দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত সোমবার জেএনইউয়ের ছাত্র সংসদের প্রাক্তন সভাপতি কানহাইয়া কুমারের নামে চার্জশিট দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। কিন্তু দিল্লি সরকারের অনুমোদন না নেওয়ার জন্য শুক্রবার পুলিশকে তিরস্কার করল আদালত। বিচারক বলেছেন, চার্জশিটে তো দেখছি দিল্লি সরকারের আইন দফতরের অনুমোদন নেই। অনুমোদন ছাড়াই আপনারা চার্জশিট জমা দিয়েছেন কেন? পুলিশ অবশ্য জানিয়েছে, সরকারের থেকে প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেবে ১০ দিনের মধ্যে।
কানহাইয়া কুমারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ২০১৬ সালে আফজল গুরুর ফাঁসির পরে, ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে এক সভা করেন। তাতে দেশবিরোধী স্লোগান দেওয়া হয়। কানহাইয়া কুমারের বিরুদ্ধে মোট ১২০০ পাতার চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। তাতে নাম রয়েছে উমর খালিদ সহ আরও আটজনের।
পুলিশের দাবি, জেএনইউয়ের প্রাক্তন ছাত্রনেতা কানহাইয়া কুমার, উমর খালিদ, অনির্বাণ ভট্টাচার্য, এবং জম্মু-কাশ্মীরের সাত ছাত্র আকিব হুসেন, মুজিব হুসেন, মুনিব হুসেন, উমর গুল, রাইয়া রসুল, বশির ভাট ও বাশারাতের বিরুদ্ধে মামলা চালানোর মতো যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ তাদের হাতে আছে।
জেএনইউ ক্যাম্পাসে বিতর্কিত জনসভার পরে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে পুলিশ। দেশ জুড়ে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। বিরোধীরা একবাক্যে অভিযোগ করেন, পুলিশ বিজেপি সরকারের হয়ে কাজ করছে। একই সঙ্গে সারা দেশে বিখ্যাত হয়ে ওঠেন কানহাইয়া কুমার। শোনা যায়, তাঁকে আগামী লোকসভা নির্বাচনে বিহারের বেগুসরাই থেকে দাঁড় করানোর কথা ভাবছে সিপিআই। যদিও লালুপ্রসাদ যাদবের রাষ্ট্রীয় জনতা দল তাতে আপত্তি করেছে ইতিমধ্যে।
কানহাইয়া কুমার বরাবর বলে আসছেন, তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে এক বিচারক তদন্ত করেছিলেন। তিনি সিদ্ধান্ত নেন, জেএনইউয়ের কোনও ছাত্র ওই ঘটনায় জড়িত ছিল না। পুলিশ চার্জশিট দিয়েছে তিন বছর বাদে। আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই।
এক সংবাদ সংস্থাকে তিনি বলেন, ভোটের ঠিক আগে যেভাবে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে, তাতে বোঝা যায়, এর পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে। তবে দেশের বিচার ব্যবস্থার ওপরে আমি আস্থাশীল।
উমর খালিদও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, সরকার ভোটের আগে নিজের ব্যর্থতাগুলি ঢাকতে চায়। তাই মানুষের নজর অন্যদিকে ঘোরানোর চেষ্টা করছে। আমরা এই মামলা লড়ব এবং প্রমাণ করব আমরা নির্দোষ।