পুলিশের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের একাংশ আক্রমণাত্মক আচরণ করেন এবং পুলিশের উপর চড়াও হন। পাল্টা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাঁদের সরানোর চেষ্টা করে, আর এর জেরেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে থাকে।

হাওড়া ব্রিজে বিক্ষোভ
শেষ আপডেট: 24 December 2025 17:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশে ময়মনসিংহের বাসিন্দা দীপু দাসের নির্মম হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিবাদ চলছে কয়েকদিন ধরে। সেই উত্তাপ বুধবার পৌঁছে গেল হাওড়া ব্রিজের (Howrah Bridge Protest) দুই প্রান্তে। বিজেপির পক্ষ থেকে সেতু অবরোধের ডাক দেওয়া হয়েছিল (BJP protest), আর সকাল থেকেই তা নিয়ে চাপা উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে তা ধীরে ধীরে বিশৃঙ্খলার রূপ নেয়।
এদিন বেলা হতেই বিজেপি কর্মী–সমর্থকদের মিছিল হাওড়া ব্রিজের দিকে এগোতে শুরু করে। ব্রিজে ওঠার আগেই পুলিশ ব্যারিকেড বসিয়ে মিছিল আটকে দেয়। এই নিয়েই শুরু হয় ধাক্কাধাক্কি, চলতে থাকে স্লোগান। বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, তাঁদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি আটকাতে পুলিশ অযথা বাধা দিচ্ছে। ব্যারিকেড টপকে এগোতে গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। পুলিশ তাঁদের থামানোর চেষ্টা করলে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র ধস্তাধস্তি শুরু হয়।
ফলে হাওড়া ব্রিজের দুই প্রান্তেই যানজট লেগে যায়। অফিসযাত্রী, সাধারণ মানুষ- সবাইকে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। সেতুপথ ও আশেপাশের রাস্তায় লম্বা গাড়ির লাইন দেখা যায়। প্রশাসনের তরফে আগেই অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছিল, কিন্তু তবুও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে বেশ বেগ পেতে হয়।
বিক্ষোভকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বাংলাদেশে দীপু দাসের মৃত্যুর (Bangladesh Dipu Das Murder) ঘটনার ন্যায়বিচার না হলে আন্দোলন থামানো হবে না। তাঁদের বক্তব্য, বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও যথাযথ চাপ তৈরি হওয়া জরুরি।
রাজনৈতিক মহল মনে করছে, আগের দিনের কলকাতায় উপদূতাবাস ঘেরাওয়ের ডাক এবং বুধবারের কর্মসূচি- দুই ক্ষেত্রেই বিজেপি তাদের অবস্থান আরও আক্রমণাত্মকভাবে সামনে আনছে। বিশেষ করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর হুঁশিয়ারির পর আন্দোলনে আরও তীব্রতা এসেছে। তিনি বলেছেন, “আলোচনায় বসলে ভালো, না হলে রাস্তায় কথা হবে।” তাঁর মন্তব্যই বিক্ষোভকারীদের আরও সাহস জোগাচ্ছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা।
পুলিশের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের একাংশ আক্রমণাত্মক আচরণ করেন এবং পুলিশের উপর চড়াও হন। পাল্টা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাঁদের সরানোর চেষ্টা করে, আর এর জেরেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে থাকে।