
কলকাতা হাইকোর্ট
শেষ আপডেট: 21 June 2024 20:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশ জুড়ে নিট পরীক্ষা নিয়ে ভূরি ভূরি অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ডাক্তারির পঠনপাঠনের সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষায় বাংলার এক পরীক্ষার্থীর সঙ্গেও অদ্ভুত কাণ্ড ঘটেছে। ফিয়োনা মজুমদার নামে ওই পরীক্ষার্থী কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়ে জানিয়েছেন, তাঁকে পরীক্ষার হলে ছেঁড়া ওএমআর শিট দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ জানানোর পরও কোনও লাভ হয়নি। ওই ওএমআর শিট তো বদলে দেওয়া হয়নি, উল্টে তাঁকে দেড় ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয়েছিল। আর এই ঘটনাতেই পরীক্ষার্থীর সময় নষ্ট করা হয়েছে বলে পর্যবেক্ষণ বিচারপতি জয় সেনগুপ্তের।
ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিই)-র কাছে পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার আর্জি জানিয়েছিলেন ফিয়োনা। কিন্তু সেই আর্জি গ্রাহ্য হয়নি। এরপরই হাইকোর্টে মামলা করেন তিনি। শুক্রবার সংশ্লিষ্ট মামলাটি শুনানির জন্য ওঠে। জরুরি মামলা হিসাবে নজিরবিহীনভাবে এদিন সন্ধেবেলা চলে শুনানি।
বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত মামলাটির শুনানিতে সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে যান। আর যা দেখেই বিস্মিত হয়ে যান তিনিনি। সিসিটিভিতে পরিষ্কার দেখা যায়, মামলাকারী পরীক্ষার্থী দীর্ঘক্ষণ পরীক্ষার হলে পরীক্ষা না দিয়ে বসে রয়েছেন। দীর্ঘ সওয়াল-জবাবের পর এদিন অরিজিনাল ওএমআর শিট এবং সিসিটিভি ফুটেজ এক বছরের জন্য সংরক্ষণ রাখার নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।
নিট পরীক্ষায ১৫৬৩ জনের গ্রেস মার্কস নিয়ে বিতর্কে ইতিমধ্যেই নম্বর বাতিলের ঘোষণা করেছে কেন্দ্র। ওই ১৫৬৩ জনের ফের পরীক্ষা নেওয়ার কথাও চলছে। সেই প্রসঙ্গেই হাইকোর্টের বিচারপতি সেনগুপ্তের পর্যবেক্ষণ, পুনরায় সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ রয়েছে। এই অবস্থায় হাইকোর্ট কোনও নির্দেশ দেবে না। মামলাকারী প্রয়োজন মনে করলে শনিবার শীর্ষ আদালতে যেতে পারবেন। কারণ, রবিবার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গ্রেস নম্বর পেয়েছেন এমন ১৫৬৩ জন পরীক্ষার্থীর পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে বিচারপতি বলেন, "পরীক্ষাকেন্দ্রে মামলাকারী তথা পরীক্ষার্থীর সময় যে নষ্ট করা হয়েছে এ নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। এতে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে মনে করছে আদালত।"