
শোকার্ত সন্তান, নিজস্ব চিত্র।
শেষ আপডেট: 6 July 2024 12:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বোলপুরের বাড়িতে অগ্নিদগ্ধ শেখ তুতারও মৃত্য়ু হল। বৃহস্পতিবার রাতেই মারা যান তাঁর স্ত্রী রূপা বিবি (৩০) ও ছোট ছেলে আয়ান শেখ (৪)। অন্য ঘরে থাকায় বেঁচে যায় বড় ছেলে।
শুক্রবারই সন্দেহ করা হয়েছিল কেউ কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে তাঁদের ঘরে। শনিবার সামনে এল পারিবারিক দ্বন্দ্ব। মৃত দম্পতির বড় ছেলে ওয়াসিম আখতার তাঁর কাকিমা স্মৃতি বিবি ওরফে নাজরিন নিহারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করলেন। ওয়াসিম আখতার জানান, তাঁর কাকিমার সঙ্গে গ্রামের বাসিন্দা এক হাতুড়ে ডাক্তারের বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। আখতার বলেন, "আমার বাবা, মা বিষয়টি জানতে পেরে প্রতিবাদ করেছিলেন। তাই চক্রান্ত করে বাবা, মা ও ভাইকে মেরে ফেলা হয়েছে।" সেখ তুতার ভাগ্নে শেখ মুস্তাফা ও রূপা বিবির ভাই শেখ আবদুল্লাও একই দাবি করেছেন। দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান তাঁরা।
বর্ধমানের ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে বামচাঁদাইপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি ছিলেন সেখ তুতো। শনিবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।
বোলপুর থানার রায়পুর সুপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের নতুন গীত গ্রামের বাসিন্দা সেখ তুতো বৃহস্পতিবার রাতে খাওয়াদাওয়া করে ছোটো ছেলে আয়ান শেখ ও স্ত্রী রূপা বিবিকে নিয়ে ঘুমাচ্ছিলেন। এই অবস্থায় কেউ জানলা দিয়ে কেরোসিন তেল ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে পালায়। তাঁদের চিৎকার শুনে উঠে আসে পাশের ঘরে শুয়ে থাকা তাঁদের বড় ছেলে। তার চেঁচামেচিতে গ্রামের লোকজন ছুটে আসেন। ততক্ষণে তিনজনেই আগুনে ঝলসে যান। তিনজনকে প্রথমে বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁদের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটায় বর্ধমান হাসপাতালে রেফার করা হয়। বর্ধমান আনার পথে প্রথমে আয়ানের মৃত্যু হয়। ঠিক তার পড়েই মারা যায় তার মা।