতত গোটা বিষয়ে তদন্তের দায়িত্ব সামলাচ্ছে। পাশাপাশি বায়ুসেনা, ন্যাশনাল বম্ব ডেটা সেন্টার, ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞ ও জম্মু-কাশ্মীর পুলিশও সূত্রের খোঁজে তদন্ত করছে।
তদন্তকারীরা মনে করছেন, ধারাবাহিক বিস্ফোরণের ছক কষেছিল জঙ্গিরা। এই বিমানবন্দর থেকে পাকিস্তান সীমান্ত মাত্র ১৪ কিলোমিটার দূরে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, রাতের অন্ধকারে পাকিস্তান থেকেই ড্রোন পাঠানো হয়েছিল। এই বিস্ফোরণে দুই বায়ুসেনা কর্মী জখম হয়েছেন। বায়ুসেনা স্টেশনের টেকনিক্যাল সেন্টারের বিল্ডিংটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সোমবার রাতেও সেনা ঘাঁটির ওপরে দু’টি ড্রোন উড়তে দেখা যায়। সেনাবাহিনী গুলি চালালে ড্রোনগুলি পালায়। সেনাবাহিনী থেকে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়, এদিন রাত সাড়ে ১১ টা নাগাদ একটি ড্রোন দেখা যায়। অপর ড্রোনটি দেখা যায় রাত দেড়টা নাগাদ। সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়, "২৭ জুন মধ্যরাতে রাতনুচক-কালুচক সেনা ঘাঁটির কাছে দু'টি ড্রোন দেখা যায়। গুলি চালাতে দু'টি ড্রোনই পালিয়েছে।" পরে বলা হয়েছে, সেনাবাহিনীর সতর্কতার জন্য বড় হামলা এড়ানো গিয়েছে। তল্লাশি চলছে।
২০১৯ সালের অগাস্ট মাসে পাঞ্জাবের অমৃতসরে একটি গ্রামে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ দেখা যায়। পরের মাসে এক সন্ত্রাসবাদী ধরা পড়ে পুলিশের জালে। তাকে জেরা করে জানা যায়, ওই ড্রোনের মাধ্যমে অস্ত্রশস্ত্র ও মাদক পাঠানো হয়েছিল।