অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারদের দিয়ে হাতে-কলমে শেখানো হয় বিলাসবহুল গাড়ির নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন, আর তা কীভাবে ভাঙতে হবে। এক সপ্তাহ থেকে মাসখানেকের ক্র্যাশ কোর্স পেরিয়েই ‘মাঠে নামে’ দুষ্কৃতীরা।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 11 August 2025 17:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গাড়ি যত উন্নত হচ্ছে, চুরিও ততই স্মার্ট হচ্ছে। নতুন নতুন প্রযুক্তি লাগানো গাড়ি এখন চোরদের কাছেও খেলনা। রাজ্যের একাধিক জেলা থেকে শুরু করে বিহার-ঝাড়খণ্ড হয়ে দেশের নানা প্রান্তে এক হাইটেক গাড়ি চুরির গ্যাং দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ-সহ অন্তত ৫০টি দামি গাড়ি হাতিয়ে ফেলেছে এই চক্র। পুলিশেরও ঘুম উড়ে গিয়েছে তাদের প্রযুক্তি দেখে।
তদন্তকারীদের হাতে আসা তথ্য বলছে, গিরিডি, দেওঘর, গয়া, ছাপরা, ফুলওয়ারিশরিফ— এমন একাধিক জায়গায় গোপন ‘ট্রেনিং সেন্টার’ চালায় গ্যাংয়ের পান্ডারা। সেখানে অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারদের দিয়ে হাতে-কলমে শেখানো হয় বিলাসবহুল গাড়ির নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন, আর তা কীভাবে ভাঙতে হবে। এক সপ্তাহ থেকে মাসখানেকের ক্র্যাশ কোর্স পেরিয়েই ‘মাঠে নামে’ দুষ্কৃতীরা।
চুরির কায়দা শুনে চমকে উঠছেন অভিজ্ঞ অফিসাররাও। প্রতিটি গাড়ির উইন্ডশিল্ডে থাকা বারকোড স্ক্যান করে তা পাঠানো হচ্ছে দুবাইয়ে। সেখানে বসে থাকা সফটওয়্যার বিশেষজ্ঞরা কয়েক মিনিটে পুরনো কোড ডিঅ্যাক্টিভেট করে নতুন কোড বানিয়ে পাঠিয়ে দিচ্ছেন।
জেরায় ধৃতদের জেরা করে পুলিশ জানতে পেরেছে, সেই কোড দিয়েই গাড়ি আনলক। তারপর অনবোর্ড ডায়াগনস্টিক পোর্ট (ওবিডি) ক্লোন করে তাতে নিজস্ব সফটওয়্যার ঢুকিয়ে গাড়ি স্টার্ট! পালানোর আগে সিগন্যাল জ্যামার দিয়ে অকেজো করে দেওয়া হচ্ছে ইনবিল্ট জিপিএস। ফলে মালিকের মোবাইলেও ধরা পড়ছে না গাড়ির গতিবিধি।
রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে গত কয়েক মাসে ডজনখানেক চোর ধরা পড়েছে। বেশিরভাগই বিহার-ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা। কিন্তু ধৃতদের জেরা করেও এখনও অনেক চক্র ধরাছোঁয়ার বাইরে। পুলিশের দাবি, এই হাইটেক চুরি ঠেকাতে তাঁদেরও প্রযুক্তি পাল্টাতে হচ্ছে বারবার।