দ্য ওয়াল ব্যুরো : সোমবার দিল্লিতে বিক্ষোভরত কৃষকদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তাঁর দল আম আদমি পার্টির অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। তাঁকে সব মিটিং বাতিল করতে বাধ্য করা হয়েছে। যদিও কেজরিওয়ালকে গৃহবন্দি করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে দিল্লি পুলিশ।
আপের অভিযোগ, কেজরিওয়ালের বাড়ির রাস্তা আটকে দিয়েছে পুলিশ। তাঁকে বেরোতে দেওয়া হচ্ছে না। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক দিল্লির তিন মেয়রকে নির্দেশ দিয়েছে পুরসভার কর্মীরা যেন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখান। বিক্ষোভকারীদের ঠেকানোর নাম করে দিল্লি পুলিশ মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনের রাস্তা ব্যারিকেড করে দিয়েছে। কেউ বাড়িতে ঢুকতে বা বেরোতে পারছেন না। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর সবক'টি প্রশাসনিক বৈঠক বাতিল করতে বাধ্য হয়েছেন।
https://twitter.com/AamAadmiParty/status/1336173515779665921
দিল্লি পুলিশের নর্থ ডিস্ট্রিক্টের ডেপুটি কমিশনার অ্যান্তো আলফানসো এই অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, "আমরা সতর্ক আছি। অরবিন্দ কেজরিওয়াল সোমবার সন্ধ্যা আটটায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। ১০ টা নাগাদ ফিরে আসেন। তাঁকে কেউ আটকাতে যায়নি।"
সোমবার কেজরিওয়াল দিল্লি ও হরিয়ানার সীমান্তে সিংঘু অঞ্চলে বিক্ষোভরত কৃষকদের সঙ্গে দেখা করেন।
নতুন কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে ১০ দিনেরও বেশি সময় ধরে হাজার হাজার কৃষক কার্যত দিল্লি অবরুদ্ধ করে রেখেছেন। দফায় দফায় সরকারের সঙ্গে বৈঠক করেও কোনও সুরাহা মেলেনি। ফের বুধবার পরবর্তী বৈঠকের তারিখ ঠিক হয়েছে। এর মধ্যে কৃষক সংগঠনগুলির ডাকে মঙ্গলবার বেলা ১১ টা থেকে পালিত হচ্ছে ভারত বন্ধ।
ব্যাঙ্ককর্মীদের ইউনিয়নগুলি জানিয়েছে, তারা কৃষকদের আন্দোলনকে সমর্থন করে। কিন্তু বন্ধে অংশগ্রহণ করবে না। ব্যাঙ্ককর্মীরা মঙ্গলবার কালো ব্যাজ পরবেন। ডিউটি আওয়ারের আগে ও পরে বিক্ষোভ দেখাবেন। ট্র্যাক ও ওন্যান্য পণ্যবাহী গাড়ির মালিকরা জানিয়েছেন, বন্ধে অংশগ্রহণ করবেন। ফলে বাজারে নানা পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে। কয়েকটি ট্যাক্সি ইউনিয়নও বন্ধে অংশগ্রহণ করেছে।
দিল্লি ও হরিয়ানা পুলিশ সাধারণ মানুষকে কয়েকটি রাস্তা এড়িয়ে চলতে বলেছে। কারণ সেই রাস্তাগুলিতে কৃষকরা ক্যাম্প করে বসে আছেন। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, বন্ধ শান্তিপূর্ণ থাকবে। অ্যাম্বুলেন্স ও অন্যান্য জরুরি পরিষেবা যাতে সচল থাকে সেদিকে লক্ষ রাখা হবে।
দিল্লিতে কৃষক আন্দোলন নিয়ে মুখ খুলেছেন মার্কিন কংগ্রেসের সদস্যরা। ভারত সরকারের কাছে তাঁদের আর্জি, নতুন কৃষি আইনের বিরুদ্ধে যে কৃষকরা বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন, তাঁদের যেন বাধা না দেওয়া হয়। কৃষকদের শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ দেখানোর অনুমতি দেওয়া হোক।
এর আগে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ত্রুদো ভারতের কৃষক আন্দোলন নিয়ে দু'বার মুখ খুলেছেন। এছাড়া ব্রিটেনের পার্লামেন্টের দুই কক্ষের কয়েকজন সদস্যও কৃষক বিক্ষোভকে কার্যত সমর্থন করেছেন। কৃষক আন্দোলন নিয়ে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপুঞ্জের মুখপাত্র। সোমবার মার্কিন কংগ্রেসের সদস্য ডাগ লামালফা বলেছেন, "ভারত সরকার ভুল ধারণার বশবর্তী হয়ে কয়েকটি আইন এনেছে। আমি পাঞ্জাবের কৃষকদের আন্দোলন সমর্থন করি।"