
শেষ আপডেট: 9 November 2023 17:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: সিঙ্গুর জমি আন্দোলন অন্য মাত্রা পেয়েছিল সুহৃদ দত্ত সিবিআই এর হাতে গ্রেফতার হওয়ায়। ৭৭ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন সিঙ্গুরের সেই সিপিএম নেতা । দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে এগারোটা নাগাদ অপূর্বপুরের বাড়িতে মৃত্যু হল তাঁর। আজীবন সিপিএম সদস্য ছিলেন অকৃতদার সুহৃদবাবু।
২০০৬ সালের ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গুরে টাটাদের ন্যানো কারখানার জমি থেকে বাজেমেলিয়ার তরুণী তাপসী মালিকের অর্ধদগ্ধ মৃতদেহ উদ্ধার হয়। সিঙ্গুরের জমি আন্দোলনের থাকা তাপসীকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। যদিও সিবিআই চার্জশিটে ধর্ষণের ধারা ছিল না। সেসময় বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ধর্মতলায় অনশন আন্দোলন করছেন কৃষকদের পক্ষে। সিবিআই সেই মামলার তদন্তভার নেওয়ার পর সিপিএম কর্মী দেবু মালিককে গ্রেফতার করে। দিল্লি থেকে গ্রেফতারের পর পাটিয়ালা আদালতে পেশ করে ট্রানজিট রিমান্ডে কলকাতায় নিয়ে আসা হয়।
দেবু মালিককে জেরা করে তৎকালীন সিপিএম সিঙ্গুর জোনাল কমিটির সম্পাদক সুহৃদ দত্তকে জেরা করে সিবিআই। ২০০৭ সালের ২৭ জুন সিজিও কমপ্লেক্সে ডেকে গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। তাদের দুজনেরই পলিগ্রাফ টেস্ট হয়। চন্দননগর আদালতে মামলা চলতে থাকে। ২০০৮ সালের ১১ ই নভেম্বর সুহৃদ-দেবু দুজনেরই যাবজ্জীবন সাজা হয় নিম্ন আদালতে। পরে কলকাতা হাইকোর্ট থেকে জামিন পান তারা। সেই মামলার এত বছরেও নিষ্পত্তি হয়নি। সিপিএম নেতৃত্ব বারবার অভিযোগ করেছেন সুহৃদ দত্ত ষড়যন্ত্রের শিকার। যে মামলায় নিম্ন আদালত তাকে সাজা দিয়েছিল হাইকোর্ট সেই মামলায় জামিন পেয়েছিলেন।
১৯৬৭ সালে সিপিএম পার্টির সদস্য পদ পান সুহৃদ দত্ত। ১৯৮২-৮৩, কৃষকসভার হুগলি জেলা সম্পাদক ছিলেন। সিঙ্গুর জোনাল কমিটির সদস্য ছিলেন ১৯৭৩ সাল থেকে ২০১৩ পর্যন্ত। সিঙ্গুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ছিলেন ১৯৮৩ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত টানা তিনবার। মৃত্যু সংবাদ পাওয়ার পর সিপিএম নেতৃত্ব তাঁর বাড়িতে যান। বৈদ্যবাটি হাতিশালা ঘাটে এদিন তাঁর অন্ত্যেষ্টি হয়।