দ্য ওয়াল ব্যুরো: পরনে লুফৎহানসা এয়ারলাইন্সের পাইলটের পোশাক। কোনও সিকিউরিটি চেকিংয়ের ব্যাপারই নেই। সটান চেপে বসেছেন বিমানে। দিল্লি ইন্দিরা গান্ধী বিমানবন্দর থেকে এমনই এক ছদ্মবেশী পাইলটকে পাকড়াও করেছে সিআইএসএফ। পুরোপুরি পাইলটের সাজে ওই ব্যক্তিকে দেখে রীতিমতো হইচই কাণ্ড বিমানবন্দরে। নিরাপত্তারক্ষীদের চোখকে ফাঁকি দিয়ে শেষে কি না পাইলট সেজে বিমানে? কোনও আততায়ী নয় তো?
ঘটনা গতকাল, মঙ্গলবারের। সিআইএসএফ জানিয়েছে, ওই ছদ্মবেশীর নাম রাজন মেহবুবানি। বয়স পঞ্চাশের কোঠায়। পাইলট সেজে কলকাতাগামী এয়ার এশিয়ার বিমানে চেপে বসেছিলেন রাজন। সিআইএসএফ পাকড়াও করতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। অপরাধ স্বীকার করে জানান, তিনি কোনও সন্ত্রাসবাদী নন। নিছকই একজন ‘টিকটক আর্টিস্ট।’ নানারকম পোশাকে সেজে ফোটো তুলতে ভালবাসেন। আর পাইলট সাজলে সিকিউরিটি চেকিংয়ের ঝক্কি পোহাতে হয় না। লম্বা লাইনেও দাঁড়াতে হয় না। তাই এই ফন্দি।
ধৃতের বয়ান শুনে অবশ্য মোটেই খুশি হননি সিআইএসএফের কর্তারা। বারংবার তাঁকে জেরা করে জানা যায়, একবার নয় বরং ১৫ বার এমন পাইলট সেজে নিরাপত্তারক্ষীদের চোখকে ফাঁকি দিয়েছেন তিনি। এমনকী তাঁর কাছে পাইলটের যে আইডি কার্ড ও নথিপত্র রয়েছে, সেসবও ভুয়ো।
সিআইএসএফের এক অফিসারের কথায়, দিল্লির বসন্তকুঞ্জের বাসিন্দা রাজন। ব্যাঙ্ককেক গিয়ে লুফৎহানসা এয়ারলাইন্সের ভুয়ো পরিচয়পত্র বানিয়েছিলেন। তারপর সেই আইডি নিয়ে এবং লুফৎহানসা এয়ারলাইন্সের পাইলটের মতো পোশাক পরে দিনের পর দিন বিমানে চেপে দেশ-বিদেশ ঘুরে বেরিয়েছেন। এমন সাজে নিজের ইউটিউব ও টিকটক ভিডিও বানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া আপলোডও করেছিলেন রাজন।
গত সোমবার জার্মান বিমানসংস্থার চিফ সিকিউরিটি অফিসার সিআইএসএফকে সতর্ক করে জানান, লুফৎহানসা এয়ারলাইন্সের পাইলটের সাজে এক সন্দেহজনক যাত্রীকে প্রায়ই দেখা যাচ্ছে বিমানে। তাঁর সঙ্গে বিমানসংস্থার কোনও যোগসূত্র নেই। এরপরেই তক্কে তক্কে ছিল সিআইএসএফ। গতকাল হাতেনাতে ধরা হয় রাজনকে। শুধুমাত্র টিকটক ভিডিও আপলোড ও কিছু বাড়তি সুবিধা পাওয়ার জন্য তিনি এই কাজ করছিলেন নাকি অন্য কোনও উদ্দেশ্য রয়েছে, সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।