
শেষ আপডেট: 15 January 2024 16:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বেহাল দশা নিয়ে গত বছরের ১১ ডিসেম্বর একটি মামলার শুনানিতে রাজ্যকে তীব্র ভর্ৎসনা করে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানমের পর্যবেক্ষণ ছিল, "হাসপাতালে ৮০ শতাংশই চুক্তিভিত্তিক কর্মী। ১২-১৩ হাজার টাকা করে বেতন পায়। তাঁদের থেকে এর থেকে বেশি আর কি আশা করা যায়? এই বেতনে কেউ কাজ করবে না।"
এবার কর্মী সঙ্কট নিয়ে রাজ্যের বিরুদ্ধে এজলাসে অসন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা গেল খোদ মধ্যশিক্ষা পর্ষদকে। এসএসসির সুপারিশ সত্বেও নিয়োগ না দেওয়াকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া একটি মামলায় পর্ষদের কর্মী সঙ্কুলানের তথ্য তুলে ধরে রাজ্যে শিক্ষা দফতরের দিকে আঙুল তুললেন পর্ষদের আইনজীবী কোয়েলি ভট্টাচার্য।
এদিন এজলাসে পর্ষদের আইনজীবী বলেন, "কর্মী নেই তাই এত বিপত্তি।" পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি আদালতকে জানান, "৭৩০ জন কর্মী প্রয়োজন। সেখানে মাত্র ২৫০ জন কর্মী নিয়ে কাজ চালাতে হচ্ছে। চুক্তি ভিত্তিক কর্মীদের উপর ভরসা করতে হচ্ছে। আর সে কারণেই বিপত্তি ঘটছে।"
পর্ষদের আইনজীবীর দাবি, রাজ্য পর্ষদে কর্মী নিয়োগ করছে না। আগের তুলনায় কাজের চাপ দিগুন থেকে তিন গুণ বেড়ে গিয়েছে। তা সত্বেও পর্ষদে কর্মী নিয়োগ করা হচ্ছে না। অল্প কর্মী দিয়ে কাজ চালাতে হচ্ছে। চুক্তি ভিত্তিক কর্মীদের উপর ভরসা করতে হচ্ছে।
পর্ষদের আইনজীবীর বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে বিচারপতি বসুর পর্যবেক্ষণ, "আগের তুলনায় পর্ষদের কাজের চাপ যথেষ্ট বেড়ে গিয়েছে। দুটো বড় পরীক্ষা আয়োজন, নিয়োগ দেওয়া থেকে শুরু করে অনেক কাজ করতে হচ্ছে। সেক্ষেত্রে রাজ্যকে পর্ষদে আরও কর্মী নিয়োগের কথা ভাবতে হবে।"
এরপরই পর্ষদের কাছে বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু মৌখিক নির্দেশে জানিয়েছেন, তাদের কত কর্মী প্রয়োজন তার তালিকা অবিলম্বে শিক্ষা দফতরের কাছে পাঠাতে হবে। তারপর এবিষয় সিদ্ধান্ত নেবে শিক্ষা দফতর।