দ্য ওয়াল ব্যুরো : টাকা তছরুপের অভিযোগ উঠেছিল আগেই। এবার ইয়েস ব্যাঙ্কের প্রতিষ্ঠাতা তথা প্রাক্তন এমডি রানা কাপুরের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ারও অভিযোগ আনল সিবিআই। অভিযোগ, তিনি দিল্লির অভিজাত লুতিয়েন জোনে একটি বাংলো কিনতে চেয়েছিলেন। অবন্তা গ্রুপ নামে এক সংস্থা ছিল ওই বাংলোর মালিক। তাদের তিনি ইয়েস ব্যাঙ্ক থেকে বেআইনিভাবে ১৯০০ কোটি টাকা ঋণ পাইয়ে দেন। বিনিময়ে সেই কোম্পানি তাঁকে ৩০৭ কোটি টাকা ঘুষ দিয়েছিল। রানা কাপুর বাদে তাঁর স্ত্রী বিন্দু ও অবন্তা গ্রুপের প্রমোটার গৌতম থাপারের বিরুদ্ধেও অভিযোগ এনেছে গোয়েন্দা সংস্থা।
সিবিআই জানিয়েছে, দিল্লির ৪০ নম্বর অমৃতা শেরগিল মার্গে ১.২ একর জুড়ে একটি বিলাসবহুল বাংলো অবস্থিত। এই বাড়িটি অবন্তা গ্রুপ আইসিআইসিআই ব্যাঙ্ক ও ডিসিবি ব্যাঙ্কের কাছে বন্ধক রেখেছিল। বিনিময়ে ওই গ্রুপ পেয়েছিল ৫৫০ কোটি টাকা। ২০১৬ সালের মার্চ অবধি তারা ৩৮০ কোটি টাকা শোধ করতে পারেনি। ইয়েস ব্যাঙ্ক তখন অবন্তা গ্রুপকে লিজ রেন্টাল ডিসকাউন্টিং নিয়মে বিপুল অঙ্কের টাকা ঋণ দেয়।
গোয়েন্দারা বলেন, অবন্তা গ্রুপ ইয়েস ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ পাওয়ার উপযুক্ত ছিল না। বেআইনিভাবে তাদের ঋণ দেওয়া হয়। রানা কাপুরের প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল বিন্দুর নামে বাংলোটি দখল করা।
ইয়েস ব্যাঙ্কে সংকট চলছিল অনেকদিন ধরে। বেড়ে চলছিল অনাদায়ী ঋণের বোঝা। চলতি মাসের শুরুতে ব্যাপারটা জানাজানি হয়ে যায়। ইয়েস ব্যাঙ্কের পরিচালনার দায়িত্ব নিজের হাতে নেয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। তখনই বলা হয়, আপাতত কেউ ব্যাঙ্ক থেকে একসঙ্গে ৫০ হাজার টাকার বেশি তুলতে পারবেন না। এর ফলে দুশ্চিন্তায় পড়েন ব্যাঙ্কের হাজার হাজার আমানতকারী।
শুক্রবার অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন ইয়েস ব্যাঙ্কের পুনরুজ্জীবন প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেন। তিনি জানান, “রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রস্তাবমতো স্টেট ব্যাঙ্ক আগামী দিনে ইয়েস ব্যাঙ্কের ইকুইটিতে ৪৯ শতাংশ বিনিয়োগ করবে। অন্যান্য বিনিয়োগকারীদেরও আহ্বান জানানো হচ্ছে।” এদিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা বৈঠকে বসে। তার পরে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের একথা জানান।
ইয়েস ব্যাঙ্কের পুনরুজ্জীবনে আরবিআই যে প্রস্তাব দিয়েছে, তাতে ইয়েস ব্যাঙ্কের ৪৯ শতাংশ শেয়ারের মালিক হবে স্টেট ব্যাঙ্ক। ওই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক আগামী তিন বছর ইয়েস ব্যাঙ্কের ২৬ শতাংশ হোল্ডিং নিজের হাতে রাখবে। ইয়েস ব্যাঙ্কের কোনও কর্মীকেই ছাঁটাই করবে না।
ইয়েস ব্যাঙ্কের এই সংকট নিয়ে ইতিমধ্যে সরব হয়েছেন বিরোধীরা। প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরম প্রশ্ন তুলেছেন, ইয়েস ব্যাঙ্কের এই ভরাডুবির জন্য রিজার্ভ ব্যাঙ্ক বা সরকারের কেউ কি দায়ী নয়? ইয়েস ব্যাঙ্কের পুনরুজ্জীবনের জন্য ইয়েস ব্যাঙ্ক যে পরিকল্পনা করেছে, তাও আজগুবি বলে উড়িয়ে দিয়েছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী।