কেউ বলেন ‘প্রক্সি প্রধান’, কেউ বলেন ‘ডামি প্রধান’। আর যাঁর দিকে আঙুল উঠছে, তিনি তৃণমূলের ব্লক কিষান সেলের সভাপতি ও সুস্মিতার ভাশুর, অসিত দাস।

প্রতীকী ছবি।
শেষ আপডেট: 21 July 2025 19:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরের (Chandipur) নন্দপুর-বরাঘুনি গ্রাম পঞ্চায়েতের (Panchayat) আসল প্রধান কে? সরকারি খাতায় নাম সুস্মিতা দাস। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, প্রধান আসলে অন্য কেউ। কেউ বলেন ‘প্রক্সি প্রধান’, কেউ বলেন ‘ডামি প্রধান’। আর যাঁর দিকে আঙুল উঠছে, তিনি তৃণমূলের (TMC leader) ব্লক কিষান সেলের সভাপতি ও সুস্মিতার ভাশুর, অসিত দাস।
স্থানীয় তৃণমূল সূত্রেই জানা যাচ্ছে, সুস্মিতা দাস প্রধান হলেও কার্যত পঞ্চায়েত চালাচ্ছেন অসিতবাবুই। পঞ্চায়েত অফিসে প্রধান অনুপস্থিত থাকলেও তাঁর ভাইয়ের চেয়ার সবসময় দখল করে থাকেন অসিতবাবু, এমনটাই অভিযোগ এলাকাবাসীর।
একসময় সিপিএমের নেতা ছিলেন অসিত। ২০১৫ সালে দলবদল করে তৃণমূলে যোগ দেন। বর্তমানে ব্লক স্তরে প্রভাবশালী নেতাদের মধ্যে তিনি অন্যতম। প্রশ্ন উঠেছে—তাহলে কি প্রকৃত অর্থে তিনিই পঞ্চায়েত চালাচ্ছেন?
এই প্রসঙ্গে অসিতবাবুর সাফাই, “প্রধান পদ নিয়ে আমাদের দলের মধ্যেই লড়াই ছিল। শেষপর্যন্ত আমার ভাইয়ের স্ত্রী সুস্মিতা প্রধান হন। দলীয় একটা গোষ্ঠী প্রথম থেকেই আমাদের বিরুদ্ধে। তাই আমি পাশে থাকি। উনি উচ্চ মাধ্যমিক পাশ। আগেও পঞ্চায়েত কর্মী তাঁকে ভুল বুঝিয়ে সই করিয়ে নিয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই এখন তাঁকে গাইড করি।”
কিন্তু শুধুই ‘গাইড’ করার জন্য এমন সক্রিয় ভূমিকা? বিরোধীরা মানতে নারাজ।
পঞ্চায়েতের বিরোধী দলনেতা অনুপম বেরা বলেন, “সুস্মিতা দেবীর ত্রিস্তর পঞ্চায়েত সম্পর্কে ন্যূনতম জ্ঞান নেই। ভাশুরই সব সামলান। ঠিকাদারদের সঙ্গে কথা বলা থেকে শুরু করে ফাইল পাশ—সবকিছুতেই তিনিই মুখ্য। তাঁর জন্য আলাদা চেয়ার রাখা আছে প্রধানের পাশেই!”
অর্থ খরচের নিরিখে ওই পঞ্চায়েতের অবস্থাও যথেষ্ট দুর্বল। ২০২৪-’২৫ অর্থবর্ষে ৪৭ লক্ষ ৭৬ হাজার ৪১৫ টাকা বরাদ্দ হলেও খরচ হয়েছে মাত্র ২০ লক্ষ ৮৫ হাজার ৭৭৮ টাকা। পড়ে রয়েছে প্রায় ২৭ লক্ষ টাকা। অর্থাৎ, মোট খরচ মাত্র ৪৩.৬৭ শতাংশ। চণ্ডীপুর ব্লকের দশটি পঞ্চায়েতের মধ্যে নন্দপুর-বরাঘুনির স্থান একেবারে শেষে। গোটা জেলায় ২২৩টি পঞ্চায়েতের মধ্যে এই পঞ্চায়েত রয়েছে ২২১ নম্বরে।
প্রধান সুস্মিতা দাস বলেন, “দলের ভিতরে কিছু সমস্যা ছিল, যার জন্য উন্নয়ন ব্যাহত হয়েছে। পঞ্চায়েত কর্মীর সহযোগিতা না পাওয়াটাও একটা কারণ। তবে এখন পরিস্থিতি বদলেছে। আমি নিজেও শারীরিক অসুস্থতার কারণে মাঝে নিয়মিত অফিসে যেতে পারিনি। এখন যাচ্ছি। বাকি টাকাগুলো দ্রুত খরচ করার উদ্যোগ নিচ্ছি।”
এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের অবস্থান কী? চণ্ডীপুরের বিডিও শাশ্বতপ্রকাশ লাহিড়ি বলেন, “পঞ্চায়েতের পারফরম্যান্স খারাপ। সঠিক পরিকল্পনার অভাবে সমস্যা হয়েছে। তবে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে অনেকটাই অর্থ খরচ হয়ে যাবে।”
তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, যিনি অফিসে আসেন না, সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না, তাঁকে বসিয়ে রেখে প্রকৃত ক্ষমতা যাঁর হাতে, তিনিই কি আদতে পঞ্চায়েতের চালক?