দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশে করোনাভাইরাস (coronavirus) সংক্রমণ পরিস্থিতি যাও বা একটু নিয়ন্ত্রণে এসেছিল, সেই নিশ্চিন্তে থাকার অবকাশ বোধহয় আর রইল না। কারণ দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ধান মিলেছে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনের (omicron), যা নাকি দ্রুত চেহারা, চরিত্র (mutations)বদলে ফেলছে। ঘন ঘন মিউটেশন হচ্ছে তার এবং তা দ্রুত সংক্রামিত হয় বলে জানা গিয়েছে। ডেল্টার থেকেও তা মারাত্মক হতে পারে। এখনও পর্যন্ত এর হদিশ মিলেছে দক্ষিণ আফিকা, হংকং, বটসোয়ানা, ইজরায়েল, বেলজিয়ামে। ভারত সহ একাধিক দেশ এইসব দেশ থেকে লোকজন আসায় বিধিনিষেধ (curbs)জারি করেছে।
উদ্বেগ, উত্কন্ঠার মধ্যেই শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে (narendra modi) ওমিক্রন ও তার বৈশিষ্ট্য, বিভিন্ন দেশে তার প্রভাব, প্রতিক্রিয়া ও ভারতের ওপর তার কী ফল হতে পারে, সে ব্যাপারে অবহিত করেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের শীর্ষ কর্তারা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেসব ক্লাস্টার থেকে বেশি সংক্রমণের খবর আসছে, সেখানে নতুন কোভিড ১৯ কেসের ওপর সক্রিয় নজরদারি ও জোরদার নিয়ন্ত্রণ বহাল রাখতে হবে। দেশমুখী সব আন্তর্জাতিক উড়ানের (travels) ওপর নজরদারি, বিদেশ, বিশেষতঃ বিপদে পড়া দেশগুলি থেকে আসা যাত্রীদের গাইডলাইন মেনে টেস্টিংয়ের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। মন্ত্রকের কর্তাদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণ সংক্রান্ত বিধিনিষেধ শিথিল করার প্ল্যান রিভিউ (review) করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।
ভারতের জেনোম সিকোয়েন্সিংয়ের প্রয়াস ও দেশে ছড়িয়ে পড়া ভ্যারিয়েন্টের ব্যাপারে বৈঠকে মোদীকে অবহিত করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ, প্রচলিত বিধি অনুসারে আন্তর্জাতিক পর্যটক ও সম্প্রদায়ের জেনোম সিকোয়েন্সিংয়ের নমুনা সংগ্রহ করে ইনসাকগের আওতায় গঠিত ল্যাব নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরীক্ষা করতে হবে। কোভিড ১৯ ম্যানেজমেন্টের জন্য চিহ্নিত আগাম সাবধানমূলক সিগন্যালও খতিয়ে দেখতে হবে। সিকোয়েন্সিংয়ের চেষ্টা বাড়ানো ও তাকে আরও প্রসারিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।
এব্যাপারে রাজ্য ও জেলাস্তরে যাতে যথাযথ সচেতনতা তৈরি হয়, তা সুনিশ্চিত করতে রাজ্য সরকারগুলির সঙ্গে হাত মিলিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রককে কাজ করতে বলেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, যে রাজ্যগুলি থেকে বর্তমানে বেশি কেসের খবর আসছে, তাদের প্রয়োজনীয় টেকনিকাল মদত দিতে হবে।