নিরামিষ ভাতেও হইহই করে দৌড়বে জামাইষষ্ঠী। পুঁটি মাছের ঝালও খাওয়াতে পারেন। তবে, ডিম-ভাত হলে তো কথাই নেই!

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 1 June 2025 20:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শ্বশুরবাড়িতে বরাবরই জামাইদের বিশেষ কদর রয়েছে। সে জামাই যেমনই হোক, সোনার আংটি আবার বাঁকা কীসের! আর জামাইষষ্ঠীতে বাঙালি বাড়িতে জামাইদের আপ্যায়ন দেখলে মাথা ঘুরে যাওয়ার জোগাড় হয়। আর সেটা যদি হয় বাড়ির এক জামাই আর প্রথম জামাইষষ্ঠী, তাহলে তো আদর-ভূরিভোজের ঠেলায় অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে জামাইয়ের প্রাণ।
কিন্তু জামাইষষ্ঠীতে আপনার কেমন জামাই চাই ভেবে দেখেছেন কি? ফর্সা জামাই, কালো জামাই, মোটাসোটা জামাই? যেমনটি আপনার চাই। সেইরকম জামাই একেবারে হেঁটে এসে পৌঁছে যাবে আপনার বাড়ির দরজায়। তার খুব বেশি বায়নাক্কাও নেই।
#
রবিবার জামাইষষ্ঠীর দিন এমনই মজার কাণ্ডকারখানার সাক্ষী রইলেন পূর্ব বর্ধমানের গুসকরাবাসী। হাঁক দিতে দিতে টহল দিচ্ছেন তিন যুবক। শহরের হাটতলা, বাসস্ট্যান্ডের পর নানা এলাকায় দিনভর ঘুরে বেড়ালেন তাঁরা। দেখে তো চোখের পাতা পড়ছে না কারও। এ কী কাণ্ড!
এই তিন যুবকের কান্ডকারখানা দেখে হাসিতে গড়িয়ে পড়েছেন গুসকরা শহরের মানুষজন। সাতসকালে ধোপদুরস্ত পাঞ্জাবি পাজামা পড়ে, হাতে ছোট মাছ আর ছোট্ট দইয়ের ভাঁড় নিয়ে রাস্তায় বেরিয়েছেন তাঁরা। মাথায় আবার শোলার টোপর। হাঁক আসছে মাঝে মাঝে, ‘জামাই নেবেন, জামাই?’ হবু শ্বাশুড়ি থেকে তরুণী সবার কাছে জামাই হিসেবে ভাড়া যাবার নিবেদন।
কিন্তু ঘটনাটা ঠিক কী? হঠাৎ কী হল তাঁদের?
জানা গেল, ভাড়াটে ওই জামাইরা দশ বছর ধরে চেষ্টা করেছেন কিন্তু বিয়ের ফুল ফোটেনি বলেই হয়তো সেই সুখ থেকে বঞ্চিতই রয়ে গেছেন। তাই ছোট এই কাণ্ডে লোকের মুখে হাসি ফোটাতেই এই ভাবনা আসে তাঁদের মাথায়।
তবে কারও বাড়ির জামাই হতে পারাও তো ভাগ্যের ব্যাপার! একজন যেমন পছন্দ করেও ফেলেছিলেন জামাই কিন্তু জামাইয়ের হাতের মাছের সাইজ পছন্দ না হওয়ায় রিজেক্ট করে দিয়েছেন। তবে হাল ছাড়েননি তাঁরা।
তাঁদের বিশেষ কোনও দাবিদাওয়া নেই। শুধু পেটভরে খেতে দিলেই তাঁরা ভাড়া যাবেন। শুধু তাই না, সঙ্গে আবার শ্বশুরবাড়িকে ভারী ‘ডিসকাউন্ট’ দেবার আশ্বাসও রয়েছে। কী সেটা? ইচ্ছুক শ্বাশুড়িদের আশ্বস্ত করে তাঁরা জানাচ্ছেন, আটশো টাকা কেজি খাসির মাংস লাগবে না। নিরামিষ ভাতেও হইহই করে দৌড়বে জামাইষষ্ঠী। পুঁটি মাছের ঝালও খাওয়াতে পারেন। তবে, ডিম-ভাত হলে তো কথাই নেই!