
শেষ আপডেট: 18 July 2023 13:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজনীতির নানা সন্ধিক্ষণে ছোট দলগুলিকে বড় ভূমিকা নিতে দেখা গিয়েছে বারে বারে। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে সেই একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অন্তত দল ভারী করার লক্ষ্যে কংগ্রেস ও বিজেপি, দু পক্ষই মরিয়া চেষ্টা চালিয়েছে মঙ্গলবারের বৈঠকে ছোট-বড় যত দল আছে কুড়িয়ে বাড়িয়ে হাজির করতে। বেঙ্গালুরুতে মঙ্গলবার সকালে শুরু হয়েছে কংগ্রেসের আমন্ত্রণে বিরোধী দলগুলির (Opposition Parties) সম্মেলন (Bengaluru meeting)। তাতে অংশ নিচ্ছে ২৬টি দল। আছেন সনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়্গে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, নীতীশ কুমার, লালুপ্রসাদের মতো নেতারা।
অন্যদিকে, মঙ্গলবার বিকালে দিল্লির অশোকা হোটেলে বসতে চলেছে বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ-র বৈঠক। সেখানে হাজির থাকবেন নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ, জেপি নাড্ডারা। বিজেপি সূত্রের খবর, দিল্লির বৈঠকে হাজির হবে ৩৮টি দল। এর অর্ধেকেরও কম দল এখন জোটের শরিক নয়। কিন্তু তাতে কী! বিরোধীদের বৈঠকের দিনে বিজেপির এনডিএ-র বৈঠক ডাকার উদ্দেশ্যই হল শক্তি প্রদর্শন। দিল্লির বৈঠকে যোগ দিতে চলা অনেক দলের কোনও এমপি নেই।
শুধু তাই নয়, বেঙ্গালুরু ও দিল্লি মিলিয়ে আজ রাজনীতির দুই মহা বৈঠকে যে ৬৪ দল অংশ নিতে চলেছে তাদের মধ্যে মাত্র নয়টি দলের দখলে আছে দশটির বেশি লোকসভা আসন। লোকসভার মোট আসন ৫৪৫। তারমধ্যে ৪৭৯টি আসন রয়েছে নয়টি দলের দখলে। এরমধ্যে বিজেপির দখলেই আছে ৩০৩টি আসন। দ্বিতীয় স্থানে আছে কংগ্রেস। তাদের ৫২ জন এমপি। ২৩টি আসনের অধিকারী ডিএমকে রয়েছে তৃতীয় স্থানে। বাকি দলগুলি হল, তৃণমূল কংগ্রেস-২২, ওয়াইএসআর কংগ্রেস-২২, জনতাদল ইউনাইটেড-১৬, বিজু জনতা দল-১২, অখণ্ড শিবসেনা-১৮ এবং বহুজন সমাজ পার্টি-১০। অর্থাৎ ৫৫টি দলের এমপি সংখ্যা দশের কম।
আশ্চর্যের হল, গত ১৫ মে ছিল এনডিএ-র পঁচিশ বছর পূর্তি। বিজেপি তা নিয়ে উচ্চবাচ্য করেনি। অর্থাৎ শরিকদের ব্যাপারে পদ্ম শিবিরের তেমন মাথাব্যথা ছিল না। কিন্তু কর্নাটক বিধানসভার ভোটের ফল তাদের সব অঙ্ক ওলটপালট করে দিয়েছে। দল বুঝতে পেরেছে মোদী ম্যাজিকের ভরসায় লোকসভার ভোট বৈতরণী পেরনো কঠিন হবে।
কর্নাটকের ভোটে দেখা গিয়েছে রাজ্য সরকারের কাজকর্ম নিয়ে তৈরি হওয়া প্রতিষ্ঠান বিরোধী ভোটের হাওয়া মোদী ম্যাজিকে উধাও করে দেওয়া সম্ভব হয়নি। সামনে রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ-সহ পাঁচ রাজ্যের ভোট আসন্ন। নভেম্বরে অনুষ্ঠিত সেই ভোটেও কর্নাটকের পুনরাবৃত্তি অর্থাৎ বিজেপির ভরাডুবি হলে লোকসভা ভোটে তার প্রভাব পড়তে পারে। তাই যত ছোট, ক্ষুদ্র দলই হোক না কেন, বিজেপি এখন শরিক জুটিয়ে জোট রাজনীতিতে বিরোধীদের টক্কর দিতে চাইছে।
সূত্রের খবর, বিজেপির বৈঠকে যোগ দিতে যাওয়া দলগুলির আটটির কোনও এমপি নেই। নয়টি দলের আছে মাত্র একজন করে এমপি। আর তিনটি দলের আছে তিন জন করে সাংসদ। দক্ষিণে বিজেপির হাতে থাকা একমাত্র রাজ্য কর্নাটক হাতছাড়া হয়েছে। মঙ্গলবার দিল্লির বৈঠকে দক্ষিণের বহু ছোট দলকে শামিল করছেন বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডা। এছাড়া, নীতীশ কুমারকে জবাব দিতে বিহার থেকে মঙ্গলবারের বৈঠকে যোগ দেবে নতুন চারটি দল। মঙ্গলবারের বৈঠকেও তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে এনডিএ-র শরিক করা হবে। তাৎপর্যপূর্ণ হল, এই চারদলের তিনটির নেতা ছিলেন নীতীশের অভিন্ন হৃদয় বন্ধু।
কংগ্রেসের ডাকা বেঙ্গালুরুর বৈঠকেও মঙ্গলবার যোগদানকারী দলগুলির মধ্যে অনেকগুলির সংসদে অস্তিত্ব নেই। পাটনার বৈঠকে ডাক পেয়েছিল ১৭টি পার্টি। বেঙ্গালুরুতে কংগ্রেস আমন্ত্রণ জানায় আরও নয়টি পার্টিকে। আরএসপি, ফরওয়ার্ড ব্লকের মতো ছোট দলগুলিকেও এবার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এরপরই ঘা ঝাড়া দিয়ে ওঠেন বিজেপি নেতারা। রাজ্যে রাজ্যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও সাংসদেরা আঞ্চলিক দলগুলির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বিরোধীদের অভিযোগ, কার্যত অস্তিত্বহীন এমন বহু দলের নেতার দিল্লি যাতায়াত, থাকা-খাওয়ার খরচ আসলে বিজেপি বহন করছে।
পঞ্চায়েত হিংসা নিয়ে রাহুল-সীতারামকে খোঁচা মোদীর, ‘কর্মীরা মরছে মরুক, ওঁদের চিন্তা নেই’