তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদ (Kirti Azad) জানান, রক্তের সংকট কাটাতে এটি একটি মানবিক উদ্যোগ। মানুষের সেবার জন্য এই রক্তদান শিবির। যখন কারও রক্ত মিলবে, তখন সেই রক্তে কোনও হিন্দু-মুসলমান লেখা থাকবে না।

বাংলার সবচেয়ে বড় রক্তদান শিবির বর্ধমানে
শেষ আপডেট: 15 June 2025 21:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রতি বারই গ্রীষ্মকালে এবং উৎসবের সময় ব্লাড ব্যাঙ্কগুলিতে (Blood Bank) রক্তের সঙ্কট দেখা দেয়। গরমের মরসুমে রক্তদান শিবিরের আয়োজন কমেছে। রক্তদাতার সংখ্যাও কম। এই অবস্থায় রক্তের চাহিদা মেটাতে রাজ্যের সবচেয়ে বড় রক্তদান শিবিরের (Blood Donation Camp) আয়োজন করা হয় বর্ধমানের (Bardhaman) টাউন হলে।
বর্ধমান ওয়েলফেয়ার সোসাইটির উদ্যোগে গত কয়েকবছর ধরেই এক হাজারের বেশি রক্তদান হয়ে আসছে এই শিবিরে। বর্ধমান মেডিকেল কলেজ, রশ্মি ব্লাড ব্যাংক, ক্যামরি ও টেরেজা এই চারটি ব্লাড ব্যাঙ্ক রক্ত সংগ্রহ করে।
রোববার আয়োজিত এই শিবিরে উপস্থিত ছিলেন বর্ধমান-দুর্গাপুরের সাংসদ কীর্তি আজাদ, কাটোয়ার তৃণমূল বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান দক্ষিণের তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক খোকন দাস, পুরপ্রধান পরেশ সরকার-সহ অন্যান্য বিশিষ্টজনেরা।
তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদ (Kirti Azad) জানান, রক্তের সংকট কাটাতে এটি একটি মানবিক উদ্যোগ। মানুষের সেবার জন্য এই রক্তদান শিবির। যখন কারও রক্ত মিলবে, তখন সেই রক্তে কোনও হিন্দু-মুসলমান লেখা থাকবে না। যেটা লেখা থাকবে তা হল মানবতা। এই বিশাল আয়োজন একটা বড় কাজ। সমাজের জন্য কাজ। হাজারের উপর মানুষ রক্তদান করেন এই শিবিরে। আল্লা-ভগবান সবার আশীর্বাদ এই মানুষগুলোর উপর থাকুক।
এদিনের রক্তদান শিবিরের আয়োজক আসরাফুদ্দিন খান বাবু জানান, "এই শিবির একটা টিমওয়ার্ক। এখনও অবধি আটশো জন রক্ত দিয়েছেন। সংখ্যাটা আরও বাড়বে। সারা বছর জুড়ে আরও এমন অনেক ছোট ছোট শিবির করা হবে।"
কাটোয়ার তৃণমূল বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, "জেলায় রক্তের যে ঘাটতি তা পূরণ করে দিতে পারে এই রক্তদান শিবির। স্বাভাবিকভাবেই আমি ধন্যবাদ জানাই উদ্যোক্তাদের। আমি সবসময় এর সাফল্য কামনা করি।"
বর্ধমান দক্ষিণের তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক খোকন দাসের কথায়, "বছরে দু'বার করে এই রক্তদান শিবির হয়। এবারও অন্যথা হয়নি। সমাজের বিশিষ্ট মানুষ থেকে শুরু করে সাংসদ, কাউন্সিলররা এসেছেন। গ্রীষ্মকালীন যে রক্তসংকট, যখন রক্তের আকাল, তখন এমন বড় রক্তদান শিবির করে মানুষের কাছে রক্ত পৌঁছে দেওয়া একটা মহৎ উদ্যোগ। টাকার বিনিময়ে রক্ত হয় না, কাজেই এরকম বড় শিবির খুব দরকার।"