ধর্ষণের সময় নাবালক ছিলাম,' ফাঁসি এড়াতে মরিয়া চেষ্টা পবনের, পিটিশন দাখিল সুপ্রিম কোর্টে
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফাঁসি এড়ানোর সব রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে এক আসামির। বাকি একজন গতকালই প্রাণভিক্ষার আর্জি জানিয়েছে রাষ্ট্রপতির কাছে। আর এক অপরাধী আজ ফের দাবি করে বসেছে ২০১২ সালে নির্ভয়া গণধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের সময় সে নাবালক ছিল। সুপ্রিম কোর্ট তা
শেষ আপডেট: 30 January 2020 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফাঁসি এড়ানোর সব রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে এক আসামির। বাকি একজন গতকালই প্রাণভিক্ষার আর্জি জানিয়েছে রাষ্ট্রপতির কাছে। আর এক অপরাধী আজ ফের দাবি করে বসেছে ২০১২ সালে নির্ভয়া গণধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের সময় সে নাবালক ছিল। সুপ্রিম কোর্ট তার নাবালকত্ব প্রমাণের আর্জি খারিজ করে দেওয়ায়, সেই রায়কেই ফের চ্যালেঞ্জ জানিয়ে শীর্ষ আদালতে পিটিশন দাখিল করেছে আসামি পবনকুমার গুপ্ত। ফলে আগামীকাল ১ ফেব্রুয়ারি চার দোষীর একসঙ্গে ফাঁসির সম্ভাবনা আরও কমল বলেই মনে করা হচ্ছে।
বারবার একই আবেদন-নিবেদন। নিজেকে নাবালক সাজানোর মরিয়া চেষ্টা পবনের। এর আগেও তার এই আর্জি খারিজ করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। পবনের আইনজীবী এপি সিংয়ের দাবি, হাতে এখনও অনেক পথ খোলা আছে পবনের। ফাঁসির সাজা মকুবের আর্জি জানিয়ে তার রিভিউ পিটিশন খারিজ হয়েছে। এখনও কিউরেটিভ পিটিশন দাখিল হয়নি। তা খারিজ হলে প্রাণভিক্ষার আর্জির সুযোগ রয়েছে। আপাতত নাবালকত্ব নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জকে জানিয়ে পিটিশন দাখিল করেছে পবন গুপ্ত।
বস্তুত, আগামীকাল নির্ভয়ার চার ধর্ষকের ফাঁসির দিন ধার্য হয়েছে। চার আসামিকে ফাঁসিকাঠে ঝোলাতে তিহাড়ে এসে পৌঁছেছেন পবন জল্লাদ। আজ, শুক্রবার তিহাড়ে ফাঁসির ‘ডামি’ মহড়াও হওয়ার কথা। জেল কর্তৃপক্ষের কথায়, রীতিমতো দরাদরি করার মতো বারবার নানারকম আবেদন করছে অপরাধীরা। কখনও ফাঁসির সাজা মকুবের আবেদন করছে সুপ্রিম কোর্টে, কখনও প্রাণভিক্ষা আবেদন করছে রাষ্ট্রপতির কাছে। কখনও আবার আবেদন করছে, ঘটনার সময়ে এক অপরাধী নাবালক ছিল বলে। প্রতিবারই এই সব আবেদন খারিজ হচ্ছে বটে, তাতে সময় নষ্ট হচ্ছে অনেকটাই।
এর আগেই দিল্লি হাইকোর্টে অপরাধী পবনের আবেদন ছিল, নির্ভয়াকে ধর্ষণ করে খুন করার নৃশংস ঘটনার সময়ে সে প্রাপ্তবয়স্ক হয়নি। তাই অন্যদের সমান শাস্তি তার জন্য নয়। স্কুলের সার্টিফিকেট দেখিয়ে তার আইনজীবী প্রমাণ করার চেষ্টা করে, নির্ভয়া গণধর্ষণ কাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকলেও তখন সে নাবালক ছিল। তাই মকুব করা হোক ফাঁসির সাজা। আদালত খতিয়ে দেখে জানিয়ে দেয়, তার বয়সের শংসাপত্র বলছে ২০১২ সালে পবনের বয়স ছিল ১৮। অর্থাৎ সে প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে গেছিল তখন। ফলে খারিজ হয় আবেদন। আবারও একই আবেদন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ পবন গুপ্তের আইনজীবী।
তার এই আচরণের বিরোধিতা করে সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা সওয়াল করেছেন, পবন ক্রমাগত নিজেকে নাবালক প্রমাণে মরিয়া। আর বিচারের প্রত্যেক ধাপে আলাদা আলাদা ভাবে একই কাজ করছে সে। এভাবে বারবার তাকে সুযোগ দেওয়া হলে রীতিমতো প্রহসনে পরিণত হবে বিচার ব্যবস্থা। অন্যায় হবে নির্ভয়ার সঙ্গে।
বস্তুত, ফাঁসির চার আসামির মধ্যে মুকেশ সিংয়ের প্রাণভিক্ষার আর্জিও রাষ্ট্রপতি খারিজ করে দিয়েছেন। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে গেলে, বিচারপতি আর ভানুমতীর বেঞ্চ সেটাও খারিজ করে দেয়। মুকেশের সামনে কার্যত আর কোনও রাস্তা খোলা নেই। অক্ষয় ঠাকুর রিভিউ পিটিশন খারিজ হয়েছে। কিউরেটিভ পিটিশন জমা পড়লেও তা খারিজ করে দেয় শীর্ষ আদালত। এখনও তার প্রাণভিক্ষার আর্জি জানানোর পথ খোলা আছে। রিভিউ ও কিউরেটিভ পিটিশন খারিজ। তার নামে প্রাণভিক্ষার আর্জি জমা পড়েছে। কিন্তু সেই আর্জি তার নয় বলে বিনয় রাষ্ট্রপতিকে চিঠি লিখেছে।