দ্য ওয়াল ব্যুরো: কর ফাঁকি, বেআইনি তহবিলের (tax evasion) (illegal fund) অভিযোগ ওড়ালেন সোনু সুদ (sonu sood)। টানা চারদিন আয়কর দপ্তর (income tax raid) বলিউড অভিনেতার মুম্বইয়ের বাসভবন, তাঁর সঙ্গে যোগ থাকা দেশের ৬টি শহরের নানা জায়গায় তল্লাসি চালিয়েছে। ২০ কোটি টাকার বেশি কর ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সোনুর বিরুদ্ধে, যিনি লকডাউনের সময় ঘরমুখী পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়ি ফেরানো সহ বিপন্ন মানুষকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে প্রায় ভগবানের আসন পেয়েছেন তাদের মনে। গত জুলাইয়ে গঠিত তাঁর সেবামূলক সংস্থা ১৮ কোটি টাকার বেশি ডোনেশন পেলেও মাত্র ১.৯ কোটি টাকা ত্রাণে খরচ করেছে বলেও অভিযোগ আয়কর দপ্তরের।
সোনু অবশ্য নিজেকে আইন মেনে চলা নাগরিক (law abiding citizen) বলে দাবি করে বলেন, ওরা যা যা নথি, বিস্তারিত তথ্য চেয়েছিল, সব দিয়েছি। যে প্রশ্নই করেছে, উত্তর দিয়েছি। আমি আমার কাজ করেছি। ওরা ওদের কাজ করেছে। যা যা জানতে চেয়েছে, নথি ধরে ধরে প্রতিটি জবাব দিয়েছি। আমার কর্তব্য এটা। এখনও তথ্য দিচ্ছি। প্রক্রিয়ারই অঙ্গ এটা। বিশ্বের যিনিই একটা পয়সা হলেও দিয়েছেন, আমি চাই, তার হিসাব থাকুক।
আয়কর দপ্তরের তাঁর বিরুদ্ধে আইন ভাঙার অভিযোগও উড়িয়ে দিয়ে সোনুর জবাব, অবশ্যই ভাঙিনি। এটা খুবই বিস্ময়কর। আমরা শুধু নাগরিকদের ডোনেশনের অর্থই নিই না। একটা অংশ আমাদের ব্র্যান্ড এনডোর্সমেন্ট বাবদ আয়ও হয়। আমি ওদের দানধ্যান তহবিলে ডোনেট করতে বলি যাতে অনেক জীবন বেঁচে যায়।
ডোনেশনের অর্থ বছরের পর বছর পড়ে থাকার অভিযোগ উড়িয়ে সোনুর দাবি, মাত্র তিন-চার মাস টাকাগুলো পড়েছিল, তাছাড়া কোনও উদ্দেশ্যে তা খরচ করার আগে ভাল করে সব দিক খতিয়ে বিচার করে দেখতে হয়।
বেআইনি ভাবে বিদেশি অর্থ পাওয়ার অভিযোগও খন্ডন করে তিনি জানান, একটাও ডলার আমার অ্যাকাউন্টে ফেলতে পারি না। সরাসরি তা উপভোক্তাদের কাছে যাচ্ছে।
আয়করের লোকজনও বলেছেন, তিনি ভাল কাজ করেছেন, জানান সোনু। বলেন, আমি ওদের জিজ্ঞাসা করি, এই ধরনের স্বচ্ছ, বিস্তারিত ডকুমেন্টেটেশন, পেপারওয়ার্ক দেখেছেন? ওরা বলেছেন, না। সব দেখে ওরা সন্তুষ্ট হন, বলেন, চারটে দিন তল্লাসি একেবারে মসৃণ ভাবে হয়েছে।
সোনুর দাবি, তিনি এখন রাজনীতিতে নামতে তৈরি নন বলে মনে করেন। তাই দুটি দল থেকে রাজ্যসভার সাংসদ হওয়ার অফার পেয়েও নেননি। বলেন, মানসিক ভাবে প্রস্তুত নই। এখন যে অবস্থায় আছি, তাতেই খুশি। যখন তৈরি হব, তখন নিজেই ছাদের মাথায় উঠে চিত্কার করে বলব।