
শেষ আপডেট: 22 August 2023 19:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজারবাইজানের বাকুতে বিশ্ব শুটিং চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ পদক জিতে দেশে ফিরলেন মেহুলি ঘোষ (Mehuli Ghosh)। বৈদ্যবাটি কামারপাড়ার এই মেয়েটি ঘরে ফেরেননি। কিন্তু হায়দরাবাদে যেখানে তিনি অনুশীলন করেন, সেখানে সোমবার রাতে ফিরে এসেছেন।
এয়ার রাইফেল ইভেন্টে (Bengal shooter) দেশকে গৌরবান্বিত করে তৃতীয় হয়ে ব্রোঞ্জ পদক লাভ করেছেন। শুধু তাই নয়, মাত্র ২২ বছর বয়সে চমক জাগিয়ে দেখিয়েছেন তিনি। আপাতত মেহুলি এশিয়ান গেমস ও প্যারিস অলিম্পিক্সের (Olympic podium) জন্য তৈরি।
ছোট বেলা থেকে টিভিতে দেখতেন সিআইডি সিরিয়াল। ওটা নেশা ছিল বাংলার নামী শুটারের। মেহুলির মা মিতালি ঘোষ এদিন বলছিলেন, 'ছোটবেলা থেকেই আমার মেয়ে সিআইডি সিরিয়ালের খুব ভক্ত ছিল। সিরিয়াল শুরু হলেই টিভির সামনে বসে পড়ত, কারণ ওই সিরিয়ালে বন্দুক দিয়ে নিশানা করতেন সিআইডি অফিসাররা। তা দেখে ওর মনে খুব আশার সঞ্চার হতো। মেয়ে ভাবত একদিন বড় হয়ে এভাবেই লক্ষ্যভেদ করবে। ঠিক সেই ভাবেই মেলাতে গিয়েও বন্দুক দিয়ে বেলুন ফাটিয়ে আনন্দে লাফিয়ে উঠত।'

প্রায় এক বছর হল বৈদ্যবাটিতে আসেননি মেহুলি। হায়দরাবাদে পড়ে রয়েছেন গগন নারংয়ের শুটিং অ্যাকাডেমিতে, যেখানে তিনি প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন বিবস্বান গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছে। অলিম্পিয়ান গগনের অ্যাকাডেমিতে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই অনেক উন্নতি চোখে পড়েছে।
মেহুলি এই মুহূর্তে নিজেও বাড়ি আসতে চান না। কারণ এরপর একের পর এক টুর্নামেন্ট রয়েছে। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে পদক প্রাপ্তি বাংলার মেয়েকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। সামনে চিনে রয়েছে এশিয়ান গেমস, সেখানে পদক জয় মানে প্যারিস অলিম্পিক্সের পোডিয়ামের আরও কাছে পৌঁছে যাওয়া।
বৈদ্যবাটির মিমি বাস্তবের মাটিতে পা দিয়ে চলতে চান। সেজন্য ওয়ালকে একান্ত সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে মেহুলি বলেছেন, 'আমার লক্ষ্য হল ধীরে ধীরে উপরে ওঠা। সেই জন্য আমি কখনই ভাবিনি যে বাকুতে আমি মেডেল জিততে পারব। আমি নিজেকে পিছিয়ে শুরু করেছিলাম কিন্তু আত্মবিশ্বাস ছিল সেটা মনের ভেতর। প্রত্যেকটা ইভেন্টে নামার আগে মানসিক জোর সব থেকে বেশি দরকার হয়। তাই দিনের দিন আপনি কীরকম থাকছেন, আপনার মেজাজ কেমন রয়েছে, তার ওপর নির্ভর করছে পারফরম্যান্স ভাল অথবা মন্দ হওয়া। আমার ক্ষেত্রে সবটা ঠিকঠাক ঘটেছে সেদিন।'
এখানেই যে থামবেন না বৈদ্যবাটির মিমি (ডাকনাম), তা ওঁর কথাতেই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। তাঁর লক্ষ্য আরও উপরে ওঠা।
মাত্র ১৮-তেই দাবার মহাতারকা প্রজ্ঞানন্দ, জুনিয়রকে কুর্নিশ জানাচ্ছেন সূর্য-দিব্যেন্দুরা