Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
শয়তান বা কালু বলে আর ডাকা যাবে না! স্কুলের খাতায় পড়ুয়াদের নতুন পরিচয় দিচ্ছে রাজস্থান সরকার‘পাশে মোল্লা আছে, সাবধান!’ এবার শুভেন্দুর বিরুদ্ধে কমিশনে নালিশ তৃণমূলেরWest Bengal Election 2026: বাম অফিসে গেরুয়া পতাকা! মানিকচকে চরম উত্তেজনা, থানায় বিক্ষোভ বামেদেরপয়লা বৈশাখে শুটিং শুরু, যিশুর কামব্যাক—‘বহুরূপী ২’ কি ভাঙবে সব রেকর্ড?‘কেকেআরের পাওয়ার কোচ রাসেল ২৫ কোটির গ্রিনের থেকে ভাল!’ আক্রমণে টিম ইন্ডিয়ার প্রাক্তন তারকাবিহারে আজ থেকে বিজেপি শাসন, রাজনীতির যে‌ অঙ্কে পদ্মের মুখ্যমন্ত্রী আসলে নীতীশেরই প্রথম পছন্দঅশোক মিত্তলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইডি, ক'দিন আগেই রাজ্যসভায় রাঘব চাড্ডার পদ পেয়েছেন এই আপ সাংসদ West Bengal Election 2026: প্রথম দফায় ২,৪০৭ কোম্পানি বাহিনী! কোন জেলায় কত ফোর্স?IPL 2026: ভাগ্যিস আইপিএলে অবনমন নেই! নয়তো এতক্ষণে রেলিগেশন ঠেকানোর প্রস্তুতি নিত কেকেআর TCS Scandal: যৌন হেনস্থা, ধর্মান্তরে চাপ! নাসিকের টিসিএসকাণ্ডে মালয়েশিয়া-যোগে আরও ঘনাল রহস্য

মোদীর বিরুদ্ধে নাগরিক ঐক্যের ডাক সনিয়ার, আম্বেদকর জয়ন্তীতে কলম ধরলেন কংগ্রেস নেত্রী

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভীমরাও রামজি আম্বেদককের ১৩২তম জন্মজয়ন্তীতে (Ambedkar Jayanti)সংবিধান রচনায় তাঁর অবদান স্মরণ করলেন কংগ্রেস নেত্রী সনিয়া গান্ধী (Sonia Gandhi)। শুক্রবার একটি ইংরিজি দৈনিকে সনিয়ার লেখা ‘লারনিং ফ্রম বাবাসাহেব’ শীর্ষক নিবন্ধ প

মোদীর বিরুদ্ধে নাগরিক ঐক্যের ডাক সনিয়ার, আম্বেদকর জয়ন্তীতে কলম ধরলেন কংগ্রেস নেত্রী

শেষ আপডেট: 14 April 2023 08:47

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভীমরাও রামজি আম্বেদককের ১৩২তম জন্মজয়ন্তীতে (Ambedkar Jayanti)সংবিধান রচনায় তাঁর অবদান স্মরণ করলেন কংগ্রেস নেত্রী সনিয়া গান্ধী (Sonia Gandhi)। শুক্রবার একটি ইংরিজি দৈনিকে সনিয়ার লেখা ‘লারনিং ফ্রম বাবাসাহেব’ শীর্ষক নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।

প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি সেই নিবন্ধে সংবিধান রচনার দিনগুলিতে বিভিন্ন বিষয়ে বাবাসাহেবের অভিমত এবং সংবিধানের মূল বার্তার উল্লেখ করে তুলে ধরছেন দেশের বর্তমান পরিস্থিতি। চলতি বিপন্নতার মুখে দেশ ও সংবিধান রক্ষায় নাগরিক ঐক্য গড়ে তোলার ডাক দিয়েছেন। বলেছেন, ‘রাজনৈতিক দল, ইউনিয়ন, সংগঠন, ব্যক্তি ও নাগরিক সমাজ, প্রত্যেককে এই সময় ভূমিকা পালন করতে হবে। সেই ঐক্য গড়ার পাথেয় হোক আম্বেদকরের কথা।’ শুক্রবার দিল্লিতে আম্বেদকরের মূর্তিতে শ্রদ্ধা নিবেদনে অনুষ্ঠানে একই সময় উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রধানমন্ত্রী মোদী (Modi) ও সনিয়া। তবে সেখানে সৌজন্য বিনিময় নমস্কার-প্রতি নমস্কারেই সীমাবদ্ধ ছিল। কথা হয়নি তাঁদের মধ্যে।

নিবন্ধে সনিয়ার বক্তব্যের পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে বাবাসাহেবের ১২৩ তম জন্মজয়ন্তীকে কেন কলম ধরলেন কংগ্রেস নেত্রী? আসলে নরেন্দ্র মোদীর বিজেপি যেমন কংগ্রেস নেতা, দেশের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্দার বল্লভ ভাই প্যাটেলকে আদর্শ পুরুষ ঘোষণা করে প্রয়াত স্বাধীনতা সংগ্রামীকে কার্যত গেরুয়া শিবিরের নেতা হিসাবে তুলে ধরেছে, তেমনই আম্বেদকরকেও আঁকড়ে ধরেছে তারা। ৬ এপ্রিল দলের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ১৪ এপ্রিল আম্বেদকর জয়ন্তী পর্যন্ত টানা দলীয় কর্মসূচি ঘোষণা করেন। আসলে ভোটের কৌশল এবং রাজনৈতিক লক্ষ্যপূরণে বিজেপি এখন উচ্চবর্ণের পার্টির তকমা ছেড়ে হিন্দুর ঐক্য গড়তে উদ্যোগী হয়েছে। দলিত, আদিবাসী, ওবিসিদের কাছে টানতে মরিয়া দল। লক্ষ্যপূরণে আম্বেদকরকে আইকন করেছেন মোদী, অমিত শাহরা।

