
শেষ আপডেট: 16 August 2022 08:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গতবছর পুজোর আগেই সংস্কারের কাজ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু তা এবছর পুজোর আগেও হল না! বহুবছর ধরেই বলা হচ্ছে সংস্কার করা হবে গম্বুজ। সারানো হবে থেমে যাওয়া ঘড়িটিকেও (Clock)। ফের সচল হবে হগ মার্কেটের ঘড়ি (Hogg Market)। কিন্তু আজও তা হয়নি। কলকাতা পুরসভার (Kolkata) তরফে বহুবার বিভিন্ন আশ্বাস দেওয়া হলেও, তা আজও বাস্তবায়িত হয়নি।
পুরসভার বাজার বিভাগের মুখ্য বাস্তুকার দেবাশিস চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, মূল সমস্যা ও নিরাপদে সংস্কারের জন্য তাঁরা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বারস্থ হয়েছেন। গতবছর পুজোর আগেই যাদবপুরের ওই বিশেষজ্ঞদের রিপোর্ট দেওয়ার কথা। কিন্তু সেই রিপোর্ট জমা পড়েনি।
মঙ্গলবার তিনি বললেন, ‘এখনও রিপোর্ট দেয়নি যাদবপুর। যে কারণে কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি।’
যাদবপুরের কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক বিশ্বজিৎ সোম বিষয়টির দায়িত্বে ছিলেন। তিনি বললেন, 'কিছু কারণে রিপোর্ট জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে।'
রিপোর্ট জমা দিতে এত দেরি হচ্ছে কেন? এই প্রশ্নের উত্তরে বিশ্বজিৎ সোম বললেন, 'বিভিন্ন কারণ রয়েছে। পরে জানানো হবে।'
তিনি জানান, আগে ক্লক টাওয়ারটি সারাতে হবে। তারপর ঘড়ি। স্থাপত্যটিকে আগের অবস্থায় ফেরত আনাই আমাদের প্রাথমিক কাজ। তবে বাজার অনেক পুরনো হলেও ঘড়িটি ১৯৩০ সালে বসানো হয়েছে। আমাদের দলে ২০ জন কাজ করেছেন।
উল্লেখ্য, ১৪৭ বছরের পুরনো এই বাজার। নিউ মার্কেটের গম্বুজাকৃতি মূল ফটকের মাথায় ব্রিটিশ সংস্থা ‘জিলেট অ্যান্ড জনস্টন’–এর কর্মীরা ঘড়িটি বসান। তখন থেকেই ঘড়িটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছেন পুর কর্তৃপক্ষ। ঘড়িটির চারটি মুখ হলেও মূল যন্ত্র একটিই। ৫০ ফুট উঁচু এই ‘ক্লক টাওয়ার’–এ সাড়ে সাত ফুট ব্যাসের ঘড়ি। তার ঘণ্টা ও মিনিটের কাঁটা দুটি সাড়ে তিন ফুটের। ঘড়িটির মোট পাঁচটি ঘণ্টা আছে। কিন্তু গম্বুজ–সহ পুরো বাজারের স্থাপত্যটিরই এখন বেহাল অবস্থা।
কলকাতা পুরসভার বাজার বিভাগের মেয়র পরিষদ আমিরুদ্দিন ববি আগে জানিয়েছিলেন, বিকল ঘড়ির যন্ত্রাংশ কলকাতায় পাওয়া যাচ্ছে না। আনাতে হবে ইংল্যান্ড থেকে। সংস্কারের জন্য দু’বার টেন্ডার ডাকা হয়েছিল। তাতে অংশ নেয় একটিমাত্র সংস্থা। ফলে নিয়ম অনুযায়ী পুরো প্রক্রিয়া বাতিল করে দিতে হয়। এদিন তাঁকে বিষয়টিতে একাধিকবার ফোন করা হয়। তবে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
আরও পড়ুন: বুনো হাতির তাণ্ডব! অসম-মেঘালয় সীমান্তে শিশু-সহ মৃত্যু ৩ জনের