
শেষ আপডেট: 3 November 2023 07:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ডিএ বা মহার্ঘভাতা নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের দায়ের করা মামলার শুনানি শুক্রবার হতে চলেছে সুপ্রিমকোর্টে।
সপ্তাহ ঘুরলেই দীপাবলি। আলোর রোশনাইয়ে ভাসবে সারা দেশ। তার আগে কী রাজ্যের সরকারি কর্মচারীরা সুখবর পাবেন? নাকি অতীতের মতো ফের পিছিয়ে যাবে ডিএ মামলার শুনানি? জল্পনায় ফুটছে রাজনৈতিক মহল।
মামলাকারীদের অভিযোগ, প্রতিবছরই কেন্দ্রীয় সরকার তাঁর কর্মচারীদের ডিএ দিলেও এরাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে কর্মচারীদের ডিএ বকেয়া রাখা হয়েছে। বকেয়া ডিএর পরিমাণ প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা। বারবার রাজ্যকে অনুরোধ উপরোধ করেও কাজ না হওয়ায় বকেয়া ডিএ-র দাবিতে রাজ্যের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন সরকারি কর্মচারীদের একাংশ।
ওই মামলায় রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘভাতা দ্রুত মিটিয়ে দেওয়ার জন্য গত বছর ২০ মে রাজ্যকে নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। এজন্য রাজ্যকে তিনমাসের সময়সীমাও বেঁধে দেয় আদালত। কলকাতা হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতে পাল্টা মামলা দায়ের করে রাজ্য সরকার।
এমনকী রাজ্য সরকারের বঞ্চনার বিরুদ্ধে কলকাতার শহিদ মিনারে অনশনও করছেন একাধিক সরকারি কর্মচারী। তাঁদের অনশন তুলে নেওয়ার আর্জিও জানিয়েছেন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস। তাঁর সঙ্গে রাজভবনে গিয়ে সাক্ষাতও সেরে এসেছেন আন্দোলনকারীরা। অন্যদিকে রাজ্যের বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতিতে কর্মচারীদের 'অন্যায় আবদার' মেনে নেওয়া সম্ভব নয় বলে আগেই স্পষ্ট করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, "স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইব্যুনাল যখন রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দেওয়ার কথা বলেছে, তখন সুপ্রিম কোর্টেও আশা করা যায় কর্মচারীদের জয় হবে। বর্ধিত হারে ডিএ রাজ্যকে দিতেই হবে।"
এ ব্যাপারে তৃণমূলের এক রাজ্য নেতার প্রতিক্রিয়া, শুভেন্দুদের কর্মচারীদের প্রতি কোনও দরদ নেই। ওঁরা আশা করছে যে সুপ্রিম কোর্ট বর্ধিত হারে ডিএ দিতে হলে রাজ্য সরকার চাপে পড়বে। আর তার থেকে তাঁরা রাজনৈতিক ফায়দা নেবে। বাস্তব হল, বাংলায় তৃণমূলের পরিবর্তে অন্য কোনও সরকার থাকলেও বর্ধিত হারে ডিএ দেওয়ায় সমস্যা ছিল। অতীতে বামেরা কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দিতে পারেনি। ঠিক সময়ে পে কমিশন বাস্তবায়িত করতে পারেনি। এমন নয় যে বাংলায় বিজেপি বা অন্য কেউ ক্ষমতায় চলে এলে কেন্দ্র ডিএ বাবদ টাকা দেবে না। সেই রাজস্ব আয় করতে হবে রাজ্য সরকারকেই। কোনও জাদুদণ্ডের মাধ্যমেও রাতারাতি কয়েক হাজার কোটি টাকা রাজস্ব বাড়ানো সম্ভব নয়।
তবে কর্মচারীদের সংগঠনের বক্তব্য, এবার কিছু একটা হেস্তনেস্ত হতে পারে। তবে শুক্রবারই শীর্ষ আদালত চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করবে এমনটা মনে করছেন না তাঁরা। রাজ্য সরকারি কর্মচারী সংগঠন কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজের সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন, ১৪ জুলাই যখন সুপ্রিম কোর্টে ডিএ মামলা উঠেছিল, তখনই জানানো হয়েছিল যে বিস্তারিত শুনানি হতে চলেছে। অর্থাৎ ডিএ মামলার চূড়ান্ত ফয়সালা আসতে কিছুটা সময় লাগতে পারে বলে ধারণা রাজ্য সরকারি কর্মচারী সংগঠনের।