দ্য ওয়াল ব্যুরো: সে ছুটছে। থামার অবকাশ নেই। হাতে সময় আর মাত্র তিন দিন। শুক্রবার মাঝ রাতেই চাঁদকে ছোঁবে সে। উত্তেজনা তাই তুঙ্গে। তার নাম ল্যান্ডার ‘বিক্রম’। চন্দ্রযান থেকে আলাদা হয়ে অরবিটারকে কক্ষপথেই বসিয়ে রেখে তার লক্ষ এখন শুধুই চাঁদ।
কাউন্টডাউন শুরু হয়েছিল সোমবার বেলা ১২টা ৪৫ মিনিট থেকে। সোয়া ১টা নাগাদ চন্দ্রযান ২ থেকে আলাদা হয়ে বেরিয়ে যায় ল্যান্ডার ‘বিক্রম।’ রোভার ‘প্রজ্ঞান’কে পেটের ভিতর নিয়ে চাঁদের পঞ্চম কক্ষপথের সঙ্গে একটু একটু করে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করছে সে। আজ, মঙ্গলবার বেলা সকাল পৌনে আটটা থেকে পৌনে ১০টার মধ্যে
‘De-orbit Maneuver’-এর প্রথম পর্যায় সম্পূর্ণ হয়েছে। বাকিটা শেষ হবে আগামিকাল ভোর রাতে।
ল্যান্ডার ‘বিক্রম’ ও পৃথিবীর মধ্যে যোগাযোগের সেতু অরবিটার
ইসরো জানিয়েছে,
অরবিটার (Orbiter) থেকে আলাদা হয়ে চাঁদের দিকে ক্রমশ এগিয়ে যাচ্ছে ‘বিক্রম’।
লুনার সারফেস (Lunar Surface) অর্থাৎ চন্দ্রপৃষ্ঠ থেকে তার দূরত্ব এখন ১১৯ কিলোমিটার ও ১২৭ কিলোমিটার। আগামিকাল আরও কিছুটা এগিয়ে শেষে চাঁদের মাটি থেকে তার দূরত্ব কমে দাঁড়াবে ১০০ কিলোমিটারে। ৬ সেপ্টেম্বর মাঝরাতে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে ‘সফট ল্যান্ডিং’ করবে ‘বিক্রম’।
https://twitter.com/isro/status/1168732973283196929
ল্যান্ডার কতটা এগোচ্ছে তার বিবরণ পৃথিবীতে পাঠিয়ে দিচ্ছে এই অরবিটার। যার থেকে এখন আলাদা হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে ‘বিক্রম’। তবে এখনও পর্যন্ত ‘বিক্রম’ ও পৃথিবীর মধ্যে যোগাযোগের মূল মাধ্যমই হলো এই ২৩৭৯ কিলোগ্রাম ওজনের এই অরবিটার। প্রায় ১০০০ ওয়াট বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদনের ক্ষমতা যুক্ত অরবিটার নিয়মিত ‘ইন্ডিয়ান ডিপ স্পেস নেটওয়ার্ক’ (IDSN)-এর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। এই অরবিটারেই রয়েছে ‘টেরেন ম্যাপিং ক্যামেরা ২ (টিএমসি ২)’ যা দিয়ে প্রথম চন্দ্রপৃষ্ঠের ছবি তুলেছিল সে। তা ছাড়াও অরবিটারের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে নিউট্রাল মাস স্পেকট্রোমিটার, সিন্থেটিক অ্যাপারেচার র্যাডার, রেডিয়ো অকুলেশন এক্সপেরিমেন্ট, সফট এক্স-রে স্পেকট্রোমিটার ও সোলার এক্স-রে মনিটর। ভারতের চন্দ্রাভিযান সফল হওয়ার পরেও এক বছর কক্ষপথে বসে থেকে নজরদারি চালাবে সে।

১৪৭১ কেজি ওজনের ল্যান্ডার ‘বিক্রম’ ৬৫০ ওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে। অরবিটারের মাধ্যমেই ল্যান্ডার আইডিএসএনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছে। চাঁদের থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরত্বে পৌঁছে সে অরবিটারের মাধ্যমে চন্দ্রপৃষ্ঠের আরও ছবি ও তথ্য পাঠিয়ে দেবে আমাদের নীল গ্রহে।
৭ সেপ্টেম্বরের আগে কী কী হতে চলেছে…
আজ,
২ সেপ্টেম্বর বেলা ১২টা ৪৫ মিনিট থেকে ১টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে চন্দ্রযান থেকে আলাদা হয়েছে ল্যান্ডার বিক্রম। সফট ল্যান্ডিংয়ের জন্য ছক সাজানো শুরু করে দিয়েছে সে।
৩ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে এবং ৪ সেপ্টেম্বর ভোররাত ৩টে থেকে ৪টের মধ্যে দু’দফায় বিক্রমের পথ বদল করা হবে। কক্ষপথ ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার এটি বিশেষ পক্রিয়া (Deorbit Manoeuvres) । এর পর শুরু হবে চাঁদকে ঘিরে পরিক্রমা।
৬ সেপ্টেম্বর রাত ১টা ৫৫মিনিটে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে (৭০ ডিগ্রি অক্ষাংশ) পালকের মতো নেমে যাবে ল্যান্ডার ‘বিক্রম’।
৭ সেপ্টেম্বর ভোর সাড়ে ৫টা থেকে সাড়ে ৬টার মধ্যে ল্যান্ডার ‘বিক্রম’ থেকে বেরিয়ে যাবে রোভার ‘প্রজ্ঞান’। চাঁদের মাটিতে ঘুরে ঘরে শুরু করবে কাজ।
চাঁদের কক্ষপথ পৃথিবী পৃষ্ঠ থেকে ৩ লক্ষ ৮২ হাজার কিলোমিটার দূরে। ইসরোর বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, নামার আগে আরও চার দিন চাঁদকে প্রদক্ষিণ করবে ল্যান্ডার। তার পর ধীরেসুস্থে নামবে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে (৭০ ডিগ্রি অক্ষাংশ) । ইজেক্ট করবে ২৭ কেজি ওজনের ৬ চাকার রোভার ‘প্রজ্ঞান’কে। চাঁদের মাটিতে ঘুরে ঘুরে ছবি ও তথ্য পাঠাবে সে।
চাঁদের এক পক্ষকাল সময় অর্থাৎ ১৪ দিন ধরে কাজ করতে পারবে ‘বিক্রম।’ রোভারও সচল থাকবে ১৪ দিন ধরে। প্রতি বারে ১৫০-২০০ মিটার অবধি গুটি গুটি পায়ে এগোতে থাকবে সে। পরীক্ষামূলক ভাবে চাঁদের মাটি, তার রাসায়নিক উপাদানের কাটাছেঁড়া করতে পারবে। প্রতি ১৫-২০ মিনিট অন্তর অরবিটারের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য গ্রাউন্ড স্টেশনে পাঠাবে রোভার।