
শেষ আপডেট: 20 December 2023 14:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতা তথা বাংলার নামজাদা সরকারি হাসপাতালগুলির মধ্যে অন্যতম হল এসএসকেএম। সেই হাসপাতালই নাকি এখন দুর্নীতিগ্রস্থদের নিশ্চিন্ত চারণভূমি হয়ে উঠেছে! এসএসকেএম হাসপাতাল বিভিন্ন দুর্নীতিতে নাম জড়িয়ে থাকা অভিযুক্তদের আশ্রয় দিচ্ছে, এমনটাই অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করলেন হাইকোর্টের আইনজীবী রমাপ্রসাদ সরকার।
তাঁর বক্তব্য, বৃহত্তর স্বার্থেই এই মামলা দায়ের করেছেন তিনি। মামলাকারীর অভিযোগ, চিকিৎসার প্রয়োজন নেই অথচ ওই হাসপাতালে প্রভাবশালীরা বেড দখল করে রেখেছেন। সেখানে তাঁদের 'ভুয়ো' চিকিৎসা চলছে। সাধারণ মানুষ বেড পাচ্ছেন না। আশঙ্কাজনক রোগীরা উপযুক্ত চিকিৎসা পাচ্ছেন না। তাঁর দাবি, এসএসকেএম হাসপাতালে সকলের জন্য সমান চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হোক। প্রভাবশালীদের অতিরিক্ত গুরুত্ব যেন না দেওয়া হয়। রাজ্যের খ্যাতনামা এই হাসপাতাল চিকিৎসা পরিষেবার অপব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করে এ বিষয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়ে মামলা দায়ের করেছেন রমাপ্রসাদ সরকার।
আদালতের কাছে মামলাকারীর আবেদন, ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অভিযুক্তদের সব মেডিক্যাল রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনা হোক। কেন্দ্রীয় সরকারের কোনও হাসপাতালকে দিয়ে সেসব রিপোর্ট যাচাই করানো হোক। এছাড়া ওই হাসপাতালে ভর্তি থাকা অভিযুক্তদের কেস রেকর্ড আদালতে জমা করার জন্য সিবিআই এবং ইডিকে নির্দেশ দেওয়ার জন্য কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, বর্তমানে রাজ্যের একাধিক হেভিওয়েট নেতা-মন্ত্রী গ্রেফতার হয়েছেন বিভিন্ন দুর্নীতি মামলায়। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়, বর্তমান বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বর্তমান ঠিকানা প্রেসিডেন্সি জেল হলেও বালু ওরফে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক এখন চিকিৎসাধীন রয়েছেন এসএসকেএম হাসপাতালেই। সেখানেই চিকিৎসা চলছে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ধৃত সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র ওরফে কালীঘাটের কাকুরও।
বস্তুত, সুজয়কৃষ্ণের হাসপাতাল মুক্তি নিয়ে বিস্তর টানাপোড়েন চলছে ইডি এবং এসএসকেএম কর্তৃপক্ষের মধ্যে। মঙ্গলবার নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ধৃত সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রের অন্তর্বর্তী জামিন মামলায় এসএসকেএম হাসপাতালের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল ইডি। তারা দাবি করেছিল, চিকিৎসার প্রয়োজন না পড়লেও সেখানে রেখে দেওয়া হচ্ছে অনেককেই। সুজয়কৃষ্ণের সামান্য মানসিক চাপ ছাড়া কোনও সমস্যা নেই। সেখানে তিনি আরামে রয়েছেন। ভিডিও ফুটেজে দেখা গিয়েছে গল্প করেছেন, বাইরের ভাল খাবার খাচ্ছেন। ওই মামলাতেও অভিযুক্তের মেডিক্যাল রিপোর্ট তলব করেছে আদালত।
এই সমস্ত বিষয় নিয়ে হাইকোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেয়েছেন আইনজীবী রমাপ্রসাদ সরকার। আগামী জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম এবং বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটির শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।