সনিয়া তাই নিবন্ধে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন, কীভাবে মোদী সরকার আম্বেদকরের তৈরি সংবিধানকেই পদে পদে অস্বীকার করছে। কংগ্রেস নেত্রী লিখেছেন, ‘আমাদের অবশ্যই বাবাসাহেবের সতর্কবাণী মনে রাখতে হবে যে, সংবিধানের সাফল্য নির্ভর করে দেশের শাসন ভার কাদের হাতে অর্পিত।’

এই প্রশ্নেই কংগ্রেস নেত্রী নিশানা করেছেন নরেন্দ্র মোদীর সরকারের নীতি এবং গেরুয়া শিবিরের কর্মসূচিকে। তাঁর কথায়, ‘আজ, ক্ষমতায় থাকা শাসকগোষ্ঠী সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির অপব্যবহার ও সেগুলিকে ধ্বংস করছে এবং সেগুলির স্বাধীনতা, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিকে দুর্বল করে দিচ্ছে।’

সনিয়া আরও লিখেছেন, ‘বর্তমান শাসকেরা আইনের অপব্যবহার করে মানুষকে তাদের অধিকার রক্ষার পরিবর্তে হয়রানি করছে। ব্যক্তি স্বাধীনতা হুমকির সম্মুখীন।’

রাহুল গান্ধীর মতো সরাসরি আম্বানি, আদানিদের নাম না করলেও সনিয়া তাঁর পুত্রের সুরেই অভিযোগ তুলেছেন, ‘বর্তমান সরকার তার বন্ধুদের প্রতি সদয়। তারফলে দেশবাসী অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’

এই প্রসঙ্গে কংগ্রেসের অতীত অবদান তুলে ধরেছেন দলনেত্রী। তিনি লিখেছেন, ‘সমস্ত দেশবাসীর কল্যাণে কংগ্রেস সরকারের নেওয়া উদ্যোগগুলি আজ চ্যালেঞ্জের মুখে। ১৯৯১ সালে কংগ্রেস সরকারের গৃহীত অর্থনৈতিক সংস্কার মানুষের জীবনে সমৃদ্ধি এনেছিল। কিন্তু বর্তমান সরকারের সময়ে বাড়ছে শুধু অর্থনৈতিক বৈষম্য। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলিকে নির্বিচারে বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে যা দলিত, আদিবাসী এবং ওবিসিদের নিরাপত্তা এবং সামাজিক গতিশীলতা প্রদান করেছিল।’

কংগ্রেস নেত্রী সরব হয়েছেন ঘৃণার রাজনীতির বিরুদ্ধেও। সনিয়া লিখেছেন, ‘ইচ্ছাকৃতভাবে ঘৃণার পরিবেশ তৈরি করে মেরুকরণের মাধ্যমে ভ্রাতৃত্ববোধ নষ্ট করা হচ্ছে। বিচার বিভাগকে লাগাতার নিশানা করে চলেছে শাসক গোষ্ঠী।’

সনিয়ার কথায়, ‘এই পরিস্থিতিতে নাগরিক কর্তব্য হল জোরালোভাবে বিতর্ক এবং দ্বিমত পোষণ করা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জাতির স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করা সময়ের দাবি।’ এই বিষয়ে কংগ্রেস নেত্রী স্বাধীনতার সংগ্রামে মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহেরু, ডক্টর আম্বেদকর, সর্দার প্যাটেলদের মত বিরোধের কথা উল্লেখ করেছেন। বলেছেন, ‘দেশের ভবিষ্যতের জন্য তা জরুরি ছিল। বিতর্ক করেও তারা অভিন্ন লক্ষ্যে অবিচল ছিলেন।’

সনিয়ার দ্বিতীয় আহ্বান হল, ভ্রাতৃত্বের চেতনাকে উৎসাহিত করা, যা জাতির ভিত্তি। কংগ্রেস নেত্রী লিখেছেন, ‘আম্বেদকর বর্ণপ্রথাকে ‘জাতীয়তা বিরোধী’ মনে করতেন, কারণ এটি বিচ্ছেদ ঘটায়, হিংসা, বিদ্বেষ সৃষ্টি করে। আজ, প্রকৃত ‘জাতীয়তা বিরোধী’ তারাই যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে ধর্ম, ভাষা, বর্ণের ভিত্তিতে ভারতীয়দের বিভক্ত করছে।’

কংগ্রেস নেত্রী নিবন্ধ শেষ করেছেন আশার কথা দিয়ে। সনিয়া লিখেছেন, ‘সৌভাগ্যক্রমে, শাসকের অপচেষ্টা সত্ত্বেও, ভ্রাতৃত্ববোধ ভারতীয়দের মধ্যে গভীরভাবে বজায় আছে। কোটি কোটি ভারতীয় ধর্মীয় বিভাজনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছেন। কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। কোভিড মহামারীর সময় মানুষ সামর্থ অনুযায়ী সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। আমাদের সর্বদা এই ভ্রাতৃত্ববোধকে লালন করতে হবে পরিবার, সম্প্রদায় এবং প্রতিষ্ঠানগুলিতে।’

রাজ্যপাল পাগলা হাতির মতো ঘুরছেন, নবান্নকে অন্ধকারে রেখে উপাচার্য নিয়োগ বরদাস্ত নয়: ব্রাত্য


```