
শেষ আপডেট: 13 August 2023 13:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যাদবপুরে ব়্যাগিংয়ের শিকার হয়ে প্রথম বর্ষের পড়ুয়ার রহস্যমৃত্যুর (JU death case) তদন্তে মৃতের নাম-পরিচয় প্রকাশ না করার অনুরোধ করলেন শিশু সুরক্ষা কমিশনের (Child Right Commission) চেয়ারপার্সন অনন্যা চক্রবর্তী। এদিন যাদবপুর-কাণ্ডে সংবাদমাধ্যমের সামনে একথাই জানান তিনি। বলেন, ছেলেটির যে এখনও ১৮ বছর বয়স হয়নি, তা জানতে পেরেছেন তিনি। তার পরেই এই ঘটনা পকসো আইনের (POCSO) আওতায় পড়ে বলে জানিয়ে তাঁর এই আবেদন।
এদিন অনন্যা চক্রবর্তী বলেন, 'যেহেতু ওকে উলঙ্গ অবস্থায় পাওয়া গেছিল এবং শরীরের নানা জায়গায় সিগারেটের ছ্যাঁকা পাওয়া গেছে, তার উপর ও বাড়িতে ফোন করে জানিয়েছিল, ওকে সমকামী বলে উত্ত্যক্ত করা হচ্ছে-- সব মিলিয়ে এটা যৌন নির্যাতনের পর্যায়ে পড়ে। পাশাপাশি, ওর বয়স এখনও ১৮ হয়নি বলে আমরা জানতে পেরেছি। ফলে এটা কিন্তু পকসো আইনের আওতায় পড়ে। কিন্তু এটা যেহেতু এতদিন জানা ছিল না, সংবাদমাধ্যমেরও হয়তো জানা ছিল না, তাই ওর নাম-পরিচয় সবই সামনে চলে এসেছে। কিন্তু আমাদের বিনীত অনুরোধ, এর পর থেকে যেন ওর নাম সামনে না আসে।'
অনন্যা এদিন আরও বলেন, 'আমরা অত্যন্ত মর্মাহত এই ঘটনায়, আজ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে যাব আমরা, হস্টেল পরিদর্শন করব, রেজিস্ট্রার দেখতে চাইব। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেলে যে সিসিটিভি নেই, রেজিস্ট্রার মেনটেন হয় না-- এটা অমার্জনীয় অপরাধ।' তাঁর অভিযোগ, এটা আজকের সমস্যা নয়। ওখানকার মাস্তানি, দাদাগিরি, আঁতলামি আগেও খবরে এসেছে।
অনন্যার দাবি, 'তাঁরা মনে করেন তাঁরা সবকিছুর ঊর্ধ্বে। এটা হতে পারে না। এরকম ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সেদিকে আমাদের নজর থাকবে। অত্যন্ত গরিব পরিবারের মেধাবী ছেলেটির সঙ্গে যা করা হয়েছে, যেভাবে নির্মমভাবে মারধর করা হয়েছে, সিগারেটের ছ্যাঁকা পাওয়া গেছে-- এর কোনও ক্ষমা হয় না। যাদবপুরে যেহেতু এখন কোনও ভাইস চ্যান্সেলর নেই, তাই আমরা চ্যান্সেলর তথা রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের কাছেও চিঠি দিয়েছি, রিপোর্ট চেয়েছি। আমরাও তদন্ত করছি গুরুত্ব সহকারে। আমরা এটা ছেড়ে দেব না। শেষ দেখে ছাড়ব।'
হোস্টেলে সিসিটিভির অভাব এবং রেজিস্ট্রার না থাকা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, 'এর আগে ২০১৪ সালে যখন হোক কলরব আন্দোলন হয়েছিল যাদবপুরে, তখন একটা এনকোয়্যারি কমিটি গড়া হয়েছিল, যে কমিটিতে আমি নিজে ছিলাম। সে সময়েই আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেলে সিসিটিভি এবং রেজিস্ট্রার মেনটেন করার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিন্তু হস্টেলের কেয়ারটেকার অত্যন্ত ভয় পেয়ে জানিয়েছিলেন, এটা করা খুব মুশকিল, কারণ প্রাক্তনীদের চরম দাদাগিরি চলে সেখানে। বহিরাগতরা এসে যা ইচ্ছে করে। তাদের কাউকে কিছু বলার অধিকার নেই কারও।'
এই বিষয়টি এবার শক্ত হাতে দমন করতেই হবে বলে দাবি করে অনন্যা আরও বলেন, 'আমরা কর্তৃপক্ষকে প্রশ্ন করব, অধ্যাপকদের প্রশ্ন করব, এতদিন সিসিটিভি নিয়ে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি কেন? এত বছর ধরে বরং সিসিটিভি-র বিরুদ্ধে চড়া স্বর উঠে এসেছিল অধ্যাপকদের একাংশের তরফেই। সিসিটিভি-র প্রতিবাদে এক অধ্যাপক গাছতলায় ক্লাসও নিয়েছিলেন। ফলে আজকের মর্মান্তিক ঘটনায় তাঁদের আর গলা ফাটিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার নেই।'
অনন্যা মনে করিয়ে দেন, '২০১৮ সালে ভাইস চ্যান্সেলর সুরঞ্জন দাস একবার উদ্যোগও নিয়েছিলেন, সিসিটিভি বসানোর। তখন তাঁকে প্রবল প্রতিবাদের মুখে পড়তে হয়েছিল। বসাতে দেওয়াই হয়নি। ফলে এখানে সকলেই অভিযুক্ত, সকলের হাতে রক্ত আছে। কেউ বলতে পারে না, 'আমি নির্দোষ'। যারা নিয়ম মানেনি, সিসিটিভি বসাতে দেয়নি, রেজিস্ট্রার রাখতে দেয়নি, তারা সকলেই দোষী। যাদবপুর বলে তো অন্য গ্রহ নয়। সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের যা নিয়ম, তাই এখানে প্রযোজ্য। আমরা মনে করি, এই এত বছর ধরে যে অনিয়ম চলছে, তাতে কর্তৃপক্ষ থেকে শুরু করে অধ্যাপক, হস্টেলের দাদা-- কেউ স্ক্যানারের ঊর্ধ্বে নয়।'
অনন্যা চক্রবর্তী এদিন আরও বলেন, 'তিন জন ছেলে গ্রেফতার হয়েছে এই ঘটনায়, খুব ভাল কথা। কিন্তু এত বছরের অনিয়মকে যারা প্রশ্রয় দিয়ে এসেছে, সিসিটিভি লাগাতে দেয়নি, তারা সকলেই কিন্তু প্রশ্নের মুখে। বিচ্ছিন্ন গ্রেফতারিতে এই ঘটনার সমাধান হবে না।'