
শেষ আপডেট: 4 April 2020 14:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শাহিওয়ালের পাকপতন চকে দাঁড়িয়ে ছেলেটি। কাঁধে একটি লাঠি, তাতে সারিসারি ঝুলছে রংবেরঙের মাস্ক। তার নিজের মুখেও রয়েছে মাস্ক। পরনে কুর্তা-পাজামা। বয়স বড় জোর আট-দশ হবে। পাকিস্তানের এমনই একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। করোনাভাইরাসের সংক্রমণে ধুঁকছে সে দেশ। সেই আবহেই ছোট্ট এ ছেলের ছবি পড়শি দেশের ফ্রেম হয়ে উঠেছে।
কিন্তু নেটিজেনদের মন ছুঁয়ে গেছে, এ ছবির সঙ্গে লেখা ক্যাপশনে। তাতে জানা গেছে, কোনও এক ক্রেতা বাচ্চাটিকে জিজ্ঞেস করেন, কত করে এক একটি মাস্ক। সে জবাব দেয়, ২০ টাকা। ওই ক্রেতা তখন মজা করেই বলেন, হয়তো ব্যবসায়ীর বয়সের কথা ভেবেই, "আমার কাছে তো ২০ টাকাও নেই।" তখন তাকে ছোট্ট ছেলেটি বলে, টাকা দিতে হবে না তিনি যেন এমনিই নিয়ে যান। অবাক হয়ে ক্রেতা প্রশ্ন করেন, "তোমার মা বকবে না?" ছেলেটির উত্তর, "মা বলেছে, বাইরের অবস্থা মোটেও ভাল নয়।"
এই টুইটের ছবি এবং ছবির পেছনের গল্প যেন আর এক বার মনে করিয়ে দিয়েছে, করোনাভাইরাসের আতঙ্ক ঠিক কতটা চারিয়ে গিয়েছে সে দেশে, যাতে ছোট একটি বাচ্চাও বুঝেছে, পরিস্থিতি কতটা সঙ্গীন।
https://twitter.com/SharmeenTarar/status/1246057936054599682 জন হপকিনস ইউনিভার্সিটির রিপোর্ট বলছে, শনিবারের হিসেবে পাকিস্তানে ভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা ২,৭০০ ছাড়িয়েছে। মৃত অন্তত ৪০ জন। ভয়াবহ অবস্থা পাকিস্তানের পঞ্জাবে। সেখানে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১০০০। ক্রমেই ভাইরাস সংক্রমণের ভরকেন্দ্র হয়ে উঠছে পঞ্জাব। ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের রিপোর্ট বলছে, পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের অবস্থা ভাল নয়। ফি দিন বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। শনিবারের হিসেবে সেখানে কোভিড-১৯ পজিটিভ ৮৩৯ জন। খাইবার-পাখতুনখোয়াতে সংক্রামিত ৩৪৩, বালুচিস্তানে ১৭৫, গিলগিট-বালটিস্তানে ১৯৩, ইসলামাবাদে ৭৫ এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ১১ জন। হটস্পট পঞ্জাব, সেখানে সংক্রামিতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১,০৭২। সূত্রের খবর,পঞ্জাব ও সিন্ধু প্রদেশে আক্রান্ত হওয়া রোগীদের কোয়ারান্টাইনে রাখার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে অবশ্য মোটেও খুশি নন পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর ও গিলগিটের বাসিন্দারা। তাঁদের বক্তব্য, এভাবে তাঁদের মৃত্যুর পথে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। কারণ সারা দেশ থেকে নিয়ে আসা রোগীদের জন্য রাখার ব্যবস্থা করা হলেও, স্থানীয়দের জন্য মোটেও ভাবা হচ্ছে না বলে অভিযোগ। করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পরেও লকডাউনের পথে যেতে রাজি হয়নি ইমরান খানের সরকার। দেশের অসামরিক বিমাণ পরিবহণ মন্ত্রকের মুখপাত্র আব্দুল সাত্তার খোখার জানিয়েছিলেন, অন্তর্দেশীয় উড়ান বন্ধ করেছে সরকার। এর আগে আন্তর্জাতিক উড়ানে লাগাম পরানো হয়েছিল। ট্রেন পরিষেবাও বন্ধ। তবে রাস্তাঘাটে, দোকানবাজারে লোকজন অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। সামাজিক মেলামেশাও বন্ধ হয়নি। যার ফলে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে দেশের নানা প্রান্তে। এই অবস্থায় পথে মাস্ক বেচতে বেরিয়েছে ছোট্ট খুদে। সে নিজেও ভয় পেয়ে রয়েছে। তাই পয়সা ছাড়াই মাস্ক দিয়ে দিতে চাইছে ক্রেতাকে, কারণ তার মা বলেছেন, "পরিস্থিতি খুব খারাপ।" ছোট্ট ছেলেটির এই ছোট্ট গল্পকে ভালবেসে ফেলেছেন সকলে।