দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ার সুদীর্ঘকালের পুরানো বন্ধুত্বের প্রতীক হিসাবে অযোধ্যায় প্রিন্সেস পার্ক গড়ছে সিওল। উত্তরপ্রদেশ সরকারের সঙ্গে এব্যাপারে হাত মেলাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া সরকার। দেওয়ালির সময় সরকারি ভাবে উত্তরপ্রদেশ সরকার পার্কের উদ্বোধন করবে বলে জানিয়েছেন ভারতে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত শিন বংকিল।
ভারতের সঙ্গে তাঁর দেশের সম্পর্ক ২০০০ বছরের পুরানো বলে জানান বংকিল। তিনি তথ্য দেন, অযোধ্যার যুবরাণি সুরিরত্ন কোরিয়ায় গিয়েছিলেন, কোরিয়ার এক রাজাকে বিয়ে করেছিলেন। সেই থেকে দুদেশের বন্ধুত্বের সূত্রপাত। আজ সেই রাজার বংশধরেরা কোরিয়ার জনগণের প্রায় ১০ শতাংশ, যার মানে কোরিয়দের ১০ শতাংশের ভারতীয় যোগসূত্র আছে।
দুটি দেশের দীর্ঘমেয়াদি বন্ধুত্বের স্মারক হিসাবে ওই বাগান তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, অযোধ্যায় আমার দেশের সরকার ও উত্তরপ্রদেশ সরকার মিলে একটি প্রিন্সেস পার্ক বানাচ্ছে। চলতি বছরের শুরুতে ওখানে কোরিয়া একটি কোরিয়ান প্যাভিলিয়ন বানিয়েছে। সেটির কাজ প্রায় সম্পূর্ণ।
সরযূর ঘাটে, রাম কথা পার্কের কাছে কোরিয়ার রানি হেও হোয়াং-ওকের একটি স্মারক সৌধ আছে। ২০১৫র মে মাসে দক্ষিণ কোরিয়া সফরকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সেই সৌধের সৌন্দর্যায়নের জন্য একটি মউ স্বাক্ষর করেছিলেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জা-ইনের সঙ্গে। ২০১৮র ৪ নভেম্বর দক্ষিণ কোরিয়ার ফার্স্ট লেডি কিম জন-শুক অযোধ্যা সফরে এসে সৌধ দর্শন করেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সঙ্গেও তাঁর সাক্ষাত্ হয়েছিল।
জনশ্রুতি আছে কোনও এক সূদূর অতীতে অযূতা থেকে প্রিন্সেস সুরিরত্ন কোরিয়া গিয়েছিলেন, রাজা কিম সোরােকে বিয়ে করেছিলেন। তাঁরা কারক বংশের সূচনা করেন। ১৫০ বছরের বেশি বেঁচেছিলেন ওই দম্পতি। ১০টি সন্তান ছিল তাঁদের। আজ ৬০ লাখের বেশি লোক, যারা কোরিয়ার মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশ, সেই বংশের উত্তরাধিকারী বলে মনে করা হয়।
সেই অতীতের যোগসূত্রই আবার জীবন্ত হতে চলেছে দুটি দেশের সরকারের সৌজন্যে।