দ্য ওয়াল ব্যুরো : দিল্লির চারটি হাসপাতালের দেওয়া হিসাবে দেখা যাচ্ছে, করোনায় মারা গিয়েছেন ৯২ জন। কিন্তু দিল্লির সরকার বলছে, মৃতের সংখ্যা ৬৮। শুক্রবার রাজধানীতে ঠিক কতজন কোভিড ১৯ রোগে মারা গিয়েছেন, তা নিয়ে দেখা গিয়েছে বিভ্রান্তি।
শুক্রবারের হেলথ বুলেটিনে দিল্লি সরকার জানায়, ১০ টি হাসপাতাল থেকে যা হিসাব পাওয়া গিয়েছে, সেই অনুযায়ী বলা হচ্ছে, এদিন শহরে মারা গিয়েছেন ৬৮ জন। যে হাসপাতালগুলির থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, তাদের মধ্যে আছে এইমস, সফদরজং হাসপাতাল, রামমনোহর লোহিয়া হাসপাতাল এবং লেডি হার্ডিঞ্জ মেডিকেল কলেজ।
হেলথ বুলেটিনে উল্লেখ করা হয়েছে এইমসের দিল্লি ও ঝজ্জর শাখায় মোট দু’জন মারা গিয়েছেন। সফদরজং হাসপাতালে মারা গিয়েছেন চারজন। আরএমএল-এ মারা গিয়েছেন ২৬ জন। লেডি হার্ডিঞ্জে শুক্রবার অবধি একজনও মারা যাননি। কিন্তু ওই হাসপাতালগুলির এক উচ্চপদস্থ অফিসার জানিয়েছেন, মৃত্যুর সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি। তাঁর হিসাব অনুযায়ী, এইমসের দিল্লি ট্রমা সেন্টার ও ঝজ্জরে মারা গিয়েছেন ১৪ জন। এইমসের মেডিকেল সুপারিনটেনডেন্ট ডি কে শর্মা বলেন, সরকার সম্ভবত কেবল ট্রমা সেন্টার থেকে মৃত্যুর হিসাব নিয়েছে। ঝজ্জরে কতজন মারা গিয়েছেন, সেই হিসাব নেয়নি।
সফদরজং হাসপাতালে করোনায় মারা গিয়েছেন ২৩ জন। হাসপাতালের এক প্রবীণ চিকিৎসক বলেন, “সরকার আমাদের থেকে তথ্য চাইছে। আমরা তাদের রোজ সঠিক তথ্য পাঠাচ্ছি। তা সত্ত্বেও সমস্যা হচ্ছে কেন জানি না।”
আরএমএল হাসপাতালে মারা গিয়েছেন ৫২ জন। হাসপাতালের মেডিকেল সুপারিনটেনডেন্ট মীনাক্ষী ভরদ্বাজ বলেন, “আমরা রোজ সরকারকে সঠিক তথ্য পাঠাই। তা সত্ত্বেও বুলেটিনে কেন ভুল হিসাব দেওয়া হচ্ছে জানি না।” লেডি হার্ডিঞ্জের ডিরেক্টর এন এন মাথুর বলেন, তাঁরা সরকারকে জানিয়েছেন, তাঁদের হাসপাতালে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
হিসাবের এই গরমিল প্রকাশ্যে আসার পরে দিল্লির স্বাস্থ্যমন্ত্রী সত্যেন্দর জৈন বলেন, সরকার তথ্য গোপন করছে না। তাঁর কথায়, “আমরা যদি সত্য গোপন করতে চাইতাম, তাহলে বৃহস্পতিবারের বুলেটিনে ৪৪৮ জনের মৃত্যুর হিসাব দিতাম না। আমরা তার জায়গায় ৪৮ জনের মৃত্যুর হিসাব দিতাম। মৃত্যুর খবর পেলেই হাসপাতালগুলির উচিত সঙ্গে সঙ্গে সরকারকে জানানো।”